Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অগ্নিপরীক্ষা নবান্ন অভিযান, মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন সুকান্ত-শুভেন্দু-দিলীপরা, সফলতা আসবে?

1 min read

।। সুচিত্রা রায় চৌধুরী ।।

চান্স ফিফটি ফিফটি৷ নাকি একেবারে ১০০ শতাংশই সফলতা আসলেও আসতে পারে বিজেপির নবান্ন অভিযানে? মাঠে ময়দানে মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন বঙ্গ বিজেপির তিন মাথা৷ সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষ৷ বঙ্গ বিজেপির এই ছতিছন্ন অবস্থায় নবান্ন অভিযান সফল করা কার্যত অগ্নিপরীক্ষার সমান বঙ্গ বিজেপির কাছে এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা৷ তাই এবার সব মান অভিযান, ইগো ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে দুরে সরিয়ে সমস্ত কর্মীদের এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা করছেন বিজেপি নেতৃত্ব৷ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন ১৩ সেপ্টেম্বর বিজেপি যে নবান্ন অভিযানের মেগা মিছিলের ডাক দিয়েছে তার লক্ষ্য কিন্তু মূলত দুটো৷

শাসকদলের বিরুদ্ধে গঠনমূলক বিরোধিতার কাজ আরও জোরদার করতে চেয়েই এই মেগা মিছিলের ডাক দিয়েছে বিজেপি৷ কিন্তু এটাই একমাত্র লক্ষ্য নয় বলছেন বিশ্লেষকেরা৷ তারা বলছেন এই মেগা মিছিলে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব আসলে বুঝে নিতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে বিজেপির অবস্থা আসলে কেমন? জেলায় জেলায় বুথে বুথে বিজেপি কর্মীরা কতটা সক্রিয়, কতটা কাজ করছেন তারা? নাকি কাজের সুযোগ থাকলেও হাত গুটিয়ে বসে রয়েছেন তারা৷ আর ঠিক সে জন্যই বঙ্গবিজেপির ওপর মহল থেকে বেঁধে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু লক্ষ্যমাত্রা৷ বেশ কিছু টার্গেট৷ কি সেই টার্গেট? কোন পন্থায় কোন কৌশলে জেলাওয়াড়ি সংগঠনগুলোকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে চাঙ্গা করতে চলেছে বিজেপি?

বছরের ‘সবথেকে বড় মিছিল’ করার প্ল্যান বিজেপির। এক মাস আগে থেকেই এই মিছিল করার ছক ঠিক হয়ে গিয়েছিল পদ্ম শিবিরে। শেষ কবে এত বড় মিছিল কলকাতার রাজপথে বিজেপি করেছে সেটা মনে করতে কষ্টই হচ্ছে, বলছেন পর্যবেক্ষকেরা৷ নবান্ন অভিযান কর্মসূচির সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার উপরই দলের জেলা সংগঠনগুলির হালহকিকত বিচার করতে চাইছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তা খতিয়ে দেখার পরেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি। কিন্তু ভাঙা সংগঠনে কি তা সম্ভব?‌ উঠছে প্রশ্ন। কিন্তু বিজেপির অন্দরের খবর বলছে, এই মিছিল ঘিরে তুমুল ব্যস্ততা রয়েছে গেরুয়া শিবিরে৷ নবান্ন অভিযান সফল করা এই মূহুর্তে বলা যেতে পারে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ বিজেপি নেতৃত্বের কাছে৷ সেজন্যই খুবই ছক কষে ছোট ছোট পার্টে ভাগ করে গোটা প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নেতৃত্বরা৷ মিছিলের ব্লু প্রিন্ট সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে তা হল, বিজেপির নবান্ন অভিযানে একটি নির্দিষ্ট মিছিল থাকবে না৷

আরো পড়ুন : ২০২৪র অগ্নিপরীক্ষায় নয়া সফটওয়ার আনল শাহ-নাড্ডারা, পাখির চোখ ১৪৪, কড়া সাবধানবাণী সাংসদদের

৩টি বড় মিছিল এবং বেশ কিছু ছোট মিছিল থাকবে৷ প্রত্যেকটি মিছিলের অভিমুখ থাকবে হাওড়ার নবান্নের দিকে৷ এর মধ্যে শিয়ালদহ থেকে একটি বড় মিছিল আসবে৷ মূলত উত্তর ২৪ পরগনার দমদম, বারাসত, ব্যারাকপুর, বনগাঁ, ঠাকুরনগরের পাশাপাশি দক্ষিণ কলকাতার বাকি এলাকার কর্মীরা এই মিছিলে ট্রেনে করে এসে যোগ দেবেন৷ এই মিছিলের নেতৃত্বে থাকবেন শুভেন্দু অধিকারী এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়৷ দ্বিতীয় বড় মিছিলটি আসবে হাওড়া ময়দান থেকে৷ হাওড়া লাইনের সঙ্গে বিভিন্ন জেলার সংযোগ রয়েছে ফলে বর্ধমান, মেদিনীপুর-সহ বাকি জেলাগুলির কর্মীরা এই মিছিলে যোগ দেবেন৷ এই মিছিলের নেতৃত্বে থাকবেন সুকান্ত মজুমদার ও অগ্নিমিত্রা পাল৷ তৃতীয় বড় মিছিলটির নেতৃত্ব থাকবেন দিলীপ ঘোষ৷ এই মিছিলটি কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হবে৷

জানা যাচ্ছে, যে যে জেলাগুলোকে টার্গেট করেছে বিজেপি৷ সেখানের সমস্ত কর্মীদের জমায়েত করাটাই এখন জেলা সভাপতিদের মূল দায়িত্ব৷ সেইমত দূরের জেলাগুলি থেকে কর্মীদের দুই দিন আগেই কলকাতার দিকে আসবে বলা হয়েছে। আর এবারের বিজেপির বিশেষ নজর জঙ্গলমহলের দিকে। সেখান থেকে রেকর্ড সংখ্যক মানুষকে এই মিছিলে টেনে নিয়ে যাওয়া বিশেষ লক্ষ্য গেরুয়া শিবিরের কাছে। তাই শেষ নবান্ন অভিযানে ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার রণকৌশল বদলাচ্ছে গেরুয়া শিবির৷

বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর নবান্ন অভিযান কর্মসূচির কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই দলের প্রত্যেক জেলা সংগঠনকে জমায়েতের ‘টার্গেট’ দিয়েছে রাজ্য বিজেপি। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণের উপরই দলের রাজ্য নেতৃত্ব এবং রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা সংগঠনের হালহকিকতের অনেকটাই বুঝে নিতে চাইছেন। তবে পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, সব জায়গায় যে লক্ষ্যামাত্রা পূরণ হবে সেই চান্স কিন্তু অনেকটাই কম৷ কারণ বেশ কিছু জেলার নেতারা নাকি জানিয়ে দিয়েছেন এই ভাঙা সংগঠন নিয়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে চেষ্টা করা যেতে পারে।

তবে সুকান্ত, শুভেন্দু, দিলীপ ঘোষেরা বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন, কর্মসূচি সফল করতে না পারলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে মুখ রক্ষার জন্য বিকল্প পথের সন্ধান করতে হবে। তাই কার্যত মাঠেই পড়ে রয়েছেন বিজেপির এই তিন নেতা সহ বাকি নেতারা৷ যে কোনও মতে নিচুতলার কর্মীদের উজ্জিবিত করার সমস্ত চেষ্টা চলছে৷ বিজেপি মনে করছে, এই মিছিলের মাধ্যমেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করার একটা বড় সুযোগ রয়েছে৷ শোনা যাচ্ছে, নবান্ন অভিযানের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কলকাতায় আসতে পারেন রাজ্য বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল। তবে সূত্রের খবর, সম্ভবত ১৩ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে বনশল উপস্থিত থাকবেন না। তবে এই খবর এখনও নিশ্চিত নয়৷

বিজেপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, সামগ্রিকভাবেই এই কর্মসূচি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যস্তরের যে কোনও কর্মসূচিতেও জেলাওয়াড়ি সংগঠনের ছবিটা পরিষ্কার হয়ে যায়। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না। তাছাড়া সন্ত্রাসের আবহে অনেক দলীয় নেতা–কর্মীই বাইরে বেরতে চাইছিলেন না। তাঁদের সক্রিয়তাও এবার এই মিছিলের মাধ্যমেই বুঝতে পারবেন দলীয় নেতৃত্ব৷

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories