Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

পুজো অনুদান সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানি শেষ, রায় দান স্থগিত আদালতে

।। প্রথম কলকাতা।।

চলতি বছরে ইউনেস্কোর হাত ধরে বাঙালির দুর্গাপুজো হেরিটেজ তকমা পেয়েছে। সে ক্ষেত্রে রাজ্যে এবার দুর্গা পুজো নিয়ে উৎসাহ চোখে পড়ার মতো । অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে হওয়ার সমন্বয়ে বৈঠকে জানিয়েছিলেন যে, এবার তিনি দুর্গাপুজা কমিটি গুলিকে অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। যা ৫০ হাজার ছিল তা হয়েছে ৬০ হাজার । বিদ্যুতের বিলেও বাড়ানো হয়েছে প্রায় ১০% ছাড়। এর পরেই পুজো অনুদানের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। সেই জনস্বার্থ মামলাগুলির শুনানি শেষ হল আজ।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে ছিল এই মামলার শুনানি। তবে জানা যায় , দুর্গাপুজোর অনুদান সংক্রান্ত মামলায় আপাতত রায়দান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট । এদিনের শুনানিতে দু পক্ষের মধ্যে সওয়াল জবাব শুরু হয় । রাজ্যের আইনজীবী সৌমেন্দ্র মুখোপাধ্যায় জানান, এই পুজো অনুদান দেওয়া হচ্ছে যাতে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করা যায় । এছাড়াও পর্যটন, সাংস্কৃতিক হেরিটেজের উন্নয়ন করা যায়। বিচারপতি এই বক্তব্যে পাল্টা প্রশ্ন করেন, টাকাগুলি যে নির্দিষ্ট খাতেই ব্যবহার করা হচ্ছে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে কীভাবে?

৯০% এরও বেশি ক্লাব নিজেদের ব্যয়ের শংসাপত্র দিয়েছেন। সেই ব্যয়ের শংসাপত্র, বিল এবং ভাউচার দেখে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব । একই সঙ্গে যে পরিমাণ টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে তাঁর অডিট করতেই হবে। কারণ এটি বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে। অন্যদিকে মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, জনসাধারণের টাকা এইভাবে পুজো কমিটিগুলোকে তুলে দেওয়া কখনই সঠিক হবে না । প্রত্যেকটি পুজো কমিটির বাজেট প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা হয়ে থাকে। কিছু কিছু পুজো কমিটির বাজেট তো এক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। সেই জায়গায় এই টাকা কোন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে প্রয়োজনে দেওয়া যেতে পারে।

মামলাকারীদের তরফ থেকে আরও জানানো হয় যে, ইউনেস্কোর তরফ থেকে দুর্গাপুজোকে হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলেই যে জনসাধারণের করের টাকা রাজ্য এইভাবে খরচ করবে , তা নয়। এই করের টাকাগুলি খরচ করতে গেলে রাজ্যপালের অনুমতির প্রয়োজন হয় । তবে ইতিমধ্যেই রাজ্যের তরফ থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বরাদ্দ পুজো অনুদানের বাজেট নিয়ে। মামলাকারীদের মতে, এটিকে আন্তঃদফতর নির্দেশিকা বলেই মনে করা হচ্ছে। এই সওয়াল জবাব পর্ব মিটলে শেষ হয় শুনানি কিন্তু আদালতের তরফ থেকে রায়দানের বিষয়টিকে এখনও পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories