Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

হাজারো শত্রুর প্ল্যান বানচাল করতে ওস্তাদ! বাংলাদেশকে বাঁচাচ্ছে ডিজিএফআই

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বাংলাদেশের গোয়েন্দা জগতের রহস্যময় নাম DGFI। আপনি গুগলে হাজার সার্চ করেও এই সংস্থা সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য পাবেন না। অধিকাংশ মানুষই জানে না, এই গোয়েন্দা সংস্থার কাজ কি। এই গোয়েন্দা সংস্থার রয়েছে একটি বিশেষ লোগো। এই লোগোতে থাকা প্রতিটি চিহ্ন এক একটি অর্থ বহন করে। এই গোয়েন্দা বাহিনীতে যোগ দিতে হলে পাশ করতে হয় বেশ কয়েকটি কঠিন ধাপ।

বাংলাদেশের এই গোয়েন্দা সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপিত হয়েছিল ১৯৭২ সালে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের অধীনে। ডিজিএফআই এর পুরো কথা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইনটেলিজেন্স বা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর। এটি বাংলাদেশের প্রধান সামরিক গোয়েন্দা শাখা। এই সংস্থা বাংলাদেশের বিশেষ শাখা এবং এনএসআই এর সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকা সেনানিবাসে, সেখান থেকে এই গোয়েন্দা সংস্থা তাদের কাজ পরিচালনা করে ।

এটি মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সি হলেও বাংলাদেশের মানুষ এটি সম্পর্কে খুব কম তথ্য জানেন। কারণ এর সমস্ত তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এই সংস্থা প্রথমে অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে কাজ শুরু করলেও পরবর্তীকালে দেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করে। এখানে মহাপরিচালক হিসেবে রয়েছেন একজন মেজর জেনারেল। তিনি সাতজন পরিচালক নিয়ে সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই পরিচালকদের মধ্যে প্রত্যেকেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিংবা সমপদের অধিকারী। বর্তমানে এটির নটি ব্রাঞ্চ রয়েছে এবং ১৯টি বিভাগে কার্য পরিচালনা করে।

প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি কর্মী নিয়ে এই সংস্থা দেশের নিরাপত্তার রক্ষার স্বার্থে কাজ করে চলেছে। জাতির নিরাপত্তার রক্ষার জন্য এবং জাতির দেখাশোনার জন্য বর্তমানে সারা বিশ্বের কাছে এশিয়ার একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা শক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে ডিজিএফআই।এটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক গোয়েন্দা কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এদের উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন দেশের সামরিক তথ্য দেওয়া নেওয়া করা এবং বাংলাদেশের সীমানার চারিপাশে সকল কর্মকাণ্ডের উপর কড়া নজর রাখা।

লোগোর মাধ্যমে ডিজিএফআই এর পরিচয়

ডিজিএফআই এর সদস্যরা বাংলাদেশ এবং বাইরের গোপন কোনো তথ্য পেলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। ২০১৪ সালের ১৪ই মে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিএফআইয়ের নতুন লোগো উদ্বোধন করেছিলেন। এই লোগোর মাধ্যমে ডিজিএফআই সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়।

এই লোগোর মাঝে রয়েছে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক এবং দেশের জাতীয় ফুল শাপলার ছবি। লোগোর চারিদিকে দেখতে পাবেন আলোর বিচ্ছুরণ যা এই দেশের চারটি মূল মন্ত্র প্রকাশ করে। সেই তালিকায় রয়েছে দেশের প্রতি আনুগত্য, শৃঙ্খলা, মনোযোগ সচেতনতা এবং দেশপ্রেম। লোগোর নিচে বাংলাদেশ লেখার দুই পাশে দুটি করে রয়েছে চারটি তারা। যেগুলি প্রকাশ করে বাঙালির জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে।

এই লোগোর মাঝে বেগুনি রং বাংলাদেশের বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর সমাবেশকে প্রকাশিত করে। এছাড়াও মাঝে রয়েছে মাকড়সার জাল, যা এই গোয়েন্দা সংস্থার কাজের তৎপরতার প্রকাশ।যে কেউ ইচ্ছা করলেই ডিজিএফআইয়ের বাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন না। কারণ এখানে সরাসরি গোয়েন্দা হিসেবে যোগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই বাহিনীতে যোগ দিতে গেলে তাকে সামরিক বাহিনীর সদস্য হতে হবে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories