Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ওয়ারেন হেস্টিংস সস্ত্রীক আসতেন পুজোয়! রইল ইতিহাসের গন্ধ মাখা বনেদি বাড়ির গল্প

।। প্রথম কলকাতা ।।

আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। অক্টোবরের প্রথম থেকেই ২০২২এর দুর্গা পুজোর শুরু। গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে শহরাঞ্চল, দেবী আরাধনার আয়োজন এখন তুঙ্গে। কলকাতার নানান ক্লাবে বিশেষ বিশেষ থিম সজ্জার পরিকল্পনা চলছে। আর এসব থেকে বাদ পড়ে না গ্রামাঞ্চলের বনেদি বাড়ির সাবেকি পুজো গুলি। ৩৫৭ বছরে পদার্পণ করলো বারইপুর সাউথ গড়িয়ার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজো। এই বাড়ির পুজোর ষোল আনা মোড়া সাবেকিয়ানা আর আভিজাত্যে।বারুইপুর ব্লকের সাউথ গড়িয়ার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি বেশ বিখ্যাত। প্রতিবছর দুর্গাপুজোর সময় আশেপাশের গ্রামাঞ্চল থেকে লোকজন এই পুজোয় উপস্থিত হন। একসময় এই পুজোতে উপস্থিত থাকতেন সস্ত্রীক ওয়ারেন হেস্টিংস। এছাড়াও তৎকালীন সময়ে ব্রিটিশ সরকারের অনেক পদাধিকার ব্যক্তি এই জমিদার বাড়ির পুজোতে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

এই জমিদার বাড়িতে দুর্গাপুজোর সূচনা হয়েছিল ১৬৬৫ সালে। রাজকিশোর বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই এই পুজোর সূচনা। তিনি ছিলেন নবাবের খাজাঞ্চি। এই জমিদার বংশের আগে জমিদারি ছিল দক্ষিণ বারাসাতে। পরে সাউথ গড়িয়া এলাকায় চলে আসেন। প্রতিবছর এখানে নিয়ম নিষ্ঠা মেনে জাঁকজমক ভাবে পুজোর আয়োজন করা হয়। একসময় এখানে পুজোর বিসর্জনের সময় বন্ধুক থেকে দুটি ফাঁকা গুলির আওয়াজ করা হত। এছাড়াও ছাড়া হতো বিশেষ পাখি। মনে করা হতো মায়ের স্বর্গে প্রত্যাবর্তনের আগাম বার্তা পৌঁছে দেবে এই পাখি। বর্তমানে পুজোর নিয়মের একটু হেরফের হয়েছে। আগে এখানে তিনদিন ধরে ছাগ বলি দেওয়া হত। সাউথ গড়িয়া এলাকাতেই রয়েছে বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী ঠাকুর ভাসান পুকুর। সেখানে আগে এই জমিদার বাড়ির প্রতিমা বিসর্জন হত, তারপর ওই এলাকার অন্যান্য ক্লাবের কিংবা বাড়ির ঠাকুর বিসর্জন করা হত।

বন্দোপাধ্যায় পরিবারের পূর্ব পুরুষরা মুঘল সাম্রাজ্যে খাজাঞ্চি হিসেবে কাজ করেছেন। সাউথ গড়িয়াতে ছিল তাদের কাছারি বাড়ি। এখানেই ঠাকুর দালান তৈরি করে দুর্গাপুজোর শুরু করা হয়। পরবর্তীকালে এই পুজোর দায়িত্ব নেন যদুনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সময়ে পুজোর নিয়মে বেশ কিছু নিয়মের পরিবর্তন হয়েছিল। তিনি তৈরি করেছিলেন পুজোর ট্রাস্টি, জমিদারি দায়িত্ব বদল হলেও পুজোর কিছু নিয়মে এখনো পর্যন্ত পরিবর্তন হয়নি। নিয়ম করেই পঞ্চমীতে মায়ের বোধন হয়, ষষ্ঠীতে অধিবাস, সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান দিয়ে শুরু হয় দেবী আরাধনা। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত জমিদার বাড়ির পুজোর প্রাঙ্গণে দরিদ্র নারায়ণ সেবা এবং ভোগ বিতরণের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও অষ্টমীতে কুমারী পুজোর চল রয়েছে। আগে নবমীতে পাঁঠা বলি হলেও এখন চাল কুমড়ো, কলা, আখ প্রভৃতি বলি দেওয়া হয়।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories