Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

পরিচারিকার অ্যাকাউন্টে হদিশ প্রায় ২ কোটির! তদন্ত করতে জগদ্দলে রাঁচি পুলিশ

।। প্রথম কলকাতা।।

পরিবার নিয়ে ভাড়া বাড়িতে দিন যাপন, পরিচারিকার কাজ করেই বছরের পর বছর জীবন অতিবাহিত করছেন বছর ৬২ এর সুশীলা কাহার। মাসিক যে পারিশ্রমিক তিনি পান তাতেই সঠিক মত তাঁর নিজের খরচ চালানো মুশকিল হয়ে ওঠে। এই মত পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্কে টাকা জমানো তাঁর কাছে প্রায় অসম্ভব। কিন্তু বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়িতেই আচমকা এসে হানা দিল রাঁচি থানার পুলিশ । বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই হইচই শুরু হয়ে যায় এলাকায় । ভিন রাজ্যের পুলিশ এসে দেখতে চায় তাঁর ব্যাঙ্কের পাসবুক। তাতে আরও বেশি কৌতুহল গাঢ় হচ্ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের। আর তারপর রাঁচির পুলিশ যা জানালো তা শুনে রীতিমত চক্ষুচড়ক গাছ খোদ সুশীলা কাহারের।

জগদ্দললের গুপ্তারবাগান এলাকার বাসিন্দা হলেন সুশীলা দেবী। বয়স তাঁর ষাটোর্দ্ধ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতে হয় তাকে। এছাড়াও প্রত্যেক মাসে বিধবা ভাতার টাকা হিসেবে এক হাজার করে এসে ঢোকে তাঁর অ্যাকাউন্টে। এই জন্যই অবশ্য অ্যাকাউন্টটি তৈরি করা। কিন্তু এদিন রাঁচির পুলিশ তাঁর খোঁজে এসে পৌঁছায় গুপ্তারবাগান এলাকায়। এরপর তাঁরা জানায়, তাঁর অ্যাকাউন্টে হদিশ মিলেছে ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার । এত পরিমান টাকা তাও তাঁর অ্যাকাউন্টে! পুলিশের মুখে এ কথা শোনার পর স্তম্ভিত হয়ে যান বৃদ্ধাসহ তাঁর পরিবার এবং প্রতিবেশীরা।

সুশীলা দেবী জানান, তিনি নিজে এখনও পর্যন্ত থাকেন ভাড়া বাড়িতে। পরিচারিকার কাজ করেন যেটুকু বেতন পান তাতেই কোনো রকম ভাবে দিন চলে যায় তাঁর । এত পরিমান টাকা তাঁর কাছে প্রায় স্বপ্ন সমান। এই টাকা কোন ভাবেই তাঁর নয়। কোথা থেকে এল, কীভাবে এল তা তাঁর জানা নেই। তিনি শুধু খেয়ে পড়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারলেই খুশি। এই প্রসঙ্গে তাঁর নাতনি জানান, পুলিশ সূত্রে যেটুকু জানতে পারা গিয়েছে তাঁর ভিত্তিতে এটা স্পষ্ট যে অ্যাকাউন্টে থাকা ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ রাশি সুশীলা দেবীর নয় । তাঁর আধার কার্ডকে ব্যবহার করে কোনভাবে ওই অ্যাকাউন্টে টাকা লেনদেন করা হচ্ছে।

প্রয়োজন মত টাকা রাখা হচ্ছে এবং সেখান থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে কিছুই জানেন না সুশীলা দেবীসহ তাঁর পরিবার।তবে এই ধরনের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সুশীলা দেবীর পরিবার। এদিনের এই ঘটনা রীতিমত এলাকাবাসীরাও হতবাক হয়ে যান। তাদেরও একই দাবি। যিনি নিজে দীর্ঘদিন ধরে পরিচারিকার কাজ করে দিন কাটাচ্ছেন তাঁর কাছে এত পরিমান টাকা থাকা একেবারেই অসম্ভব। জানা যায়, এদিন পুলিশ সুশীলা দেবীর সঙ্গে এই বিষয়ে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলেন এবং তারপর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সেখান থেকে ফের রাঁচির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তাঁরা।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories