Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

Bangladesh: যুদ্ধের উস্কানি দিচ্ছে মায়ানমার! বাংলাদেশকে যুদ্ধাস্ত্র দেবে এই দেশগুলি

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বারবার যুদ্ধের উস্কানি আর কতদিন মুখ বুজে সহ্য করবে বাংলাদেশ? মায়ানমার বাংলাদেশের সীমান্তে বারংবার হামলা চালাচ্ছে। তাছাড়া বাংলাদেশকে দুর্বল দেশ ভাবা একেবারেই ভুল। কারণ দিনের পর দিন দেশটি প্রতিরক্ষার দিক থেকে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বিশ্বের বহু দেশ বাংলাদেশকে অত্যাধুনিক সামরিক অস্ত্র দিতে প্রস্তুত ।

২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ আর মায়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এক চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়। মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল। কিন্তু সেই আশ্রিত রোহিঙ্গারাই এখন বাংলাদেশের জন্য বহুমুখী সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ শরণার্থী শিবির গুলিতে রোহিঙ্গাদের সবার মধ্যে গ্রহনীয় এখনো কোনো নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি। রোহিঙ্গারা মোটা দাগে দু-ভাগে ভাগ হয়ে রয়েছে। এক অংশ চায় প্রত্যাবাসন, আর অপর অংশ চায় বর্তমান অবস্থা বহাল থাকুক। শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গাদের একটা অংশ চলে গিয়েছে সশস্ত্র অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে। রাতের অন্ধকার হলেই ক্যাম্পগুলোতে এরা সর্বেসর্বা হয়ে ওঠে, বাংলাদেশে এমনই প্রচলিত বিশ্বাস। এক কথায় রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ফ্যাসাদে বাংলাদেশ, অপরদিকে মায়ানমারের যুদ্ধের উস্কানি।

নড়বড়ে নয় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

যদি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতের বাজেটের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন তা একেবারেই নড়বড়ে নয়। ২০২২ সালে ৬ লক্ষ ৩ হাজার ৬৬১ কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৩৭ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। ২০২১-২২ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেট হিসেবে এটি জাতীয় সংসদে পাস হয়। চলতি বছরের প্রতিরক্ষা খাতে গত বছরের চেয়ে প্রায় ২৩২৭ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মন্ত্রালয়ের প্রশাসনিক খরচ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি বিভাগের ব্যয়।

বাংলাদেশের বিপদে অস্ত্র দেবে কোন দেশ?

চীনের ভূমিকা

বাংলাদেশের বিপদে দাঁড়াতে পারে বহু দেশ। ইতিমধ্যেই সামরিক যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছে অনেকগুলি দেশ। চীনের সাথে মায়ানমার আর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক দিক থেকে বেশ ভালো সম্পর্ক। তাই এখন থেকে বোঝা যাচ্ছে না যুদ্ধ বাঁধলে চীন সরাসরি কোন দেশের সঙ্গে যুক্ত হবে। তবে করোনা মহামারীর সময় গত বছরে বাংলাদেশকে সার্বিক সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল চীন। গত বছর চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, চীন আর বাংলাদেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চীন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। এমনকি তাঁর মুখে রোহিঙ্গা সমস্যার কথাও শোনা গিয়েছিল।

আমেরিকার ভূমিকা

অনেক দিন আগেই বাংলাদেশে যুদ্ধাস্ত্র বিক্রির আগ্রহ দেখিয়েছিল আমেরিকা। জানা যায়, গতবছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে বাংলাদেশের প্রধামন্ত্রীর শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার । এই সংক্রান্ত খবর তখন বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর নানান দেশের মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। ওই খবর অনুযায়ী, আমেরিকা বাংলাদেশের কাছে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়ন অর্থাৎ মডার্নাইজ করতে চায়। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা বাংলাদেশকে দিতে পারে অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, এফ-১৬ জঙ্গি বিমানের আপডেটেড ভার্সন এবং ক্ষেপণাস্ত্র।

বাংলাদেশে অস্ত্র বিক্রিতে আগ্রহ শক্তিধর দেশের

গত বছরের শেষের দিকে দেখা গিয়েছিল বাংলাদেশের অস্ত্র বিক্রিতে আগ্রহ বাড়িয়েছে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্রান্স সফরেও সমরাস্ত্র বিক্রির বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পায়। এমনকি প্রতিরক্ষার সহযোগিতায় বাংলাদেশ এবং ফ্রান্সের মধ্যে একটি সম্মতিপত্র স্বাক্ষর হয়েছিল। শুধু ইউরোপ নয়, বিশ্বের নানান শক্তিধর দেশগুলি এই সম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বেশি জোর দিচ্ছে। সেই তালিকায় বিশেষভাবে রয়েছে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি এবং স্পেন। এই দেশগুলি বাংলাদেশকে সমরাস্ত্র এবং প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয় এমন সরঞ্জাম বিক্রির জন্য নানান আলোচনা করেছে। ২০২১ এ যখন ফ্রান্স সফরে শেখ হাসিনা গিয়েছিলেন, তখন জঙ্গি বিমান ও বাণিজ্যিক জেট বিমান নির্মাণকারী ফরাসি প্রতিষ্ঠান দাসোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক ট্রাপিয়ার দাসো রাফাল বিক্রির কথা বলেছিলেন। ওই বছরের মার্চে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দুদিনের সফরে ঢাকা এসেছিলেন। তখন ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় দাসো রাফাল বিক্রির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

এছাড়াও যুক্তরাজ্য, জার্মানি, স্পেন, ইতালি প্রভৃতি দেশগুলি বাংলাদেশের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মাইন সুইপার, ছোট সাবমেরিন, হেলিকপ্টার, জঙ্গি বিমান সহ নানান ধরনের যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি করতে বেশ আগ্রহী। বিশ্বের এই তাবড় তাবড় দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বাংলাদেশের। তাই বাংলাদেশকে দুর্বল ভাবা একেবারেই ঠিক হবে না যদি যুদ্ধ বাঁধে এই দেশগুলি প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে, এমনটা মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories