Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ ছাড়া অসম্পূর্ণ মহালয়া , জানুন সেই অমর কাহিনী

1 min read

।। প্রথম কলকাতা।।

মহালয়ার ভোর মানেই ‘আশ্বিনের শারদ প্রাতে’ শুনে ঘুম ভাঙে বাঙালির । বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সেই কন্ঠ সেই সুর এবং সেই উচ্চারণ ভঙ্গি যা না শুনলে মহালয়া সম্পূর্ণ হয় না বাঙালির। তিনি চণ্ডীপাঠ না করলে যেন মহালয়ার দিনে দেবীর আগমনের কোন বার্তায় গিয়ে পৌঁছয় না বাঙালির হৃদয় পর্যন্ত। ইনি হলেন সেই বিখ্যাত বাচিক শিল্পী একাধারে বেতার সম্প্রচারক, গায়ক ,নাট্যকার, অভিনেতা এবং নাট্য পরিচালক বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। তাঁর ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র বেতার গীতি আলেখ্য এবং মহালয়ার মধ্যে এক নিবিড় সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে বাঙালিরা। যা এত সহজে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু কেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষাসুরমর্দিনী গেঁথে রয়েছে বাঙালির বুকে ? এর নেপথ্যেও রয়েছে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মত এক কাহিনী।

শৈশব থেকেই সংস্কৃত ভাষার শিক্ষা পেয়ে মাত্র ৮ বছর বয়সের চণ্ডীপাঠ করে সকলের আকর্ষণ নিজের দিকে টেনে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। পরবর্তীতে আবৃত্তি সহ নাটকেও যথেষ্ট উৎসাহ দেখা গিয়েছিল তাঁর । ভদ্র বাবুর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল ১৯২৮ সালে। তখন তিনি ইন্ডিয়া রেলওয়ে সদর দপ্তরের একজন কর্মী। চাকরি রেলে থাকলেও মন ছিল বেতার কেন্দ্রের দিকেই । যার কারনে রেডিওতে কাজ করা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে সময় কাটাতে বেশ পছন্দ করতেন তিনি । নিজের ডিউটি টাইম শেষ করেই সন্ধ্যের দিকে এসে উপস্থিত হতেন সেই বন্ধুদের আড্ডায়।

এরপর ধীরে ধীরে সময় গেল এবং বাড়তে থাকল তাঁর আগ্রহ তাঁর ইচ্ছা । অবশেষে এক সময় বেতার নাটকে সুযোগ পেয়ে গেলেন তিনিও । প্রথম তিনি একটি নাটক পরিচালনা করলেন যেখানে অভিনেতার তালিকায় ছিলেন পঙ্কজ মল্লিক, বাণীকুমার ভট্টাচার্য, পশুপতি চট্টোপাধ্যায় এর মত ব্যক্তিত্বরা । নাটকটির নাম ছিল ‘চিকিৎসা সংকট’। যা বেতারে সম্প্রচারিত হল ১৯২৮ সালের ২৬ শে আগস্ট । এরপর তিনি রেডিওর সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করলেন ১৯২৮ সালে । তবে তাঁর এই যোগদানের নেপথ্যেবড় হাত ছিল সেই সময়ের স্টেশন ডিরেক্টর নৃপেন মজুমদারের। তিনি বীরেন্দ্রকৃষ্ণকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

সেই সময় অল ইন্ডিয়া রেডিওর জন্যে কাজ করছেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ। দুর্গাপুজা উপলক্ষে বিশেষ কিছু সেগমেন্ট তৈরি করা হল। আর সেখানে মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠানের অংশ হলেন তিনি। সেই বেতার গীতির ভাষ্য লিখেছিলেন বাণীকুমার ভট্টাচার্য, সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন পঙ্কজ কুমার মল্লিক এবং রায়চাঁদ বড়াল। অন্যদিকে শ্লোকপাঠের দায়িত্ব পেলেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ। যখন এই অনুষ্ঠানটি শুরু হয় তখন কিন্তু এটি ষষ্ঠীর ভোরে পাঠ করা হতো । পরবর্তীতে এর সময় পরিবর্তন করা হল এবং মহালয়ার দিন ভোরে শোনানো হল ।

যেহেতু সেই সময় টেপ রেকর্ডিং করার মত সুব্যবস্থা এবং চল দুটিই ছিল না তাই আকাশবাণীর সব অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হতো। মহিষাসুরমর্দিনীও শুরু হয়েছিল ঠিক সেই ভাবেই। যেদিন অনুষ্ঠানটি করা হবে সেই দিন সকাল সকাল স্নান সেরে গরদের ধুতি- পাঞ্জাবিতে চণ্ডীপাঠ করতে বসতেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র । যা মানুষের কাছে দারুন জনপ্রিয়তা লাভ । এরপর ধীরে ধীরে তিনি একাধিক বেতার নাটক সম্পাদনার কাজ করেন। তাঁর কাজ ছিল একেবারেই নিখুঁত। কিন্তু এক সময় আকাশবাণীর তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল যে মহিষাসুরমর্দিনী এবার আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র নয় বরং শোনানো হবে উত্তম কুমারের কন্ঠে।

সালটা তখন ১৯৭৬। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চিরাচরিত মহিষাসুরমর্দিনীর বদলে উত্তম কুমারের মহিষাসুরমর্দিনী পাতে তুলল না বাঙালি, বরং হিতে বিপরীত। আকাশবাণীর অফিসে ক্ষিপ্ত জনতা চালালেন ভাঙচুর। যা প্রমাণ করে দিল মহিষাসুরমর্দিনী শুধুমাত্র বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে শুনতে পছন্দ করেন বাঙালি এবং আগামীতেও করবেন। ওই অনুষ্ঠানের চরম ব্যর্থতার পর ষষ্ঠীর দিনে ফের বীরেন্দ্রকৃষ্ণের মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচার করা হল। বীরেন্দ্রকৃষ্ণের জায়গায় অন্যকন্ঠ শোনানোর দেখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে সফলতা পাওয়া যায়নি। যার কারণে এখনও পর্যন্ত ঠিক সেই আগের মতই জনপ্রিয় ভদ্র বাবুর মহিষাসুরমর্দিনী।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories