Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

দিল্লিতে পৌষমাস পঞ্জাবে সর্বনাশ, আপ সরকারের দেদার খয়রাতিই হল কাল, সাবধানীবাণী কোন কোন রাজ্যে?

1 min read

।। সুচিত্রা রায় চৌধুরী।।

রাজকোষে ব্যাপক চাপ সরকারি কর্মীদের বেতন দিতে পারছে না পঞ্জাব সরকার।কোন কোন রাজ্যকে শিক্ষা নিতে হবে পঞ্জাবের থেকে?ফ্রি প্রকল্পই কি ডেকে আনছে আসল সঙ্কট? নাকি নেপথ্যে কারণ আরও জটিল! বেশ কিছু রাজ্যকে আগেই সতর্ক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।চমকে দেওয়ার পর জনমুখী প্রকল্প এনে জনগণের সমর্থন পাওয়াটা যতটা সহজ, তারপর সরকারে এসে রাজ্য চালানোটা কি ততটাই সহজ হয়? পঞ্জাব সরকারের অবস্থা দেখার পর এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক মহল৷ কারণ এবার কোপটা সরাসরি গিয়ে পড়েছে সরকারি কর্মীদের বেতনের ওপর৷ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট বলছে পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গীন যে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বেতন দিতে গিয়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। মসনদে বসার ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হল পঞ্জাবে?

পঞ্জাবের সঙ্গীন অবস্থা থেকে এবার কি সতর্ক হচ্ছে ভারতের বেশ কিছু রাজ্য৷ আম আদমি পার্টির বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, সস্তায় জল পরিষেবা দেওয়ার মতো প্রকল্প রীতিমত জনপ্রিয়৷ কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন দিল্লিতে এইসব প্রকল্পই কামাল দেখালেও পঞ্জাবের সামনে কঠিন অবস্থা৷ অঙ্ক কষাতেই কতটা বড় ভুল করেছিল কেজরিওয়ালের সরকার? সূত্রের খবর, রাজকোষের ওপর কয়েকমাসেই বেড়েছে কয়েকগুণ চাপ৷ আর এ খবর থেকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশই মনে করছেন এই ঢালাও বিনামূল্যে প্রকল্পের জেরেই অর্থনীতিতে মুখ থুবড়ে পরার মতো অবস্থা ভগবন্ত মান সরকারের৷ বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারী কর্মীদের বেতনে কোপ শুধু ট্রেলার মাত্র৷

জানা গিয়েছিল, আগস্ট মাসের ৭ তারিখ দুপুর অবধি পাননি পাঞ্জাবের সরকারি কর্মীরা। যেখানে মাসের এক তারিখেই বেতন হয়ে যায় পাঞ্জাবের সরকারের কর্মীদের। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট তথ্য অনুযায়ী, কর্মীদের এক মাসের বেতনের জন্য প্রায় ২ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা খরচ হয় পাঞ্জাব সরকারের।কিন্তু সেটা ৭ তারিখ পর্যন্ত জোগাড় করতে পারেনি ভগবন্ত মানের সরকার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, পাঞ্জাবের এই আর্থিক সংকট কিন্তু নতুন কিছু নয় নয়। একসময়ের শস্যশ্যামলা এই রাজ্যটি গত ১০-১৫ বছর ধরেই আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারী কর্মীদের বেতন দিতে না পারার মতো পরিস্থিতি এইবারই প্রথম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, পঞ্জাবের আপ সরকার আসার পর রাজকোষের উপর বেড়েছে কয়েকগুণ। পঞ্জাবে ক্ষমতায় এসে আম আদমি পার্টি সরকার ভুরি ভুরি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আপের কলিং কার্ডটাই ছিল উন্নয়নের ‘দিল্লি মডেল’৷ সেই মডেলেই পাঞ্জাবের ভোটারদের আস্থা ও বিশ্বাস, দিল্লিতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, বিনামূল্যে বাসরাইডের এই সবই ছিল জনতাকে আকর্ষণ করার সবথেকে বড় শক্তি আম আদমি পার্টির৷ কিন্তু হিতে কি এবার বিপরীত হয়ে গেল?

আরো পড়ুন : ‘বাংলায় ক্ষমতায় এলে মেদিনীপুর মোদীপুর, দার্জিলিং মোদীজিলিং হয়ে যেত’, কটাক্ষ অভিষেকের

রাজনৈতিক বিশ্লেষেকরা বলছেন, আম আদমি পার্টি বা কোন পার্টিকুলার পলিটিক্যাল পার্টি নয়। প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল তার ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দেয়৷ যাকে জনমুখী প্রতিশ্রুতি বলে৷ কিন্তু এই জনমুখী প্রতিশ্রুতি দিতে গিয়ে দেখা যায় ভবিষ্যতে এগুলোকে ধরে রাখতে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে অনেকটাই সংকটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে৷ যেটা সমস্ত রাজ্যের ক্ষেত্রেই কমবেশি ঘটে থাকে বিশেষ করে যে রাজ্যগুলি কেন্দ্র সরকারের বিরোধী রাজ্য হিসেবে পরিচিত৷ অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাঁর দিল্লি মডেলের জন্য গোটা দেশে জনপ্রিয়৷

কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখতেই হত দিল্লি আর পাঞ্জাব দু জায়গার অর্থনৈতিক পরিকাঠামো কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। এক সময়ে পাঞ্জাবের সবুজ বিপ্লব গোটা ভারতবর্ষের মুখে বিদিত ছিল ৷ সেই সময়ের যে সবুজ বিপ্লব এর ফলে পাঞ্জাবের অর্থনীতির উন্নতি সাধন করেছে এবং তারপর পাঞ্জাবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শাসকের পরিবর্তন ঘটেছে কখনো শিরোমনি অকালী দল বিজেপির জোট এসেছে। কখনো কংগ্রেস এসছে এবারে আপ সরকার এসেছে। আসার পর ভোটের আগে যে প্রতিশ্রুতি গুলো দিয়েছে সেগুলো রাখতে গিয়ে কি বেতন পরিকাঠামোর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে৷

কারণ দিল্লি এবং পাঞ্জাব যে ট্যাক্স আদায় করা হয় বা যে রেভিনিউ কালেকশন হয় সরকারের, দুটো কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা ইমপ্যাক্ট৷ ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন রকম ভাবে এই যে রেভিনিউ কালেকশন এর যে ফান্ডিং টা ডিপেন্ড করে কিন্তু বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন রকম তাই দিল্লিতে যেটা সামলাতে পারছে আপ সরকার পাঞ্জাবে গিয়ে কি সেটা সামলাতে উঠতে পারছে না তারা? প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল৷ তারা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলি ভোটের আগেই যেরকম চূড়ান্তভাবে বিভিন্ন রকম ভাবে যে দেনা পাওনার কথা ঘোষণা করে তা থেকে বাংলাও বাদ যায় না তালিকা কেরল, মধ্য প্রদেশ, হরিয়ানা, বিহারও রয়েছে৷ প্রশ্ন উঠছে শুধুমাত্র ভোটের কারণে কি ভুল অর্থনৈতিক হিসেব করে এগোনো হচ্ছে৷ বর্তমানে প্রশ্নটা এজন্য উঠছে কারণ শ্রীলংকার অর্থনীতি ডুবে যাওয়ার পর ভারতের বেশ কয়েকটা রাজ্যে এমন খারাপ পরিস্থিতি আসতে পারে তা আশঙ্কা করাই হচ্ছিল৷

২০২১-২২ আর্থিক বছরে পঞ্জাবের জিডিপি ছিল প্রায় ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।ওই আর্থিক বছরে শ্রীলঙ্কার জিডিপিও ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। জিডিপির পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্জাবের ঋণের অনুপাত ছিল ৫৩.৩ শতাংশ।এই হার দেশের সব রাজ্যগুলির তুলনায় সর্বাধিক।এখন পঞ্জাব যদি একটি পৃথক দেশ হত তবে প্রতিরক্ষা, গণ টিকাকরণেও সরকারকে ব্যয় করতে হত।ফলে আরও অর্থ ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল।

আরও অর্থ ঋণ নিলে জিডিপি ঋণের অনুপাত অনেকটাই বৃদ্ধি পেত ফলে ঋণের পরিমাণও পাল্লা দিয়ে বাড়ত।অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পঞ্জাবের মতো দেশের আরও অনেকগুলি রাজ্যের অবস্থাও অনেকটা একই রকম।কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আর্থিক সাহায্য পেয়ে রাজ্যগুলি কোনও রকমে কাজ চালাচ্ছে।যে রাজ্যগুলির জিডিপি ৫০ বিলিয়ন থেকে ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ঋণের অনুপাত ২৫ শতাংশে বেশিতাদের আর্থিক পরিস্থিতি যে কোনও সময়ে শ্রীলঙ্কার মতো হতে পারে।

এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও রীতিমত সতর্ক করেছিলেন বেশ কিছু রাজ্যকে৷ লক্ষ্মীর ভান্ডার, দুয়ারে রেশন প্রকল্প নিয়েও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি দাবি করছিল রাজ্যের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে এভাবে৷ অবশ্য বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ তো গেল রাজ্যের কথা। তবে কেন্দ্রীয় সরকারও খুব বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। তাদের জিডিপি আন্দাজে ঋণের পরিমাণও খানিক নিয়ন্ত্রণেরই বাইরে।ভোটের আগে কেন্দ্র রাজ্য উভয় যে জনমুখী পরিকল্পনা গুলো ঘোষণা করে সেগুলো বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিবেচনা না করার জেরেই কি এধরণের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে? ভেবে দেখার সময় এসেছে বলছেন বিশ্লেষকেরা৷

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories