Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বাংলাদেশের ঝুলিতে ৫ দুর্ধর্ষ অস্ত্র! তবে কি বিপাকে পড়বে মায়ানমার?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বাংলাদেশের মাটির শক্ত করেছে বেশ কয়েকটি অস্ত্র, যা দেখে ভয় পায় প্রতিবেশী দেশ। বাংলাদেশের ঝুলিতে রয়েছে এমন কিছু অস্ত্র যা বিশ্বের অনেক দেশেই নেই। এমনকি কেউ যদি এই দেশকে দুর্বল ভাবে তাহলে তিনি ভুল করবেন। বাংলাদেশের এই বিশেষ কয়েকটি অস্ত্রের জন্য ভয় পায় প্রতিবেশী দেশগুলি। এমনকি কখনো কখনো মায়ানমারকেও বুঝে শুনে পা ফেলতে হয়। কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশের সীমান্তের বান্দরবানের ঘুমধুম এলাকার কাছে দুটি মর্টার শেল এসে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে মায়ানমারের দিক থেকেই ওই দুটি মর্টার শেল ছোঁড়া হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

১. WS 22a multiple লঞ্চ রকেট সিস্টেম

বাংলাদেশের ঝুলিতে থাকা ভয়ানক অস্ত্র গুলির মধ্যে অন্যতম হলো WS 22a multiple লঞ্চ রকেট সিস্টেম। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩৬ টি লঞ্চ রকেট সিস্টেম। ৪৭( মতান্তরে ৪৫) কিলোমিটারের মধ্যে যে কোন বস্তুকে নিমেষে ধ্বংস করে দিতে পারে এই সিস্টেমটি। জানা যায় বাংলাদেশের এই মারাত্মক অস্ত্রকে প্রতিরোধ করার মত কোন অস্ত্র এখনো পর্যন্ত মায়ানমারের ঝুলিতে নেই। এর এক একটি ইউনিট বহন করতে পারে এই ৪০টি করে শেল, যার প্রত্যেকটির ওজন প্রায় ৭৩.২ কেজি। বাংলাদেশের ভাণ্ডারে থাকা এই অস্ত্র প্রতিবেশী দেশের কাছে অনেকটা হুমকির মত।

২. Ulsan class frigate বা BNS বঙ্গবন্ধু

এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাস। এটি যখন বাংলাদেশের নৌ-বহরের সঙ্গে যুক্ত হয় তখন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এটি ছিল একদম প্রথম তালিকায়। জানা যায়, তখন ভারত আর পাকিস্তানের কাছেও এই ধরনের কোন frigate ছিল না। এটিতে রয়েছে আটটি জাহাজ ধ্বংসকারী মারাত্মক মিসাইল যা প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে যে কোনো লক্ষ্যবস্তুকে নিমেষে ধ্বংস করতে পারে। এছাড়াও রয়েছে এফএম-৯০এন বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ২টি সুপার ব্যারিকেড চ্যাফ লঞ্চার। এটিতে রয়েছে একটি অ্যাটাক হেলিকপ্টার। যা জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও টর্পেডো বহন করে। এটি কখনো একা চলে না। এর আশেপাশে বেশ অনেকগুলি যুদ্ধজাহাজ থাকে, আকাশে থাকে যুদ্ধবিমান এবং জলের নিচে সাবমেরিন। বর্তমানে এটি শত্রুদের কাছে বেশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে।

৩. YAK 135 Aircraft

এই দুর্ধর্ষ মডেলের যুদ্ধবিমান নাকি শুধুমাত্র রাশিয়া আর বাংলাদেশের কাছে রয়েছে। এটি এই দুই দেশের বন্ধুত্বের একটি প্রতীক। এটি রাশিয়া থেকে আনা হয়েছে। মূলত ট্রেনিংয়ের জন্য তৈরি হলেও যুদ্ধের সময় লাইট ফাইটার জেট হিসেবে কাজ করে। সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই যুদ্ধবিমানটি খুব ছোট রানওয়ে থেকেও অনায়াসে উড়তে পারে। এর ওজন প্রায় ৭২৫০ কেজি। প্রতি ঘন্টায় ১২৭ কিলোমিটার বেগে এটি দৌড়াতে পারে। এটি খুব সহজেই ৩০০০ কেজি ওজন বহন করতে পারে। এই বিমানটিতে রয়েছে নয় ধরনের মিসাইল, এছাড়াও রয়েছে ৩২ টি মেশিনগান। এই যুদ্ধবিমানের দুই পাখার নিচে রয়েছে বিমান বিধ্বংসী মিসাইল। এটি পরিচালনা করে একজন পাইলট, তাই তার নিরাপত্তার সমস্ত রকম খুঁটিনাটি ব্যবস্থা এখানে রয়েছে। বাংলাদেশের এই যুদ্ধবিমানটি মায়ানমারের কাছে অনেকটা দুঃস্বপ্নের মত।

৪. Type 35G ming class সাবমেরিন

বাংলাদেশের এই সাবমেরিনটি প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে রীতিমত হুমকির মত। বর্তমানে বাংলাদেশের নৌবাহিনীতে এই সাবমেরিন দুটি রয়েছে, যা চীন থেকে কেনা। যদিও খুব দ্রুত আরও চারটি সাবমেরিন যোগ হতে চলেছে। অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে, বাংলাদেশের সাবমেরিন গুলো একটু ওল্ড মডেলের। কিন্তু একেবারেই নয়। সময়ের সাথে সাথে সেগুলির প্রয়োজন মত আপডেট করা হয়েছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর এই সাবমেরিন দুটি প্রায় ৩৬ টি টর্পেডো বহন করতে পারে। এটি ১৫ কিলোমিটার দূরে থাকা উড়োজাহাজকে নিমেষে ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। মায়ানমারের পক্ষে এই সাবমেরিন ধ্বংস করা একেবারেই সহজ নয়। কারণ মায়ানমারের ঝুলিতে এটি ধ্বংস করার মত উপযুক্ত কোন এয়ারক্রাফ্ট নেই।

৫. বজ্র ১

বর্তমানে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে বজ্র ১ নামক ব্যালিস্টিক মিসাইল। মনে করা হচ্ছে, এটি তৈরি হলে বাংলাদেশের সক্ষমতা আগে থেকে আরও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে।

এসবের পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে থেকেই যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে বাংলাদেশের ঝুলিতে, যার মধ্যে অন্যতম হল

• অটোমেট এমকে ২ ব্লক ৪

এটি ইতালির কাছ থেকে কেনা। এই ফ্রিগেট রেডি টু ফায়ার মুডে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। এর সর্বোচ্চ ২১০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

•C802A

বাংলাদেশের নৌবহরে থাকা এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেঞ্জের ক্ষেপণাস্ত্র। চিনের তৈরি এই মিসাইল বিভিন্ন যুদ্ধ জাহাজে ব্যাপক হারে ব্যবহার করা হয়। এর রেঞ্জ প্রায় ১৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

•R27

এটি বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর বহরে থাকা সর্বোচ্চ রেঞ্জের এয়ার টু এয়ার ক্ষেপণাস্ত বলে মনে করা হয়। এটি অনায়াসে ৮০ কিলোমিটার দূরে থাকা শত্রুর যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে পারে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories