Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

দলে “ওয়েট” বাড়াতে চাইছেন মদন মিত্র? সভায় মদনকে দেখে “ধন্যবাদ” তৃণমূল সুপ্রিমোর

1 min read

।। রিমিতা রায়।।

তাপস রায়ের পর মদন মিত্রের গলাতেও অবসরের সুর!কী বলছেন ” রঙিন ” মদন মিত্র?তৃণমূলের নির্দেশে একাধিকবার মুখে কুলুপ এঁটেছেন তৃণমূল বিধায়ক! দলে কি তবে গুরুত্ব কমছে মদন মিত্রের ?সাংগঠনিক সভায় মদন মিত্রকে দেখে খুশি তৃণমূল সুপ্রিমো।অবসরের কথা বলেই তৃণমূলে ওয়েট বাড়াতে চাইছেন মদন মিত্র?আসল রহস্যটা কী?

তাপস রায়ের পর মদন মিত্র। রাজনীতি থেকে ‘অবসর’ নেওয়ার কথা ভাবছেন নাকি কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক? মন্ত্রীর কথায় সেরকমই জল্পনা বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে। এখন প্রশ্ন উঠছে দলে গুরুত্ব পেতেই কি চাপ বাড়ানোর কৌশল নিলেন মদন মিত্র?  এককালের প্রভাবশালী মন্ত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত মদন মিত্র। পরে চিট ফান্ড কাণ্ডে নাম জড়িয়ে হাজতবাস! চলে যায় মন্ত্রিত্ব। তবে ফের একবার দল ভরসা করে টিকিট দেয় বিধানসভা নির্বাচনে। চেনা কামারহাটি কেন্দ্র থেকে জিতেও যান। তবে আর মন্ত্রী করা হয়নি মদন মিত্রকে!

বিধায়ক মদন মিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় অতি জনপ্রিয়। মদন মিত্রর গাওয়া গান ,ওহ লাভলি সুপার হিট। তবে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের গলায় রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী সে কথা জানান । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলার পরদিনই চারটি রবীন্দ্রসঙ্গীত রেকর্ড করেছিলেন তিনি। নেতা-বিধায়ক থেকে গায়ক। এই হচ্ছেন মদন মিত্র। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন মদন মিত্র। সে নিয়ে দলের তরফ থেকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে কামারহাটির “রঙিন” বিধায়ককে। দলীয় বাধানিষেধের ফলেই মদন মিত্র নিজের মুখ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সংবাদ মাধ্যমে তিনি মুখ খুলবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এমনটাই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র ।

পুরভোটের আগে নির্দল প্রার্থীর সঙ্গে দেখা গিয়েছে মদন মিত্রকে। আর এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই দলের বিরুদ্ধে বেফাঁস মন্তব্য করেন মদন মিত্র। তিনি বলেন ,“নির্দলরা বহিরাগত নয় ।কামারহাটির উন্নয়নে সবাই সামিল হবে। তাঁদের দল নেবে কিনা, সেটা দলের সিদ্ধান্ত”।মদন মিত্রের এহেন দাবির পরই তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, উনি সম্ভবত অসুস্থ ছিলেন। দলের নিজস্ব অবস্থান আছে। দল সেটা জানিয়ে দিয়েছে৷ মদন মিত্রের বক্তব্যে দলের অনুমোদন নেই। এরপর কার্যত মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন মদন মিত্র। দলের চাপে পড়েই মদন মিত্র এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে কি দলে গুরুত্ব হারাচ্ছেন মদন মিত্র। তাপস রায়ের পর এবার মদন মিত্র অবসর নিয়ে কি বললেন? ‘‘আপাতত ২০২৬ অবধি বিধায়ক আছি।তার পর নতুন করে ভাবতে হবে।সকলকেই ভাবতে হবে যে আর দাঁড়ানো উচিত কি না। অন্য কারও দাঁড়ানো উচিত কি না!আমার থেকে ভাল আর কেউ আছে কিনা!আমি বিধানসভায় গিয়ে অনেককেই বলতে শুনেছি, উনি ১১ বারের বিধায়ক।আমার খারাপ লাগে।এ সব না করে ছেলে, নাতি এঁদের সুযোগ দিলে ভাল হত।আমার খেলা দেখে নতুন প্রজন্ম শিখবে।নিজেকে নিজের মতো গুটিয়ে নিয়েছি।যা না পাওয়ার ছিল সেটা না পাওয়াই থাক।রোদন ভরা এ বসন্তের গান গাইতে যাইনি। ৮০ কেজি ওজন হয়ে গেছে।এটা ঠিক নয়, অনেক দিন তো হল” ।

বৃহস্পতিবার পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে নজরুল মঞ্চে বড় সাংগঠনিক সমাবেশ হয় তৃণমূলের। মঞ্চে উঠেই প্রথমে মদন মিত্রের খোঁজ নেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাবছিলাম প্রথমে এসে ধরব মদন এসেছে কিনা, তারপর দেখলাম ও এসছে, ধন্যবাদ। মন্তব্য তৃণমূল সুপ্রিমোর।সম্প্রতি রাজনীতিতে বয়সসীমা বেঁধে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক তাপস রায়। সে সময় কৌশলে তাঁকে সমর্থন করে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মদন মিত্র।  এর পর মদন মিত্রের কণ্ঠেও শোনা গেল বিদায়ের সুর। একাধিকবার দলের তরফ থেকে চুপ করার নির্দেশের পাল্টা দিলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক?দলের অন্দরে কোণঠাসা হওয়ার জন্যই কি পাল্টা চাপ দেওয়ার রাস্তায় হাঁটলেন মদন মিত্র? এমনই প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories