Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বাগুইআঁটিকাণ্ডে অভিযুক্ত সত্যেন্দ্রর কতটা ঘনিষ্ঠ ছিল অতনু? পুলিশের ভূমিকা ক্ষুব্ধ মু্খ্যমন্ত্রী নিলেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

1 min read

৷৷ প্রথম কলকাতা ৷৷

বাগুইআঁটি দুই কিশোরকে নৃশংস খুনের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে সমাজকে৷ জোড়া খুনে রীতিমত ফুঁসছে বাগুইআঁটি৷ মৃতের পরিবারের অভিযোগ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভের লাভ হয়নি৷ সেই খবর সোজা পৌঁছে যায় নবান্নের চোদ্দো তলায়৷ যা নিয়ে রীতিমত ক্ষুব্ধ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই ছাত্র খুনের ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্যর সামনেই বুধবার তিনি ভর্ৎসনা করলেন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্তে ‘অবহেলা’ হয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশি তদন্তে স্বয়ং পুলিশমন্ত্রী মমতা ‘দায়সারা মনোভাব’ দেখছেন বলেও নবান্ন সূত্রে খবর। এ কথা তিনি সরাসরি জানিয়েছেনও পুলিশকর্তাদের। সেই সঙ্গে কর্তব্যের ব্যাপকভাবে গাফিলতি থাকার জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে বাগুইআঁটি থানার আইসি কল্লোল ঘোষকেও৷

গত ২২ আগস্ট দুই কিশোরের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করতে গেলে অভিযোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ মৃত কিশোরের পরিবারের। অন্যদিকে, পুলিসের তরফে বলা হয়েছে ২৪ আগস্ট তারা অভিযোগ পান। বাগুইআটির হিন্দু বিদ্যাপীঠের দশম শ্রেণির ছাত্র অতনু দে এবং অভিষেক নস্কর। পুলিশ সূত্রে খবর, দুই স্কুল পড়ুয়া নিখোঁজ হয় গত ২২ অগস্ট। দু’দিন তাদের কোনও খোঁজ না পেয়ে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ জানায় পরিবার। পরিবারের অভিযোগ ছিল, দু’জনকেই অপহরণ করা হয়েছে। পুলিশের কাছে অতনুর বাবা অভিযোগ করেন, তিনি মুক্তিপণ চেয়ে ‘মেসেজ’ পেয়েছিলেন।

অপহরণকারীরা বার বার মুক্তিপণের অঙ্ক বদলায় বলেও অভিযোগ। এর প্রায় ১৩ দিন পর মঙ্গলবার বসিরহাট পুলিশ জেলার মর্গ থেকে উদ্ধার হয় অতনু এবং অভিষেকের দেহ। প্রশ্ন উঠছে, পরিবার অপহরণের অভিযোগ করা সত্ত্বেও কেন সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিল না পুলিশ? কোটি টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার পরও, কেন আরও সক্রিয়তা দেখা গেল না? বসিরহাট জেলা হাসপাতালের পুলিশ মর্গে মৃতদেহ পড়ে রইল, আর মাত্র ৫৫ কিলোমিটার দুরে থাকা বাগুইআটি থানার পুলিশ সেটা জানতেই পারল না? ঘটনায় ধৃতদের ফাঁসির দাবি করেছেন, মৃতের ঠাকুমা৷

বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি৷ তবে রাজ্যের গোয়েন্দাদের ওপর ভরসা না রেখে এই ঘটনায় সোজা সিবিআই তদন্তের দাবি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷অন্যদিকে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন কাউকে রেয়াত করা হবে না৷ দোষীরা শাস্তি পাবেই৷ জানা যাচ্ছে, যাদেরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ তাদের মধ্যে রয়েছে অভিজিত্ বোস নামে এক যুবক। তার বাড়ি হাওড়ায়। তাকে জেরা করেই ওই গাড়িটির সন্ধান পাওয়া যায় যার ভিতর গলায় ফাঁস লাগিয়ে খুন করা হয়েছিল দুই কিশোরকে। কেষ্টপুর থেকে গাড়িটিকে উদ্ধার করা হয়। ওই গাড়িতেই দুই ছাত্রকে অপহরণ ও বাসন্তী হাইওয়ের উপরে তাদের শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় বলে পুলিস সূত্রে জানা যাচ্ছে। গাড়িটি কার নামে রয়েছে তা খোঁজ খবর করে দেখছে পুলিস। কিন্তু মূল অভিযুক্ত সত্যেন্দ্র চৌধুরি এখনও পলাতক। আর সূত্রের খবর এই সত্যেন্দ্র চৌধুরীর সঙ্গেই নাকি অনেকটাই ঘনিষ্ঠ ছিল মৃত কিশোর অতনু৷

স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্ত সত্যেন্দ্র চৌধুরির বাড়ি বিহারের সীতামারিতে৷ আনুমানিক বয়স ২৬ বছর৷ গত কয়েকবছর ধরে এই এলাকায় থাকত সত্যেন্দ্র৷ অতনুদের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরের তার ছোটো একটি মোটর পার্টসের দোকান রয়েছে৷ অতনুদের বাড়ির পাড়াতে শ্বশুরবাড়ি তার৷ স্ত্রী ও বাচ্চাকে নিয়ে অতুনদের পাশে সবুজ পল্লিতে থাকতো সে৷ বছর চারেক আগে প্রেম করে বিয়ে হয় অতনুদের পাড়ায়৷ সেই সূত্রে এই পাড়াতে আসা যাওয়া অতনুর সঙ্গেও মেলামেশা ছিল৷ এলাকার মানুষজনের দাবি, কথাবার্তায় অত্যন্ত ভদ্র৷ অল্পবয়সী ছেলেদের বাইক কিনে দেওয়ার নামে তাদের কাছ থেকে টাকা নিত সত্যেন্দ্র৷ এছাড়া মোটা সুদ দেওয়ার নামে অনেক কাছ থেকে টাকাও ধার নিত

অভিজিৎ-সহ বাকি অভিযুক্তদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, কয়েকদিন আগে বিধাননগর এলাকায় অভিজিতের সঙ্গে একটি হোটেলে দেখা করে সত্যেন্দ্র চৌধুরী। সেই হোটেল কাজ করত অভিজিৎ। বাকি তিনজনকেও জোগাড় করে সত্যেন্দ্র। পরে ওই হোটেলেই হত্যার ব্লু প্রিন্ট তৈরি করা হয়। যদিও প্রধান টার্গেট ছিল অতনু। কিন্তু সেদিন অতনুর সঙ্গে পিসুতুতো ভাই অভিষেক থাকায় খুন হতে হয় তাকেও। অত্যন্ত সুচারু ভাবেই এই পুরো ঘটনা প্ল্যান করেছিল সত্যেন্দ্র। এবার দেখার এই সত্যেন্দ্র চৌধুরীকে বাগে আনতে পারে কিনা তদন্তকারীরা৷ সামনেই বিজেপির নবান্ন অভিযান৷ তদন্তের গতি না বাড়ালে এবার কিন্তু এই কাঁটায় শাসকদলকে বিদ্ধ করবে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বলছে রাজনৈতিক মহল৷

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories