Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অবিশ্বাস্য, ভারতে আছে শূন্য টাকার নোট! হাতে পেয়েছেন কখনো?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

শূন্য টাকার নোট! প্রথমে শুনেই থতমত খেলেন তো? এ আবার কেমন কথা? নোট মানেই তো তার একটা মূল্য থাকবে। যে মূল্যের বিনিময়ে বাজারে কিছু কিনতে পারবেন। সেই নোটের মূল্যই যদি শূন্য হয় তার কি আদৌ কোন দাম থাকবে? শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি। ভারতে প্রচলিত রয়েছে এই শূন্য টাকার নোট। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই শূন্য টাকার নোট দিয়ে আপনি কি বাজারে কিছু কিনতে পারবেন? বিস্তারিত জানতে পড়ুন এই প্রতিবেদনটি।

এই শূন্য টাকার নোট পেতে গেলে আপনাকে কোন শ্রম করতে হবে না অর্থাৎ কোন কাজ করার বিনিময়ে এই টাকা পাওয়া যায় না। তবে যদি এই টাকা আপনার হাতে আসে তবে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। অনেকে মনে করেন, এই নোট হাতে না আসাই ভালো। ভাবলে অবাক হবেন, এই টাকা দিয়ে নাকি ঘুষ পাওয়া যায়।

এই শূন্য টাকার নোট বানানোর পিছনে ছিল বিশেষ উদ্দেশ্য। এটি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার নয়। এটি ছিল ঘুষ দেওয়া এবং নেওয়ার বিরুদ্ধে একটি হাতিয়ার। অনেকটা ৫০ টাকার নোটের মতো দেখতে শূন্য টাকার নোটটি তৈরি করে দক্ষিণ ভারতের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। প্রথম দেখাতেই মনে হবে হুবহু ৫০ টাকার নোট। ২০০৭ সালে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই নোট বাজারে এনেছিল পঞ্চম পিলার নামে। এই নোটের উদ্দেশ্য সরকারি স্তরে দুর্নীতি কিংবা ঘুষ দেওয়া-নেওয়া বন্ধ করা।

এই নোটের ভাবনা প্রথম মাথায় এসেছিল মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সতীন্দ্রমোহন ভগবত নামক এক পদার্থবিদ্যা শিক্ষকের। যে ভাবে দিনের পর দিন দুর্নীতি বেড়েই চলছিল তার প্রতিবাদ করতে ২০০১ সালে তিনি শূন্য টাকার কথা বলেন, যার বাস্তবায়ন হতে সময় লাগে প্রায় ছয় বছর। প্রথমে এই নোটটি ছাপা হয়েছিল সংখ্যায় প্রায় ২৫ হাজার। এমনকি সেই সময় চেন্নাই শহরের সাধারণ মানুষও এই নোট হাতে পেয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, এখনো পর্যন্ত ২৫ লক্ষ শূন্য টাকার নোট সারা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে।

মূলত দুর্নীতি সম্পর্কিত সচেতনতা ছড়াতেই এই নোট বাজারে আনা হয়েছিল। সাধারণত ৫০ টাকার নোটের উপরে যেখানে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া লেখা থাকে, সেক্ষেত্রে এই জিরো টাকার নোটে লেখা রয়েছে ‘এলিমিনেট করাপশন অ্যাট অল লেভেল’।

ভারতের বাজারে এখনো ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০ টাকা কিংবা ১০০ টাকার নোটের মতই এই শূন্য টাকার নোটেরও প্রচলন রয়েছে। এই নোটের বিনিময়ে আপনি কিছু কিনতে পারবেন না। বাজারের এর কোন মূল্য নেই। তবে মানুষকে শিক্ষা দিতে এই নোটের জুড়ি মেলা ভার। কোন সরকারি অফিসার যদি কাজের জন্য ঘুষ চান তাহলে এই নোট দিয়ে তাকে অনায়াসেই বোকা বানানো যাবে। যার কারণে তিনি দ্বিতীয়বার আর ঘুষ নেওয়ার সাহস দেখাবেন না।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories