Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বেলুড় মঠে কুমারী পুজো এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? রয়েছে স্বামীজীর ভূমিকা

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

দুর্গাপুজোর নিয়ম গুলির মধ্যে অন্যতম হল কুমারী পুজো। গায়ে লাল বেনারসি শাড়ি, কপালে চন্দন, হাতে পদ্ম ফুল, আর ছোট্ট মুখে পরিতৃপ্তি হাসি। এই ভাবেই দেবী রূপে সেজে ওঠেন কুমারী। প্রতিবছর বেলুড় মঠে পালিত হওয়া কুমারী পুজো বেশ বিখ্যাত। এখানকার কুমারী পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস এবং মাহাত্ম্য। শ্রীরামকৃষ্ণের ভাবনা থেকেই বেলুড়ে কুমারী পুজোর শুরু। পরবর্তীকালে স্বামী বিবেকানন্দ দুর্গাপুজোর সময় বেলুড় মঠে কুমারী পুজোর সূচনা করেন। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, কোলাসুরের হাত থেকে দেবতাদের রক্ষা করতে কুমারী রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন দেবী। যে কোলাসুরকে দেবকুলের কেউ বধ করতে পারছিলেন না, সেখানে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন মহাকালীর কুমারী রূপ।

বেলুড় মঠের কুমারী পুজোর সঙ্গে মিশে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস। মনে করা হয়, এখানে পুজোর সময় খেয়াল রাখা হয় যেন অভুক্ত থেকে কুমারী কষ্ট না পান। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী পুজোর কুমারী খাবার খেলে তা বিশ্ব ভুবনকে খাওয়ানো হয়। কুমারী পুজোর সময় বেলুড় মঠে শুধুমাত্র হাওড়া-কলকাতা নয়, সারা বিশ্বের ভক্তরা এখানে হাজির হন। বেলুড় মঠের দুর্গাপূজা সারা বিশ্বজুড়ে বেশ ঐতিহ্যবাহী পুজো হিসেবে পরিচিত। এখানে স্বামী বিবেকানন্দের হাত ধরে দুর্গাপুজোর সময় কুমারী পুজোর সূচনা হয়, সময়টা ছিল তখন ১৯০১ সালে। তারপর থেকে বহু বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো নিয়ম নীতি মেনে রীতিমত জাঁকজমকপূর্ণভাবে এখানে কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়।

বেলুর মঠে স্বামীজীর দুর্গাপুজোর সূচনার পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। তৎকালীন গোঁড়া হিন্দু সমাজ বিবেকানন্দের পশ্চিমী যাত্রা কিংবা বিভিন্ন বর্ণের মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া মেনে নিতে পারেননি। মানুষের মন থেকে এই ভ্রান্ত ধারণা দূর করতেই তিনি নতুন ভাবধারা প্রসারের জন্য বেলুড় মঠে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন। পাশ্চাত্য দেশে স্বামীজী দেখেছিলেন নারীদের প্রতি সমাজের উদার এবং আধুনিক মানসিকতা। তিনি চেয়েছিলেন দেবী দুর্গার আরাধনা বিশেষ করে কুমারী পুজোর মাধ্যমে আমাদের দেশের নারীদের প্রতি যে অবহেলায় কিংবা প্রাচীন মানসিকতা রয়েছে তা দূর করতে।

এছাড়াও শোনা যায়, দুর্গা পুজোর কিছুদিন আগেই স্বামীজি পুজোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, বেলুড় মঠের তৎকালীন দু-একজন মহারাজও মায়ের আগমনের দৃশ্য দেখেন। তারপরেই রমরমিয়ে শুরু হয় দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। দেবীর সুন্দর একটি মূর্তি এসেছিল কুমোরটুলি থেকে। তবে বেলুড় মঠের দুর্গা পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হলো কুমারী পুজো। অষ্টমীর দিন সকালে এক কুমারীকে গঙ্গাস্নান করিয়ে, গায়ে গয়না, পায়ে আলতা, লাল বেনারসি সহযোগে দেবী রূপে সাজানো হয়। ওই কুমারীর মধ্য দিয়েই খোঁজা হয় দেবী দুর্গাকে। আগে বেলুড় মঠে সন্ধিক্ষণে পশু বলি হত। কিন্তু মা সারদার আদেশে পশু বলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার বদলে এখন প্রচলিত রয়েছে ফল বলি।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories