Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

কংগ্রেসকে ভাঙিয়ে বিজেপির হাত শক্ত করছে তৃণমূল? প্রকাশ্যে নয়া অঙ্ক !

।। সুচিত্রা রায় চৌধুরী ।।

যে অভিযোগ উঠেছে তার কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সেভাবে পাওয়া যায়নি৷ তবে অভিযোগ যদি সত্যি হয় তাহলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন এবার কিন্তু মোক্ষম চাল দিল তৃণমূল কংগ্রেস৷ গোয়ায় গোপনে গোপনে কাজ আবারও চালু করে দিল তৃণমূল৷ গোয়ার বিধানসভা নির্বাচনের পর গোয়ায় সেভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের খুব বেশি কোনও অ্যাক্টিভিটি দেখা যায়নি৷ খুব বেশি খবরের শিরোনামেও আসেনি তৃণমূলের গোয়া ইউনিটের কোনও নতুন খবর বা কোনও রাজনৈতিক কৌশলের কথা৷ কিন্তু এবার সে খবর সূত্র মারফত উঠে আসছে তা নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা না থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন যদি এমনটা হয়ে থাকে তাহলে কিন্তু বোঝা যাবে তৃণমূল কংগ্রেস ওপরে খুব বেশি শোরগোল না করলেও ভেতরে ভেতরে কাজটা ঠিক করে যাচ্ছে৷ বিধানসভা নির্বাচন হলেও ভুললে চলবে না এখনও লোকসভা নির্বাচন রয়েছে৷

গোয়ায় কংগ্রেসের ১১ বিধায়কের মধ্যে আটজন দিন তিনেক আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। যা নিয়ে কার্যত চরম হইচই পড়ে গিয়েছে৷ তবে এখন জানা যাচ্ছে, গোয়ায় পদ্ম শিবিরের অপারেশন লোটাসের সাফল্যের পিছনে নাকি হাত ছিল গোয়ার জোড়াফুলের এক নেতারও। কে সেই নেতা? কেনই বা কংগ্রেসের এত বড় ক্ষতি করে বিজেপির হাত শক্ত করতে চাইলেন তিনি? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে৷ সূত্রের খবর, তিনি হলেন গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং একদা প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা চার্চিল আলেমাও। এ বছর মার্চে গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি এনসিপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন৷ তবে তার নামে ওঠা এই গুঞ্জন বেশ চাপে ফেলে দিয়েছে কংগ্রেসকে৷ তাদের প্রাক্তনীই বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছে?

ঠিক কি অভিযোগ উঠছে চার্চিল আলেমাওর বিরুদ্ধে? সেটা আগে জানব তারপর আপনাদের বলব নেপথ্যে কোন অঙ্ক কাজ করে থাকতে পারে৷ শোনা যাচ্ছে, আটজন এক সঙ্গে কংগ্রেস দল ছাড়ায় দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় পড়েননি ওই বিধায়কেরা। গোয়া বিধানসভার স্পিকার তাঁদের বিজেপির বিধায়ক হিসাবে স্বীকৃতিও দিয়েছেন ইতিমধ্যে। তবে এই আটজন বিধায়ক এক সঙ্গে যোগদান না করলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের খাঁড়া এড়ানো কঠিন ছিল৷ সেটা বুঝেই বিজেপি এবং কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধরা প্রথম থেকেই সতর্ক ছিলেন। দলত্যাগে রাজি বিধায়কের সংখ্যাটা সাতে এসে ঠেকেছিল বেশ কিছু দিন। তখন কংগ্রেসে থাকা রুডলফ ফার্নান্ডেজ এবং আলটন কুয়েপেমকে টার্গেট করা হয়েছিল। এই দুই বিধায়ককে দলে টানতেই বিজেপি এবং কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধরা চার্চিল আলেমাওয়ের সাহায্য নেন বলে অভিযোগ। তারা বুঝেছিল তাদের সংখ্যা বাড়াতে আলেমাও এই দুই নেতাকে কনভিন্স করার ক্ষমতা রাখে৷ কারণ তিনিও তো একসময় কংগ্রেসেই ছিলেন৷

জানা যাচ্ছে, আলেমাও কংগ্রেসের দুই বিধায়ক রুডলফ ফার্নান্ডেজ এবং আলটন কুয়েপেমকে বোঝানোর দায়িত্ব নেন। আলটন সটান না বলে দেন। কিন্তু রাজি হয়ে যান ফার্নান্ডেজ।এদিকে গোয়ার রাজনৈতিক মহল বলছে, দলবদলের পর এখন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কংগ্রেস বিধায়কদের অনেকেই আলেমাওয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। কারণ, তিনি ফার্নান্ডেজকে রাজি করাতে না পারলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের কোপ থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন ছিল। আলটোনকে তৃণমূল নেতার ভূমিকার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক যে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল এবং প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কারা জড়িত সে বিষয়ে নাম প্রকাশ করতে চাই না। এখন এটা হয়ে গেছে।


তবে আলেমাও চার্চিল এবিষয়ে মুখ খোলেননি৷ গোয়া তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকেও এখন বিশেষ কোনও প্রতিক্রিয়াও দেওয়া হয়নি৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এক্ষেত্রে অনেক বিজেপি তৃণমূল সেটিংয়ের কথা বলতে পারেন কিন্তু সম্ভবত অঙ্কটা অন্য৷ আসলে কংগ্রেসের ঘর ভাঙিয়ে কোথাও নিজেদের ঘরই গোছাতে চেয়েছিলেন আলেমাও৷ কংগ্রেসকে যত ভাঙানো যাবে ততই বিরোধী দলের মর্যাদা হারাবে কংগ্রেস৷ সামনেই লোকসভা নির্বাচন হয়ত কংগ্রেস দুর্বল করলে তৃণমূলের দিকে নজরটা বেশি পড়বে৷ কারণ মনে করে দেখতে হবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কিন্তু একগুচ্ছে কংগ্রেস নেতা দল ছেড়ে তৃণমূলে এসেছিল৷ ঘর ভাঙানোর খেলা রীতিমত খেলেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল৷গোয়ায় কংগ্রেস বিধায়কদের বিজেপিতে যোগদান জুলাই মাসেই প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সংখ্যাটা সেবার সাতে এসে ঠেকে যায়। ফলে বেমালুম অস্বীকার করা হয় দল ভাঙার কথা৷ তবে এবার শেষপর্যন্ত ভাঙন আটকানো গেল না৷ তবে গোয়ার রাজনীতিতে আলেমাওয়ের ভূমিকা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories