Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

২০২৪র অগ্নিপরীক্ষায় নয়া সফটওয়ার আনল শাহ-নাড্ডারা, পাখির চোখ ১৪৪, কড়া সাবধানবাণী সাংসদদের

1 min read

৷৷ সুচিত্রা রায় চৌধুরী ৷৷

জেতা আসন যেমন ধরে রাখতে হবে তেমনই না জেতা আসন এবার জিততে হবেই৷ ২০১৯ সালের রেজাল্ট খতিয়ে দেখে নিয়েছেন অমিত শাহ-জেপি নাড্ডা৷ তাই এবার পরিকল্পনার আরও বড়৷ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, শাহ-নাড্ডা যে ছক তৈরি করে ফেলেছেন ২০২৪ সালের জন্য তাতে সবথেকে বেশি কিন্তু গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১৯ সালের লোকসভায় নির্বাচনের ব্যার্থতার অংশে৷ এর মানে কোথায় কোথায় চেষ্টা করেও ব্যর্থ হতে হয়েছিল বিজেপিকে৷ জানা যাচ্ছে এবার ভারতীয় জনতা পার্টি এনেছে নতুন এক সফটওয়ার৷ যাতে এবার অনেক মুশকিলই আসান হয়ে যাবে৷ কি কাজ করবে এই সফটওয়ার৷ তাতে ২০২৪ সালের নির্বাচনে কি প্রভাব পড়বে?

বিশ্লেষকেরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির কাজ এবার অনেকটাই হতে চলেছে সহজ৷ যা ইনপুট তৈরি থাকবে তার ওপরই করতে হবে ফোকাস৷ কিভাবে গোটা কৌশল সাজানো হয়েছে যাতে প্রথম টার্গেটেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ?বিজেপিতে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা৷ না শুধু বঙ্গ বিজেপিতে নয়৷ বিভিন্ন রাজ্যের গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য একটাই৷ ১৪৪৷ এর মানে? ২০২৪ – এর লোকসভা ভোট নিয়ে বিজেপিতে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে মাস ছয়েক আগেই। সেই প্রক্রিয়ায় এবার আরও বড় স্টেপ নিলেন বিজেপির বর্তমান ও প্রাক্তন সভাপতি যথাক্রমে জেপি নাড্ডা ও অমিত শাহ।

২০১৯- এর লোকসভা নির্বাচনের রিপোর্ট বলছে, বিজেপি যে আসনগুলিতে লড়াই করেছিল তাতে বহু আসনে বিপুল জয় এলেও ১৪৪টি হাতছাড়া হয় গেরুয়া শিবিরের৷ এবারের পাখির চোখ এই ১৪৪ আসনই৷ রাজনৈতিক মহল বলছে, ২০১৯-এর ভোটে ১৪৪ আসনে লড়াই করে হারলেও ২০১৪ -তে জিততে না পারা ৩০ আসনে দল জয় হাসিল করেছিল। এবার সেই সাফল্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ১৪৪ আসন দখলের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দিয়েছেন নাড্ডা ও শাহ। যেভাবে ২০১৪র টার্গেট ২০১৯ সে পূরণ করে ফেলেছিল পদ্মশিবির৷ এবার লক্ষ্যের সংখ্যাটা তার তিনগুণ হলেও ২০২৪ সালে সেই চ্যালেঞ্জ পূরণ করতেই হবে বিজেপিকে৷

জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতাদের ডাকা হয়েছিল। ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদকেররাও। আর সেই বৈঠকেই ঠিক হয়েছে,২০১৯ সালে হেরে যাওয়া ১৪৪ আসনের জন্য বিশেষ টিম তৈরি করবে দল৷ এই ১৪৪ আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৪টি আসন আছে বাংলায়৷ বাংলায় বিজেপির কোনও শরিক দল নেই৷ সব আসনেই বিজেপি একা লড়াই করে থাকে৷ তাই শাহের সবথেকে বড় টার্গেট এবারও হতে চলেছে বাংলাই৷ তবে মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গানা, উত্তরপ্রদেশ ও পঞ্জাবের ১৪৪টি লোকসভা আসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷

গত সপ্তাহেই বুথ ভিত্তিক সাংগঠনিক খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করেছে বিজেপি। আর সেই পর্যালোচনার রিপোর্ট বলছে৷ দেশে ৭৮ হাজার বুথে বিজেপির ভোটার নামমাত্রবিরোধীরা গেরুয়া শিবিরের থেকে অনেকেটা এগিয়ে ওই বুথগুলিতে৷ কেন ওই বুথ এলাকার মানুষ নরেন্দ্র মোদীর সরকারের কাজকর্মে সন্তুষ্ট নন? তার কারণ খোঁজা শুরু করেছে বিজেপি৷ গত ৩১ অগস্ট সেই কাজের প্রাথমিক পর্ব শেষ করেছে দল৷ সেই প্রাথমিক পর্বে ঠিক কি কাজ হয়েছে?

তাতে সাফল্যের সম্ভাবনা কতটা? জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা ওই লোকসভা কেন্দ্রগুলির অন্তর্গত বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে ঘুরে সেখানে দলের শক্তি, দুর্বলতা, জেতা-হারার সম্ভাবনা কতটা রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট দিয়েছেন। সেই রিপোর্টের পাশাপাশি লোকসভা কেন্দ্রগুলির জনসংখ্যার জাতিবিন্যাস, ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, ভোটারদের ধর্মীয় পরিচয়, আর্থিক পরিস্থিতি, রাজনৈতিক মতাদর্শ তথা তাঁরা মূলত কোন দলের সমর্থক, তাঁদের কাছে টানতে কী রণকৌশল নেওয়া উচিত— আসন ধরে ধরে এ সব নিয়েই আজ আলোচনা হয়েছে।

আর এই কাজের সুবিধার জন্য নতুন সফটওয়ার এনেছে বিজেপি৷ প্রথম পর্বে ৭৮ হাজার বুথে দলের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীকে দিয়ে সমীক্ষা করিয়েছে বিজেপি। সমীক্ষার প্রাপ্ত পরিসংখ্যান ‘সরল’ নামে একটি সফটওয়্যারে৷ আপলোড করার কাজও বেশিরভাগ রাজ্য শেষ করে ফেলেছে৷ দলের সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে সর্বশেষ অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা৷ গেরুয়া শিবিরের এবারের লক্ষ্য ওই বুথগুলির অর্ধেক বুথে ৷২০২৪-এর লোকসভা ভোটে পঞ্চাশ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়া৷ এই সফটওয়ার কি কাজ করবে আর তাতে পদ্মশিবিরের সুবিধাটা ঠিক কোথায়? বিজেপির দিল্লির সদর দফতরে আয়োজিত বৈঠকে জানানো হয় এই সফটওয়্যার তথ্য পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানিয়ে দেবে৷ কী কী কারণে ৭৮ হাজার বুথের ভোটারেরা বিজেপিকে ভোট দেয় না৷ সেখানে ভোটের ধরন, ধারাবাহিকতার বিষয়েও আলোকপাত করবে এই সফটওয়্যার৷ কোন বুথে ধারাবাহিকভাবে কোন দল শক্তিশালী? কী কারণে শক্তিশালী? নরেন্দ্র মোদীর মতো নেতার ম্যাজিকও কেন তাদের মন গলাতে ব্যর্থ?সব প্রশ্নেরই জবাব দেবে সফটওয়্যার৷

তবে এখানে একটা ব্যাপার ভুললে চলবে না৷ জে পি নাড্ডা বৈঠকে এই বিষয়ে বলতে গিয়ে সাবধানবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, তথ্য-পরিসংখ্যানগুলি সঠিক হওয়া দরকার অবশ্যই৷ তবে সফটওয়ার মুশকিল আসান করতে পারবে৷ আর এই কাজে মূলত দায়িত্ব রয়েছে সাংসদদের কাঁধে৷ বিজেপির প্রত্যেক সাংসদদে একশোটি করে দুর্বল বুথের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আগেই। তাঁদের সঙ্গে কাজ করার জন্য তৈরি করা হয় তিরিশ জনের বাহিনীও। প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ ওই তিরিশজন করেছেন। তাঁদের প্রাপ্ত তথ্য সাসংদ বিচার বিশ্লেষণ করার পর তা সফটওয়্যারে তোলার অনুমতি দেওয়া হয়। এজন্য সাংসদের মোবাইলেই পাঠানো হয় ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি৷ এবার দেখার তথ্য বিশ্লেষণ কতটা সুক্ষ্মভাবে করে তার কাজ জোরদার করতে পারে বিজেপি৷

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories