Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

৮৯-তেও এভারগ্রিন, জন্মদিনে রইলো সঙ্গীত সম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলের জানা অজানা কাহিনী

1 min read

।।  প্রথম কলকাতা ।।

শুধু বলিউডই নয় সারা দেশকে সুমিষ্ট কন্ঠ দিয়ে মাতিয়ে রেখেছেন দশকের পর দশক। আজ বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর ৮৯তম জন্মদিন। কথা হচ্ছে সুর সম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে কে নিয়ে। বলিউডে কর্ম জীবন শুরু করেছিলেন ১৯৪৩ সালে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ব্যপ্তি ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। এই ২০২২ সালে দাঁড়িয়েও আমরা একইভাবে তাঁর কণ্ঠে মজতে ভালবাসি, একইভাবে তাঁর গানে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন আট থেকে আশি। প্রায় ৬ দশক ধরে শুধু সিনেমায় নয়, তিনি একাধিক ব্যক্তিগত অ্যালবাম ও গানও রিলিজ করেছেন। দেশে, বিদেশে তাঁর অনুরাগীদের সংখ্যা নেহাত কম নয়।

১৯৩৩ সালের ৮ ই সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সঙ্গলি জেলাতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আশা ভোঁসলে। বাবা দীনানাথ মঙ্গেশকার ছিলেন জনপ্রিয় সঙ্গীতজ্ঞ। বড় হয়েছেন সঙ্গীতের পরিবেশের মধ্যেই। ১৯৪৩ সালের মারাঠি ছবি ‘মাঝা বোল’ এ গান গেয়ে নজর কাড়েন শ্রোতাদের। তারপর ১৯৪৮ সালের ‘ চুনারিয়া ‘ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে দিদি লতাজির সেক্রেটারি গণপত রাওয়ের সাথে পরিবারের অমতে বিবাহ করেছিলেন এই কিংবদন্তী শিল্পী। সেসময় পরিবারে তাঁকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় নানান বিতর্ক। বিয়ের পর বহু দিনের জন্য ছেড়ে দিতে হয় গান। তারপরে সবকিছু ভুলে গিয়ে আবার নতুন করে প্রবেশ করেন সঙ্গীত জগতে। মানুষের মনে জায়গা করে নেন সুরের মাধ্যমে। কিন্তু ততদিনে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে গণপতি রাওয়ের সাথে। তারপর আশা ভোঁসলের সাথে বিবাহ হয় সঙ্গীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মনের।

বলিউড সিনেমা জগতে গানের ক্ষেত্রে যে বিরাট পরিবর্তন এসেছিলে, তার অন্যতম কান্ডারি ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী, তথা রকস্টার আশা ভোঁসলে। ২০ টি ভাষায় প্রায় ১১,০০০ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন তিনি। আর এই সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ড করার জন্য আশা ভোঁসলের নাম উঠেছে গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। গানের জন্যই ভারত সরকারের তরফ থেকে পেয়েছেন ‘ পদ্মভূষণ’। তিনি কখনই এক নম্বর হওয়ার দৌড়ে সামিল হননি। তিনি সবসময় চেয়েছেন শ্রোতাদের মনোরঞ্জন করতে এবং সেই সঙ্গে নতুন কিছু শিখে নিতে। শিল্পীর জীবন নানা কারণে ক্ষতবিক্ষত হলেও তিনি আমাদেরকে উপহার দিয়েছেন মনভোলানো গানের। অথচ তাঁর গানগুলি শুনলে অনেক মানুষের জীবনের বেদনা কিছুটা হলেও কমে।

তিনি বিশ্বাস করেন যে রান্না এবং গানের মধ্যে একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সঠিক উপাদান দিয়ে রান্না করলে যেমন খাবার সুস্বাদু হয়, তেমনই সঠিক তাল লয় ছন্দ মিলিয়ে শ্রুতিমধুর গান তৈরী হয়। এছাড়াও মন থেকে ভালো রান্না করলে যেমন খাবার খেতে ভালো লাগে, তেমনই মন থেকে গাইলে গানও ভালো লাগে গাইতে। আর রান্নার প্রসঙ্গতেই বলা যাক, গানের পাশাপাশি তিনি রান্নাতেও পারদর্শী। বর্তমানে আশা’জ রেস্টুব়্যান্ট’-এর মালিক তিনি। ভারত সহ দুবাইয়ে রয়েছে এই চেইন রেঁস্তোরার আউটলেট। কিছুদিন আগে সেখানেই জমিয়ে পোলাও রান্না করতে দেখা গিয়েছিল অভিনেত্রীকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই ভিডিয় দেখে শিল্পীর প্রশংসায় মেতেছিলেন সকলে। বলাই বাহুল্য বয়স ৯০-এর গন্ডি ছুঁই ছুঁই হলেও বয়সকে কোনও দিনই কিছুতে বাঁধা হতে দেন নি তিনি। সবসময় এভারগ্রিন তিনি। কোনও কাজে অনীহা নেই তাঁর।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories