Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

৩০ বছর আগের স্ত্রী দেওয়া কথা আজ সত্যি, হিমন্ত বিশ্বশর্মার জীবন সিনেমার থেকে কম নয়

1 min read

।। সুচিত্রা রায় চৌধুরী ।।

বিজেপি যোগের ৬ বছরের মধ্যে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হন হিমন্ত বিশ্বশর্মা।কংগ্রেসের কোহিনুর বলা হত আইনজীবী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে।স্ত্রী রিঙ্কির সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার দিনই যা বলেছিলেন হিমন্ত শুনলে চমকে যাবেন।নির্বাচনে প্রচার না করেও জিতে গিয়েছিলেন হিমন্ত।কংগ্রেস কোহিনুর হারিয়েছিল আর বিজেপি উত্তর-পূর্বে সেই কোহিনুর লুফে নিয়েছিল একচান্সে৷ হিমন্ত বিশ্বশর্মা৷ রকেটের গতিতে যার উত্থান অসমের রাজনীতিতে৷ তিনি আজ অসমের মুখ্যমন্ত্রী৷ সুযোগের সদব্যবহার কিভাবে করতে হয় বোধহয় তাঁর থেকে ভালো কেউ জানে না৷

কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী হিতেশ্বর স্যাকিয়ার হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছিলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা।হিমন্তকে চোখের তারা বলতেন কংগ্রেসের তরুণ গগৈ। কিন্তু বিশ্বশর্মার কংগ্রেস ছাড়ার নেপথ্যেও ছিলেন এই তরুণ গগৈইআর বিজেপি তক্কে তক্কে ছিল হিমন্তকে সেই সুযোগে নিজেদের দিকে টেনে নিতে৷ অসম বিজেপির তত্কালীন প্রদেশ অধ্যক্ষ সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য বুঝেছিলেন ।উত্তর-পূর্বে বিজেপির জন্য দরজা খুলতে পারে একমাত্র হিমন্তের ক্যারিশ্মাই।বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ৬ বছরের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর গদি পাকা করে ফেলেন হিমন্ত।তবে এই অসাধ্য কিভাবে সাধন করলেন তিনি?

১৯৬৯ সালে পয়লা ফেব্রুয়ারি অসমের জোড়াহাটে জন্ম হয় হিমন্ত বিশ্বশর্মার।রাজনীতিতে প্রবেশের আগে বিশ্ব শর্মা কটন কলেজ ইউনিয়ন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।আইন নিয়ে পড়াশোনা করা হিমন্ত ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত গুয়াহাটি হাইকোর্টে প্রাকটিসও করেছিলেন।মাত্র ২২ বছর বয়সে প্রেমে পড়েছিলেন রিনিকি ভুঁইয়ার৷ যিনি বর্তমানে বিশ্বশর্মার স্ত্রী৷ একটি সাক্ষাতকারে রিনিকি দেবী বলেছিলেন তার সঙ্গে প্রথম দেখার দিন হিমন্ত বলেছিলেন তাঁর হবু শাশুড়িকে বলে দিতে যে তিনি একদিন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হবেন।তার ঠিক ৩০ বছর পর সেটাই করে দেখিয়েছিলেন বিশ্বশর্মা৷ তবে এতটাও সহজ ছিল না যাত্রা৷

তরুণ গগৈয়ের ডানহাত বিশ্বশর্মা ।২০০১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত অসমের জলুকবাড়ি কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক ছিলেন।তখন থেকেই জনপ্রিয়তা এতটাই ছিল যে নির্বাচনে প্রচার না করেও জলুকবাড়ি থেকে জিতে গিয়েছিলেন তিনি।ছাত্র বয়স থেকে রাজনীতি করা হিমন্ত উত্তর-পূর্বে রাজনীতির মাঠ চষে নিয়েছিলেন ততদিনে ।তবে তরুণ গগৈয়ের ছেলে গৌরব গগৈয়ের উত্থান শঙ্কিত করে হিমন্তকে। নিজেকে অসম কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ বলতে শুরু করেন গৌরব।মতানৈক্য বাড়তে থাকায় কংগ্রেস ছেড়ে দেন বিশ্বশর্মা।অনেকেই বলেন রাহুল গান্ধীও ছিল হিমন্তের কংগ্রেস ছাড়ার নেপথ্যে।

কংগ্রেস ছাড়ার পর হিমন্ত একবার লিখেছিলেন, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে অসমের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেছিলাম।রাহুল তখন কুকুরকে বিস্কুট খাওয়াতে ব্যস্ত ছিলেন।এরপর ২০১২ সালে বিজেপিতে যোগ দেন বিশ্বশর্মা।কংগ্রেসে থাকার সময়ই প্রশাসনিক কাজে দক্ষ হয়ে উঠেছিলেন হিমন্ত৷ ২০১৬ সালে হিমন্ত জালুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে জেতেন বিজেপির হয়ে ২৪ মে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন তিনি।২০১৬ বিধানসভা ও ২০১৯ লোকসভায় অসমের বিজয়ের জয়ের নেপথ্যের নায়ক ছিলেন বিশ্বশর্মাই।রাজনীতির বাইরে বই পড়তে আর ঘুরতে ভালোবাসেন বিশ্বশর্মা।খেলাধুলাতেও তার আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।

ইন্ডিয়ান ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন।একই সঙ্গে অসম ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিও ছিলেন।বিশ্বশর্মার স্ত্রী রিনিকা ভুঁইয়া একজন মিডিয়া অনথ্রোপনর।তাদের দু ছেলেমেয়েকে সেভাবে প্রকাশ্যে দেখা যায় নামুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও গদি খুব একটা স্বস্তি দেয়নি হিমন্তকে৷ অসমে এনআরসি-সিএএ প্রতিবাদ বিজেপিকে চাপে ফেলে দেয়। মনে করা হচ্ছিল অসমের জনতার জন্য ভিলেন হয়ে গিয়েছেন হিমন্ত। কিন্তু করোনাকালে নিজের ক্যারিশ্মা দেখিয়েছিলেন হিমন্ত।অসাধারণ কাজ করে প্রমাণ করে দিয়েছিলেন তিনি আসলে জনতার নেতা।তাই বিজেপি দাবি করে, বিশ্বশর্মা আসলে অসমে তাদেরই কোহিনুর৷

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories