Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

শিশির অধিকারী কেন বড় ছেলে আসতে দিলেন না রাজনীতিতে? অধিকারী কর্তার রাজনৈতিক জীবনের ৫০ বছর

1 min read

৷ প্রথম কলকাতা৷


বর্তমানে কোন রাজনৈতিক দলে খাতায় কলমে রয়েছেন শিশির অধিকারী তা নিয়ে অনেক তর্ক বিতর্কই হতে পারে৷ কিন্তু সেটা করা আজকের প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য নয়৷ কার্যত কয়েক শতক ধরে মেদিনীপুর ও তার আশেপাশে জেলাগুলো মান্যিগণ্যি করে অধিকারী পরিবারকে৷ প্রশ্ন হল কেন? এমন কি ইতিহাস রয়েছে এই পরিবারের৷
বর্তমানে অধিকারী পরিবারের কর্তা সাংসদ শিশির অধিকারী৷ তবে এই পরিবারকে মেদিনীপুরের মানুষ চেনে তাঁর আগে থেকে৷ শিশির অধিকারির পরিবার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পরিবার হিসেবে পরিচিত৷ ব্রিটিশ আমলে ১৯২৯ থেকে ১৯৪৩ সালের মধ্যে তিনবার তাঁর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল৷

সেই পরিবার থেকে বাংলার রাজনীতিতে বড় ছাপ শিশির অধিকারীর৷ একেবারে মাঠ থেকে রাজনীতির হাতেখড়ি বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের৷ ২০২১ সালের আগে পর্যন্ত তৃণমূল গ্রামীণের অন্যতম মুখ ছিলেন শিশির অধিকারী৷ প্রথম জীবনে কংগ্রেস তারপর তৃণমূল বরাবরই হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব থেকেছেন শিশিরবাবু৷ বিজেপির বলছি না কারণ বিজেপিতে যোগদান নিয়ে বিতর্ক এখনও অব্যাহত৷ ১৯৪১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের কারকুলিতে জন্ম শিশির অধিকারীর৷ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন৷

তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার ৫০টা বছরেরও হয়ত বেশি৷ ১৯৬২ সালে পূঃ মেদিনীপুরের বাসুদেবপুরে পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচিত হন তিনি৷ ১৯৭১-১৯৮১ সাল পর্যন্ত কন্টাই পুরসভার চেয়ারম্যান পদে ছিলেন৷ ১৯৮৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এই পদে শিশির অধিকারীই ছিলেন৷ এই সময়কালে বাংলার তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবও বাড়তে থাকে৷
১৯৮২ সালে প্রথম কংগ্রেসের টিকিটে বিধানসভা ভোটে লড়েছিলেন শিশির অধিকারী৷ আসন ছিল কন্টাই বিধানসভা৷ সেজন্যই কন্টাইকে অধিকারীদের অন্যতম গড় মানা হয়৷ কিন্তু জানেন কি আপাদমস্তক রাজনৈতিক এই পরিবারে থাকা শিশির অধিকারীর এক ছেলে রাজনীতির ধারে কাছেও আসেন না৷ গায়ত্রী অধিকারীর সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে ছিলেন শিশির অধিকারী৷ তাঁর চার পুত্র সন্তান কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারী, দিব্যেন্দু অধিকারী ও সৌমেন্দু অধিকারী৷ তবে শান্তিকুঞ্জের বড়ছেলে কৃষ্ণেন্দু রাজনীতিতে নেই৷ তিনি অধিকারীদের পারিবারিক ব্যবসা দেখেন৷ বাকি তিনপুত্রই রাজনীতিক৷ আর তাদের মধ্যে হেভিওয়েট মুখ হলেন শুভেন্দু অধিকারী৷

লোকসভা নির্বাচন হোক কিংবা বিধানসভা ভোট, সবেতেই অধিকারীদের জয়ের ধারা অটুট ছিল। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯৷ কাঁথি থেকে টানা তিন বার লোকসভা নির্বাচনে জিতে হ্যাটট্রিক করেছেন শিশির অধিকারী৷ ২০০৯ সালে মনমোহন সিং সরকারের কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পান শিশির৷ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই এই অধিকারী পরিবারের উপর ভরসা করতেন। তৃণমূলে অধিকারী পরিবারের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে নানা গুরুদায়িত্ব তাঁদের উপর সঁপেছেন মমতা।


২০২১ নির্বাচনের মুখে অধিকারী পরিবারের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্কের তাল কাটে৷ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তৃণমূল ছেড়ে BJP-তে যোগ দেন শিশিরপুত্র শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল নেত্রী অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দিতেই প্রশ্ন ওঠা শুরু হয় শিশির অধিকারীর রাজনৈতিক ভবিষ্যত কি হবে?
এরপর অমিত শাহর একটি সভায় দেখা গিয়েছিল শিশির অধিকারীকে৷ এমনকি শান্তিকুঞ্জেও দিলীপ ঘোষ ও লকেট চট্টোপাধ্যায়কে দেখা গিয়েছে৷ তবে শিশির বাবু তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধাচারণ করলেও একবার নিজের মুখে বলেননি তিনি আদতে কোন দলে রয়েছেন৷

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories