Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট কাটানোর নয়া পন্থা! বিজেপি কি বেশি রিস্ক নিচ্ছে এবার?

1 min read

৷৷প্রথম কলকাতা৷৷

ট্রেলার তো দেখালো বিজেপি এবার সিনেমা দেখানোর নীল নকশা শুরু! একটা নবান্ন অভিযান করেই যে হাতের ওপরে হাত গুটিয়ে বিজেপি বসে থাকবে না সেটা ধরে নেওয়া গিয়েছিল৷ ধারণা ছিল বিজেপি এবার বাংলা নিয়ে অন্যভাবে ভাববে৷ শাহ-নাড্ডাদের কাছে কৌশলের অভাব নেই৷ কিন্তু কোন কৌশল বাংলার জন্য খাটবে সেটাই ছিল আসলে দেখার৷ প্রতিমূহুর্তে বঙ্গ বিজেপি এবার এক্সপেরিমেন্ট করবে৷ তারা যে ভোটারদের মন বোঝার জন্য পরীক্ষা নীরীক্ষা চালাচ্ছে না এমনটা কিন্ত সঠিক তথ্য নয়৷ যেসব এলাকায়, যেসব আসনে বিজেপির ২০২১ বা ২০১৯ সালে দাঁতও ফোটাতে পারেনি এবার বিজেপির টার্গেট কিন্তু সেদিকেই৷ ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের পরপর একটা খবর বের হয়েছিল৷ ২০১৯র ২৩শে রেজাল্ট বের হওয়ার পর অগস্ট নাগাদ বিজেপির রাজ্য নেতারা দাবি করেন, বাংলায় ৭৭ লাখ মানুষ দলের সদস্য হয়েছেন৷ সেই হিসেব ছাড়িয়ে গিয়েছিল বিজেপির বাকি রাজ্যের হিসেবকে৷ সত্যি এই ফিগারটা হয়ে থাকে তাহলে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে আবারও সেই সংখ্যাটা ঝালিয়ে দেখা হবে৷ তবে এবার বিজেপির ফোকাস নাকি রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটে৷ এমনটাই দাবি করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা একাংশ৷ আর সেই কাজে তারা নাকি এবার সাহায্য চাইতে পারে বাম ও কংগ্রেসের৷ কীভাবে? কেনই বা বামকংগ্রেসের গেরুয়া শিবিরের সাহায্য করবে তা নিয়ে অনেক বড় প্রশ্নই উঠতে পারে৷

রবিবার অর্থাত আজ থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে বিজেপির দুদিনের সাংগঠনিক বৈঠক৷ একেবারে ফুল টিম নিয়ে মিটিংয়ে বসে গিয়েছেন সুনীল বনশল, মঙ্গল পান্ডে, আশা লকড়া, অমিত মালবিয়ারা৷ ২ দিনে দফায় দফায় বৈঠক হবে৷ আর এই বৈঠকই সম্ভবত ঠিক করে দিতে চলেছে আগামীর রূপরেখা৷ ভোটের কাজ তো হবেই তবে সেই সঙ্গে শাসকদলকে চাপে রাখার একাধিক কৌশল নেওয়া হতে পারে৷ তাই তো লিগাল সেল, যুব মোর্চা বঙ্গ বিজেপির সব ভাগ ও তাদের বিশেষ টিমকেই রাখা হয়েছে এই বৈঠকে৷

এবার আসা যাক বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বদের গোপন পরিকল্পনার কথায়৷ আগে থেকে বলে রাখি এই প্ল্যান ২০২৪ সালকে মাথায় রেখে৷ পার্টিকুলার বাংলার জন্য বিকল্প রণনীতিতেই মাঠ পরিস্কার করতে চাইছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ এমনটাই সূত্র মারফত খবর বলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা৷ গেরুয়া শিবির সম্ভবত চাইছে মুসলিম ভোট কাটতে ময়দানে নামুক সিপিএম এবং কংগ্রেস। তাহলে আদতে বিজেপির স্বার্থসিদ্ধি হবে। তাহলে কি এবার বাম-কংগ্রেস হাত মেলাতে পারে বিজেপির সঙ্গে? না এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য পর্যবেক্ষকদের হাতে কিন্তু কিছু কিছু পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে৷ ওই যে কথায় আছে না ভালোবাসায় ও যুদ্ধে সবকিছুই হতে পারে৷ বাংলার লড়াইয়ে কার্যত যুদ্ধ হিসেবে বর্তমানে দেখছে পদ্মশিবির৷ যতটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এবার বাংলায় উগ্র হিন্দুত্বের নীতি আরও বাড়াতে পারে বিজেপি৷ কিন্তু তাতে কি বাংলার মানুষের মন পরিবর্তন হবে৷ নাকি বিজেপি আবারও ভুল পথে হাঁটছে? পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, এটা এখনই বোঝা যাবে না৷ ৫ বছর আগে ভোটের যা কৌশল বা রণনীতি ছিল সেটা যে ৫ বছরের পরেও একই থাকবে তেমনটা তো হয় না৷ বিশেষ সূত্রে খবর, বাংলায় পিছনের দরজা দিয়ে রাজনীতি করতে মরিয়া বিজেপি

অঙ্ক অনুযায়ী, পুজোর পর থেকে বিজেপি এরাজ্যে উগ্র হিন্দুত্বের হাওয়া তুলতে নামবে। সিএএ ইস্যু ফিরিয়ে আনবে। হিন্দু ভোটারদের মধ্যে প্রচারের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি, আরএসএস। অন্যদিকে, মুসলিম ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে সম্ভবত নামতে পারে বাম-কং৷ এমনিতে সিপিএম-কংগ্রেস মুখে বিজেপির বিরোধিতা করে যাবে। কিন্তু আদতে মুসলিম ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করবে। বিজেপিও চাইছে সিপিএমের এই চেষ্টা সফল হোক। কোথায়, কোন এলাকায়, কীভাবে, কার সঙ্গে যোগাযোগ দরকার, এটা অলিখিতভাবে এক অদৃশ্য যৌথশক্তি ঠিক করে ফেলছে বলে খবর। গোটা প্রক্রিয়াটি ঠিক হচ্ছে একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টিম থেকে। কিন্তু এই খবর বা ব্লুপ্রিন্ট কোনওভাবে প্রকাশ্যে স্বীকার করতে নারাজ বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, যদি তৃণমূলকে সর্বস্বান্ত করাই লক্ষ্য হয়ে থাকে তাহলে তো যে কোনও কিছু রাজনীতিতে হতেই পারে৷ যেমন ২০২১ সালে বিজেপি যাতে বাংলায় না আসে তার জন্য বহু বাম ভোট তৃণমূলে গিয়েছিল৷

বিজেপিরই একটি অংশ বলছে, তারা জানে যে এভাবে বাংলায় ভোট ভাগ কঠিন। কিন্তু, এই কাজের জন্য কোনও চেষ্টা ও রসদ বাকি রাখা হবে না বলেও একটি মহল থেকে আশ্বাস এসেছে। অবশ্য কেন্দ্রের একাধিক মন্ত্রককেও তাদের স্কিমগুলি দিয়ে অঙ্ক কষে কিছু সংগঠনের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের ব‌্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে আরএসএসও তৈরি করে ফেলেছে এক্ষেত্রে তাদের রণনীতি৷ শোনা যাচ্ছে তাদের পুরোনো কোনও কৌশলকেই এবার হাতিয়ার বানাবে আরএসএস৷ খবর পাওয়া যাচ্ছে, বাংলায় আরএসএস-এর সব শাখাকে আরও গতিশীল করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী কি এই অঙ্ক কষেই দাবি করলেন ডিসেম্বরের পর থেকে আর সরকার চালাতে দেবেন না৷ হতেও পারে৷ বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বিজেপি যদি বুঝতে পারে তা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি সফল হওয়ার থেকে তখন কিন্তু স্ট্র্যাটেজি বদলেও নিতে পারে গেরুয়া শিবির৷

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories