Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বিজয়া দশমী নয়, মহাষ্টমীর দিনেই সিঁদুর খেলার আয়োজন করা হয় হাওড়ার এই বনেদি বাড়ির পুজোয়

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর প্রতিটি দিনের নিজস্বতা, স্বাতন্ত্র আছে, প্রত্যেকটা দিনের রয়েছে সুনির্দিষ্ট পরম্পরা। মহাষষ্ঠীর বোধন, মহাষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি, মহানবমীর মহাযজ্ঞের মতো বিজয়া দশমীর দিনের অন্যতম পরম্পরা হল সিঁদুর খেলা। আগে মূলত বিবাহিত মহিলারা এই খেলায় অংশগ্রহণ করলেও এখন অবিবাহিত এমনকি বিধবা মহিলারাও এতে অংশগ্রহণ করে থাকেন। মা দুর্গাকে সিঁদুর পরিয়ে বরণ করার পর নিজেরা একে অপরের মধ্যে সিঁদুর খেলায় মেতে উঠেন। পাল্লা দিয়ে চলে ঢাকের আওয়াজ। বিজয়া দশমীর দিন সিঁদুর খেলা বাঙালির দুর্গোৎসবের একটা অন্যতম বৈশিষ্ট্যই বলা চলে। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন, মহা অষ্টমীর দিনে কোথাও সিঁদুর খেলার আয়োজন।

আশ্চর্য হলেও এটা সত্যি যে, হাওড়া সাঁকরাইলের পালবাড়ির দুর্গাপুজোয় মহাষ্টমীর দিনেই হয় সিঁদুর খেলা।হাওড়ার সাঁকরাইলের পালবাড়ির দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য ২০০ বছরের পুরনো। এই বাড়ির পূর্বপুরুষ চূড়ামণি পাল ছিলেন আন্দুল রাজার দেওয়ানী। প্রথম দিকে একেবারে গঙ্গার ধারে ছিল তাঁর দালান বাড়ি। কিন্তু নদী ভাঙ্গনের ফলে সেই বাড়ি একসময় তলিয়ে গেছে। একসময়, আন্দুল রাজারা সাঁকরাইলের রাজগঞ্জ-বানিপুর এলাকায় তিনটি গ্রাম নিঃশুল্ক শর্তে চূড়ামণি পালকে প্রদান করেছিলেন। আনুমানিক ১৮২০ সালে সেখানে তিনি বিরাট অট্টালিকা নির্মাণ করেন। এখানেই হয় পুজো।

জন্মাষ্টমীর দিন থেকেই মায়ের মূর্তি গড়ার কাজ শুরু হয়। মহালয়ার দিন ঘট স্থাপন করে পুজোর সূচনা। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন থেকে শুরু হয় পুজো। বৈষ্ণব মতে পুজো করা হয়। বিরাট দালানের গোল গম্বুজের আনাচে-কানাচে চোখ রাখলেই ঐতিহ্যর কথা মনে পড়ে। আর এই পালবাড়ির পূজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সিঁদুর খেলার আয়োজন করা হয় মহা অষ্টমীর দিনে। এর কারণ হিসেবে জানা যাচ্ছে, বিজয়া দশমীর দিন মা দুর্গার বিসর্জন। মা চলে যাওয়ার দুঃখে বাড়ির মহিলারা এদিন সিঁদুর খেলতে ইচ্ছুক নন। এ কারণে বিজয়া দশমীর পরিবর্তে মহাষ্টমীর দিনেই সিঁদুর খেলার আয়োজন করা হয়। যা বহুদিনের ঐতিহ্য।

এই পরিবারের অন্যতম পূর্বপুরুষ ছিলেন নফর চন্দ্র পাল। যিনি একসময় কলকাতায় একাধিক ইটভাটা তৈরি করেছিলেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে কলকাতার অনেক স্থাপত্য তৈরীর কাজে এখানকার ইট ব্যবহৃত হয়েছিল। তাঁর আমলে অন্য মাত্রা লাভ করে এই বাড়ির পুজো। এই বাড়ির পুজো ভবিষ্যতে যাতে কখনো বন্ধ না হয়, যাতে অর্থের সমস্যা না হয়, সে কারণে পূর্বপুরুষেরাই একটি বিশাল জমি দেবোত্তর সম্পত্তি করে ট্রাস্ট তৈরি করে দিয়েছিলেন।

সেই ট্রাস্টই পূজোর সমস্ত খরচ বহন করে। শুধুমাত্র দুর্গাপুজো নয়, রথযাত্রা, বাড়ির নিত্যদিনের পুজোর খরচও বহন করে ট্রাস্ট। বর্তমানে কর্মসূত্রে এই বাড়ির অনেক সদস্যই এখন বাইরে থাকেন। তবে পুজোর দিনগুলোতে সকলে মিলিত হন। একটা সময় এই বাড়িতে তোপ ধ্বনির পর ধুনো পোড়ানোর রীতি প্রচলিত ছিল। তখনকার দিনে সন্ধি পুজোর সময় গৃহকর্তী ধুনো পোড়াতেন, তখন তা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসতেন। এখন আর তা নেই, সে সবই স্মৃতি।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories