Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

টানা ১২ দিন থমকে গিয়েছিল শহর! কেমন ছিল বিশ্বের কুখ্যাত ট্রাফিক জ্যাম?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

আমাদের দৈনিক জীবনে রীতিমত আঠার মতো লেগে থাকা সাধারণ ভোগান্তির নাম জ্যাম। যাদের দৈনিক অফিস আছে কিংবা একটু শহরাঞ্চল ঘেঁষে বাস করেন তাদের ক্ষেত্রে এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর যারা ট্রাফিক জ্যামে পড়েননি। অফিস টাইম বেরোনোর আগে তাড়াহুড়োতে জ্যাম ছাড়া রুটি খাওয়া যায়,কিন্তু অফিসে বেরোনোর পর এই জ্যাম প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে ফ্রি হিসেবে চিপকে থাকে। আপনি শত চেষ্টা করলেও এই জ্যাম ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারবেন না। তবে জানেন কি, পৃথিবীতে এমন একটি জ্যাম ছিল যা টানা ১২ দিন ধরে স্থায়ী ছিল। ১০০ কিলোমিটার জুড়ে রাস্তা জ্যাম হয়ে যায়। এমনকি বহু মানুষ ওই জ্যামে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার পাশে রান্না করে খেয়েছিলেন।

মাত্র১০ মিনিটের জ্যামে আপনি হয়তো অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে পড়েন। সেখানে ২০১০ সালে এমন জ্যাম তৈরি হয় যেখানে মানুষ টানা ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত জ্যামে আটকেছিল। এই জ্যামকে অনেকে বলেন পৃথিবীর সবথেকে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা ট্রাফিক জ্যাম। সর্বাধিক জনসংখ্যা বিশিষ্ট দেশ চীনে ট্রাফিক জ্যামটাও নিশ্চয়ই সর্বাধিক হবে। ২০১০ সালের আগস্ট মাসে বেজিং-তিব্বত এক্সপ্রেসওয়েতে জ্যাম হয়। সেই জ্যাম ১২ দিন ধরে চলে। এই জ্যামের দৈর্ঘ্য ছিল ১০০ কিলোমিটার। থমকে গিয়েছিল প্রায় কয়েক লক্ষ মোটরগাড়ি। যেখানে চীনের অন্যতম ব্যস্ততম জায়গা হল বেজিং, সেই বেজিংয়ের গতিকেই থামিয়ে দিয়েছিল এই জ্যাম।

কেন হয়েছিল এই জ্যাম?

২০১০ সালের আগস্ট মাসের শুরুতেই চীন প্রশাসন ঘোষণা করে দেশের একাধিক মহাসড়ক সংস্কারে কাজের জন্য বন্ধ করা হবে। ১৪ই আগস্ট থেকে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হতেই রীতিমত বিপর্যয় নেমে আসে। চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজপথগুলি বিশ্রী ভাবে ট্রাফিক জ্যামের শিকার হতে থাকে। যার ভয়াবহ পরিণতি রূপ পায়ে চীনের ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে। আগে কয়েকটি লেন একসাথে বন্ধ করা দেওয়া হয়েছিল। যার কারণে এই গতিময়তা কমতে থাকে। আর সেই পরিস্থিতিকে আরো কঠিন তৈরি করে তোলে অজস্র মালবাহী ট্রাক। তারপর যে কতটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে, তা ট্রাফিক কন্ট্রোল বোর্ড আঁচ করতে পারেনি। প্রায় ১২ দিন ধরে এই গাড়ির গুলি আটকে ছিল ১০০ কিলোমিটার পথ জুড়ে। সারাদিন ধরে একটু একটু করে গিয়ে কোন গাড়ির ভাগ্যে জুটে ছিল মাত্র এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার সুযোগ। কোন কোন গাড়ি আবার এক জায়গায় টানা দাঁড়িয়েছিল প্রায় দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত।

কথায় আছে, কারোর পৌষ মাস তো আবার কারো সর্বনাশ। এই ট্রাফিক জ্যামেও ঠিক তাই ঘটেছিল। এই ট্রাফিক জ্যামে রীতিমত ফুলেঁপে ওঠে ওই এলাকার হকাররা। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে খাবারের জিনিস থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম তারা প্রায় ১৫ গুন বেশি দামে বিক্রি করেছিলেন। এমনকি পানীয় জলের দাম হয়ে গিয়েছিল আকাশ ছোঁয়া। ট্রাফিক জ্যাম থেকে মুক্তি থেকে ওই গাড়ি গুলি মুক্তি পেলেও ভোগান্তি কাটেনি। কারণ হঠাৎ করে ট্রাফিক জট কাটার পর চীনে ছোট ছোট রাস্তাগুলিতে আবার নতুন করে জ্যাম তৈরি হয়। যার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে প্রায় কোটি কোটি মানুষকে। বহু মানুষ এই সময় মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন।

পৃথিবী বিখ্যাত কয়েকটি জ্যাম

•চীনের হাইনান এ ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় দশ হাজার গাড়ি আটকে গিয়েছিল। যার দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় দশ কিলোমিটার।

৳ভারতের গুরগাঁওতে বৃষ্টির জল জমার কারণে ট্রাফিক জ্যাম হয়েছিল ২০১৬ সালে। সেই জ্যামের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এই জ্যাম ঠিক করতে সময় লাগে প্রায় ১২ঘন্টা। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লেগেছিল প্রায় ২৪ ঘন্টা।

•ইন্দোনেশিয়ার বিব্রেসে হয়েছিল প্রাণঘাতী জ্যাম। ওই জ্যাম স্বাভাবিক হতে সময় লাগে প্রায় তিন দিন। ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ জ্যামে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ১২ জনের।

•রাশিয়ার মস্কোতে ২০১২ সালে মস্কো ও সেন্ট পিটসবার্গে যাওয়ার রাস্তার মধ্যে বরফ পড়ার কারণে প্রায় ২০০ কিলোমিটার জ্যাম তৈরি হয়। এটা স্বাভাবিক হতে সময় লাগে প্রায় তিন দিন। একইভাবে কুড়ি ইঞ্চি পুরু বরফ পড়ার কারণে ২০১১ সালে ১২ ঘন্টার জ্যামে শিকার হয়েছিলেন আমেরিকার শিকাগোর বাসিন্দারা।

•৭০ বছরের জ্যাম

১০ দিন, ১২ দিনের জ্যামে তোলপাড় সারা বিশ্ব। তবে জানেন কি বেলজিয়ামে টানা ৭০ বছর ধরে ট্র্যাফিক জ্যাম হয়েছিল। যা এখনো বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় রয়ে গিয়েছে। ৭০ বছরের পুরনো এই জ্যামটি তৈরি হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। ৭০ বছরের সেই জ্যামের ছবি দেখলে মনে হবে যেন কোন হরর মুভি থেকে নেওয়া দৃশ্য। যেখানে ১০০ থেকে প্রায় ১৫০টি বিভিন্ন মডেলের গাড়ি ধ্বংসাবশেষ নিয়ে বছরের পর বছর পড়ে থেকে তৈরি করেছিল পৃথিবীর বিখ্যাত গাড়ির কবরস্থান। এই নিঝুম শান্ত ভুতুড়ে জায়গাটি হয়ে উঠেছিল পুরো ইউরোপ যুগের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতির স্মারক। দক্ষিণ বেলজিয়ামে চাটিলীয়ন নামক একটি গ্রামের কাছে ছোট বন রয়েছে। সেখানে ১৯৪০ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বনের মধ্যে পড়েছিল পরিত্যাক্ত মরিচা ধরার গাড়ি। আসলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সৈন্যদের মধ্যে যারা দক্ষিণ বেলজিয়ামে কর্তব্য পালনরত ছিলেন তারা ওই গাড়িগুলি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories