Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

Heart Attack: রাত জেগে অফিসের কাজ কিংবা ওজন ঝরাতে জিমে দৌড়! হৃদরোগের ঝুঁকি কতটা?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলি দেখলে বোঝা যায়, হৃদরোগ আর কোন বয়স মানে না। সিদ্ধার্থ শুক্লা কিংবা সম্প্রতি চলে যাওয়া ৫৮ বছর বয়সী কৌতুক শিল্পী রাজু শ্রীবাস্তবের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না ভক্তরা। স্বাভাবিক নিয়মেই ঘুমিয়ে ছিলেন সিদ্ধার্থ শুক্লা। কিন্তু তারপরের দিন আর ঘুম থেকে ওঠেননি। রাজু শ্রীবাস্তব আর পাঁচটা স্বাভাবিক দিনের মতোই জিমে গিয়েছিলেন, তারপর আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা হল না। প্রায় ১৫ দিন অচেতন থাকার পর চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

মানুষ সুস্থ থাকতে জিমে যান কিংবা ট্রেড মিলে দৌড়ান, অথচ সেই সুস্থ থাকার উপায় গুলি এখন হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সব ক্ষেত্রেই ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটু এদিক-ওদিক হলেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অতিরিক্ত জিম করলে কিংবা ট্রেড মিলে দৌড়ালে হার্টের মারাত্মক ক্ষতি আপনার পিছু ছাড়বে না। আবার অনেকে আছেন যারা রাতের পর রাত জেগে অফিসের কাজ করেন। আবার কেউ বা প্রতিদিন অফিস থেকে বাড়ি ফিরে আবার ল্যাপটপে মুখ গুঁজে বসেন। তাদের ক্ষেত্রেও হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত হতে পারেন ডায়াবেটিসে। এমনই এক চাঞ্চল্যকর দাবি গবেষকদের।

হার্টের জন্য ঘুম কেন জরুরি?

আমেরিকার একদল গবেষকদের মতে যারা রাতে বেশিক্ষণ জেগে থাকেন তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে বেশি। আসলে রাতে দেরিতে ঘুমোতে গেলে শরীরের শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা অনেকাংশে কমে যায়। আর যারা খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠেন তাদের মেদ দ্রুত ঝরে এবং সারাদিন কাজের এনার্জি পান। শরীরে অধিকাংশ শক্তির যোগান দেয় কার্বোহাইড্রেট। কিন্তু রাতে দেরি করে ঘুমালে শারীরবৃত্তীয় স্বাভাবিক চক্রে বাধা পড়ে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ঘুমিয়ে পরিমাণ হল ৮ থেকে ৯ ঘন্টা। প্রত্যেক মানুষের শরীরেই রয়েছে একটি নির্দিষ্ট ঘুমের ঘড়ি। তাতে ব্যাঘাত ঘটলেই ডায়াবেটিস, ওবিসিটি কিংবা হার্ট রোগের ঝুঁকি বাড়বে। ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে হৃদরোগের একটি সংযোগ রয়েছে। যখনই ঘুম কম হবে তখনই শরীর থেকে নিঃসৃত স্ট্রেস হরমোন ওজন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

হার্ট ভালো রাখার সহজ অভ্যাস

(১)ঘন্টার পর ঘন্টা জিম করছেন কিন্তু আদৌ তা কাজে লাগছে তো? এক্ষেত্রে সর্বদা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সবার হার্টের পরিস্থিতি সমান হয় না। এর উপর নির্ভর করবে আপনি কতক্ষণ কিংবা কীভাবে জিম করতে পারেন।

(২)ঘুমের সঙ্গে কোন আপোষ নয়। আপনি রাত জেগে অফিসের কাজ করতেই পারেন কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যেন সারাদিনে অন্তত সাত থেকে আট ঘন্টা আপনি ঘুমাতে পারেন। ঘুম প্রত্যেক মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

(৩)অনেকে ব্যস্ততার মাঝে খিদে পেলে স্ন্যাকস খেয়ে নেন। হার্ট ভালো রাখতে যত সম্ভব এড়িয়ে চলুন ফাস্টফুড। দরকার পড়লে অফিসের টিফিন বক্সে রাখুন একটু ফল কিংবা স্যালাড জাতীয় খাবার। সারাদিন শরীর চনমনে রাখতে বাদাম খেতে পারেন।

(৪)মানসিক চাপ কমাতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে যোগ ব্যয়াম বেশ কার্যকরী। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সারা দিনে অন্তত একবার যোগ ব্যায়াম করতে পারেন। এর ফলে মানসিক প্রশান্তি পাবেন এবং মন তরতাজা থাকবে।

(৫)সারাদিনে ঘন ঘন চা,কফি খাওয়ার অভ্যাস একেবারে ঝেড়ে ফেলতে হবে. তার পরিবর্তে ঘনঘন জল খাওয়ার চেষ্টা করুন। এর ফলে মনসংযোগ বাড়বে, ক্লান্তি দূর হবে এবং হৃদরোগের আশঙ্কা কমবে।

(৬)চেষ্টা করবেন রাত আটটার আগেই ভারী খাবার খেতে। কারণ এই সময়ের পর ভারী খাবার খেলে বিপাক ক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। যদি রাতের দিকে খুব খিদে পায় তাহলে হালকা কিছু খেতে পারেন।

(৭)রোগা হওয়ার জন্য কোন ওষুধ খাওয়ার দরকার নেই। নজর রাখুন আপনার প্রাত্যহিক খাবারের তালিকায়। ট্রেড মিলে দৌড়ানোর থেকে প্রতিদিন নিয়ম মেনে হাঁটতে পারেন।

(৮)যদি বয়স ৪০ পেরিয়ে যায়, তাহলে মাঝে মাঝে লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করান। এছাড়াও ডায়াবেটিস, সুগার, প্রেসার এগুলি পরীক্ষা করাতে ভুলবেন না।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories