Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

GOLD: কীভাবে মাটির নিচে সোনা পাওয়া যায়? শ্রমিকদের কষ্টে চোখে জল আসবে

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

সোনা একটি অত্যন্ত দুর্লভ ধাতু বলে পরিচিত। মূলত সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা এবং নমনীয়তা অন্যান্য ধাতুর থেকে অনেক বেশি। পাশাপশি সব কিছুকে হার মানিয়ে দেয় সোনার উজ্জ্বলতা। এই ধাতুর সৌন্দর্য, চাকচিক্য, ক্ষয়হীন বৈশিষ্ট্য একে মূল্যবান বানিয়েছে। যদি প্রশ্ন করা হয়, সোনা কীভাবে পাওয়া যায়, অনেকেই খুব সহজে বলে ফেলবে খনি থেকে। আবার অনেকে বলবেন নদীর জল বা কাদামাটির স্রোত থেকে। কিন্তু এত মূল্যবান ধাতু তোলা কি এতটাই সোজা? কেমন হয় শ্রমিকদের জীবন? বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।

সোনার খনির শ্রমিকদের জীবন

সোনার খনির নাম শুনলেই অনেকের চোখ চকচক করে। অনেকে আবার স্বপ্ন দেখেন, তার যদি নিজের একটা সোনার খনি থাকত! তবে জানেন কি এই সোনার খনি থেকে যারা সোনা তুলে আনেন তাদের অনেকেরই হয়ত দুবেলা পেট ভরা খাবার জোটে না। সবথেকে ভয়ঙ্কর অবস্থা হল কঙ্গোর। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর অনেক গভীর থেকে তুলে আনা হয় মাটি কিংবা নুড়ি পাথর মিশ্রিত সোনা। মাটি থেকে সোনা আলাদা করে শ্রমিকরা। একদল খনন করে আর এক দল সোনার আকরিক মাটির উপরে নিয়ে আসেন। এক একজন শ্রমিক প্রায় আট ঘন্টা খনিতে কাজ করেও মাত্র এক গ্রাম সোনার জন্য উদ্দেশ্য ২০০ কেজি আকরিক সংগ্রহ করতে হয়।

খুব ছোট ছোট সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। মাটি ভর্তি বস্তা থাকে পিঠে। কঙ্গোর শ্রমিকদের কৃষিকাজ আর সোনার খনি হল আয়ের বড় উৎস। হয়ত সারাদিন পরিশ্রম করে কঙ্গোর এক একজন শ্রমিক মজুরি পান মাত্র কয়েকশো টাকা। আর সব থেকে কম বেতন পান বহনকারীরা। কঙ্গোর মানুষরা অনেকটা বনের পশুর মতো হামাগুড়ি দিয়ে গুহায় প্রবেশ করেন। ক্লান্ত হয়ে গেলে একটু বিশ্রাম নেন। মাথায় থাকে একটা টর্চ লাইট, সেই আলোয় চলে খনন কাজ। কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। প্রতি মুহূর্তে থাকে জীবন হারানোর মারাত্মক ঝুঁকি। নিজেদের মধ্যে মারামারিতে অনেকে মারা যান, আবার কেউ বা শ্বাসকষ্টে মারা যান।

যদি চীনের দিকে তাকান, সেখান থেকে বারংবার খনি দুর্ঘটনার খবর আসে। অনেক শ্রমিক মাটির নিচেই চাপা পড়ে থাকেন। আবার অনেকের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। চীনে প্রায়ই সময় সরকারি বিধি-নিষেধ অগ্রাহ্য করে খনির কাজকর্ম করা হয়। তাই প্রতি বছরই বহু শ্রমিক বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন। গত বছরই চীনের শানডং প্রদেশে সোনার খনি ধসে পড়ে, যার কারণে ১৩ দিন পর ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও ৯ জনকে বাঁচানো যায়নি। একইভাবে ঠিক তার আগের বছর চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে চোংকিং শহরে খনিতে আটকা পড়ে মৃত্যু হয়েছিল ১৮ জনের। একবার যদি খনিতে শ্রমিকরা আটকে পড়েন, তাহলে সেখান থেকে উদ্ধার করা বেশ কঠিন।

সোনার উৎপত্তি

বিজ্ঞানীমহল মনে করে, সুপারনোভা আর নিউট্রন স্টারের সংঘর্ষের ফলে পৃথিবীর সোনা উদ্ভব হয়েছিল। সোনা উৎপত্তির এই মহাজাগতিক প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছে আর-প্রোসেস। পৃথিবীর কেন্দ্র, যাকে আমরা যাকে কোর বলি, সেটির অন্যতম গঠন উপাদান হল সোনা। পৃথিবীর কেন্দ্রে যে পরিমাণ সোনা আছে, তার যৎসামান্য উত্তোলন করা সম্ভব হয়েছে। কারণ সেখানে বেশিরভাগ মূল্যবান ধাতু গলিত অবস্থায় রয়েছে। ২০১৬ সালে ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, সভ্যতার সেই সূচনা লগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩২০ টা টন সোনা উত্তোলন করা সম্ভব হয়েছে। যার মধ্যে ৮৫ শতাংশ প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পুনর্ব্যবহার হয়ে আসছে । সোনা ভরের খুব একটা বেশি জায়গা নেয় না। ১ ঘনসেন্টিমিটার সোনার ওজন হয় মাত্র ১৯.৩২ গ্রাম। ভূতাত্ত্বিকরা মনে করেন, পৃথিবীর ভূ-অভ্যন্তরে এক কিলোমিটার এর মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ মেট্রিক টন সোনা রয়েছে।

খনি থেকে সোনা তোলার পদ্ধতি

মূল্যবান সোনা গহনা তৈরিতে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, ওষুধ তৈরিতে এবং শিল্পের নানান প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে সোনা তোলা খুব একটা সহজ নয়। খনি থেকে মূলত চারটি উপায়ে কাঁচা সোনা পাওয়া যায়।

•প্লাসার মাইনিং

এই পদ্ধতি মূলত ব্যবহার করেন অপেশাদার সোনা অনুসন্ধানকারীরা। এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় মাধ্যাকর্ষণ আর জল। নুড়ি বালি পাথরের সঙ্গে মিশে থাকা সোনা আলাদা করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হল গোল্ড প্ল্যানিং নামক পদ্ধতি। আপনি ডিসকভারি চ্যানেলে এই ধরনের পদ্ধতি দেখে থাকবেন।

•উপজাত দ্রব্য খনন

অনেক সময় তামা বালি চুনাপাথর প্রভৃতি দ্রব্য গুলি উদ্ধার করার সময় সোনাও উদ্ধার হতে পারে। পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম সুপরিচিত সোনার খনি হল গ্রাসবার্গ খনি। অথচ এই খনন কার্য শুরু হয়েছিল তামার জন্য। এই খনিটি এত পুরনো এবং এতটাই বৃহৎ যে এখানে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার লোক নিযুক্ত থাকে।

•সোনার আকরিক প্রক্রিয়াকরণ

সূক্ষ্মভাবে ভাঙা পাথরের মধ্যে অতি অল্প পরিমাণে সোনা থাকে। সেক্ষেত্রে সায়নাইড ব্যবহার করে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সোনা আলাদা করা হয়। যদিও এক্ষেত্রে খুব একটা লাভ থাকে না।

•হার্ড রক মাইনিং

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সোনা তোলা হয়। মূলত যন্ত্রের সাহায্যে প্রথমে গর্ত করা হয়, তারপর মাটির নিচ থেকে সহজেই তুলে আনা হয় সোনা। এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি ধাপ রয়েছে।

প্রথমে প্রায় ৪০ ফুট গভীর এবং ১৬ থেকে ২২ ফুট চওড়া গর্ত করা হয়। এইভাবে দেখা হয় ওই স্থানে সোনা আছে কিনা। যদি আশেপাশের পরিবেশে বিস্ফোরণের কোনো প্রভাব না পড়ে তাহলে ওই গর্তগুলিতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের পর ভেঙে যাওয়া পাথরের টুকরো গুলি জরিপ করা হয় এবং সোনার আকরিক আছে কিনা তা চিহ্নিত করা হয়। সোনা যুক্ত আকরিক গুলি ট্রাকে করে চলে যায় শিল্পক্ষেত্রে। সেখানেই প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি চূর্ণকারকের কাছে পাঠানো হয়।

এখানে আকরিক গুলি ছোট ছোট খণ্ডে ভাঙা হয়। তারপর শক্ত পাথর থেকে সোনা আলাদা করতে ব্যবহার করা হয় সোডিয়াম সায়নাইড। এই পদ্ধতিকে বলা হয় লিচিং। এর মাধ্যমেই থকথকে সোনা সমৃদ্ধ কাদার মতো পদার্থ বার করা হয়। সেই কাদা পাঠানো হয় পরিশোধন চুল্লিতে। সেখানে অধাতব উপাদান থেকে সোনা কিংবা রুপো আলাদা করতে ভালোভাবে গরম করা হয়। ৯৮ শতাংশ সোনা রুপোর মিশ্রণকে বলা হয় ডোর। মূলত ৯৯.৯৯% খাঁটি কিংবা ২৪ ক্যারেট সোনা পেতে এই আকরিকটিকে আবার বিশেষভাবে শোধনাগারে পাঠানো হয়।

মদিনায় পাওয়া গেল সোনার খনি

মধ্যপ্রাচ্যের তেল আর খনিজ সম্পদের সমৃদ্ধ দেশ হল সৌদি আরব। এই দেশের মদিনায় পাওয়া গেল সোনার খনি। শুধু সোনা নয়, এখানে রয়েছে তাল তাল তামাও। দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা এই খনির সন্ধান পেতে এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। এই সোনার আকরিকটি রয়েছে মদিনার উম্ম আল-বারাক হেজাজের ঢাল আবা আল-রাহার সীমানার মধ্যে। পাশাপাশি এই ওয়াদি আল-ফারার আল-মাদিক এলাকার ৪ জায়গায় তামার আকরিক পাওয়া গিয়েছে।

মনে করা হচ্ছে, এই খনি প্রায় ৪০ বর্গ কিলোমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে রয়েছে. যার মধ্যে মজুদ রয়েছে বিপুল পরিমাণে সোনা, তামা আর দস্তা। হয়ত চলতি বছরেই এই সোনা আর তামার খনি গুলিতে কাজ শুরু হয়ে যাবে। এই অঞ্চলে থাকা চ্যালকোসাইট বিশেষ তামা উৎপাদনে সহায়ক। বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ৫৩০০টিরও বেশি খনি রয়েছে। যার মধ্যে বেশিরভাগই বিভিন্ন ধাতু, অধাতু শিলা এবং রত্ন পাথরের। সম্প্রতি সোনার খনি আবিষ্কার হওয়ায় হৈচৈ পড়ে গিয়েছে দেশটিতে। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে সৌদি আরবের বিনিয়োগের গতি আরো ত্বরান্বিত হবে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories