Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

কুমারীর হাতে ভয়ঙ্কর অসুর বধ! কুমারী পুজোর নেপথ্যে কোন কাহিনী?

।। প্রথম কলকাতা ।।

পুজোর বাদ্যি বাজলো বলে। ইতিমধ্যেই মণ্ডপে মণ্ডপে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। পুজোর কয়েকটা দিনের মধ্যে বিশেষ দিন হল অষ্টমী। এই দিন সকাল থেকেই তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় অঞ্জলি দেওয়ার জন্য। যারা ঘুমকাতুরে তারাও খুব তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়ে ওঠে পড়েন। আর এই দিনেই রয়েছে কুমারী পুজো। এই পুজো নিয়ে বহু মানুষের মনের নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খায়। কুমারী পুজোকে ঘিরে মানুষের মনে কৌতূহলের শেষ নেই। কেন করা হয় কুমারী পুজো? জানেন কি? সেই ১৯০১ সাল থেকে প্রতিবছর বেলুড় মঠে মহা ধুমধাম করে এই পুজোর নিয়ম রয়েছে। এছাড়াও বহু বনেদি বাড়ি, মন্দির কিংবা ক্লাবগুলিতে কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়। কুমারী পুজোর জন্য বেছে নেওয়া হয় ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী কুমারীদের। বয়স অনুযায়ী প্রত্যেক কুমারীর নাম আলাদা হয়।

কুমারী পুজোর নেপথ্যে রয়েছে এক দারুণ পৌরাণিক কাহিনী। বহু আগে মুনি ঋষিরা মনে করতেন নারীরা হলেন প্রকৃতির সমান। কুমারী পুজোর মধ্য দিয়ে প্রকৃতিকে আরাধনা করা হয়। অপরদিকে মানুষের মধ্যেই বাস করছে ঈশ্বর। তবে যাদের মন একেবারে নিষ্পাপ এবং সৎ তাদের মধ্যেই ভগবানের বাস। তাই কুমারীদের দেবী রূপে আরাধনা করা হয়। ফুলের মালা, মুকুট, পায়ে আলতা, নতুন বস্ত্র, তিলক দিয়ে সাজানো হয় কুমারীদের।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কুমারী পুজোর জন্য নির্বাচিত করা হয় ৫ থেকে ৭ বছর বয়সী কুমারীদের। দেবী পুরাণে এই পুজোর উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্র অনুযায়ী ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী যে বালিকারা ঋতুমতী হবে না, তাদের কুমারী রূপে পুজো করা যাবে। বহু প্রাচীনকালে দুর্গা পুজোর সূচনা হয়। দুর্গা পুজোর রীতি গুলির মধ্যে অন্যতম হল কুমারী পুজো। বৈদিক সাহিত্যেও দেবী দুর্গার পরিচয় রয়েছে। শুধুমাত্র দুর্গাপুজো নয়, অন্নপূর্ণা পুজো, কালীপুজো এমনকি জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষেও বহু জায়গায় কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়ে থাকে।

শাস্ত্র অনুযায়ী, এই বিশেষ পুজোর উৎপত্তি কোলাসুরের বধের মধ্য দিয়ে। একসময় কোলাসুর স্বর্গ এবং মর্ত দখল করে নিয়েছিলেন। যার কারণে দেবতাগণ অসহায় হয়ে ছুটে গিয়েছিলেন মহাকালীর কাছে। দেবতাদের উদ্ধারে দেবী কুমারী রূপে কোলাসুরকে বধ করেছিলেন। তারপর থেকেই মর্তে কুমারী পুজোর প্রচলন শুরু হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থে কুমারী পুজোর কথা পাওয়া যায়। শোনা যায়, শ্রী রামকৃষ্ণ নিজের স্ত্রীকে ষোড়শী জ্ঞানে পুজো করেছিলেন। পরবর্তীকালে বেলুড় মঠের দুর্গা পুজোতে কুমারী পুজোর প্রচলন করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories