Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অপারেশনের পর গলার স্বর হারিয়ে ফেলেছিলেন কণীনিকা? তার জেরেই কী বন্ধ ‘আয় তবে সহচরী’!

1 min read

।।  প্রথম কলকাতা ।।

‘বৌমা একঘর’, ‘মন ফাগুন’-এর পর এবার বন্ধের মুখে ষ্টার জলসার অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘আয় তবে সহচরী’। গুনে গুনে ঠিক ১২টা মাস। ২০২১-এর ঠিক এই সময়ই ছোটপর্দায় কণীনিকার প্রত্যাবর্তন প্রকাশ্যে আসে। অন্য গল্প, অন্য রূপে অভিনেত্রীকে দেখার জন্য উদ্বিগ্ন হয়েছিল দর্শক-মন। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বন্ধের পথে ধারাবাহিক। যদিও নেপথ্যের কারণ নিয়ে হয়েছে নানান জলঘোলা। চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কিছু না জানালেও অনেকেই কণীনিকার অসুস্থতাকেই কারণ হিসেবে ধরে নিয়েছেন।

আসলে সম্প্রতি অভিনয় করতে গিয়েই আচমকা স্পাইনাল কর্ডে যন্ত্রণা শুরু হয় কণীনিকার। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যেতে দাঁড়াতেই পারছিলেন না অভিনেত্রী। এরপরেই চিকিৎসার জন্য পৌঁছে যান সূদূর চেন্নাইয়ের হাসপাতালে। সেখানেই হয়  মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার। এই কারণে বেশ কিছু দিন ছিলেন চেন্নাইয়ে। শহরে ফিরলেও এখনও সুস্থ নন অভিনেত্রী। চলছে ফিজিওথ্যারাপি। এরই মাঝে আরও একটি খারাপ খবর দেওয়ার পাশাপাশি ‘আয় তবে সহচরী’ বন্ধ হওয়ার নেপথ্যের কারণ অনুরাগীদের সাথে ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী।

আজ নিজেস্ব ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে অসুস্থতা নিয়ে কথা বললেন অভিনেত্রী। জানালেন, ‘আমার স্পাইন সার্জারি হয়। সি সিক্স সি সেভেনে, স্পাইন প্রোল্যাপস করে গিয়েছিল। মেজর সার্জারি ছিল। ডা. সিদ্ধার্থ ঘোষ আমার সার্জারি করেছেন। প্রথম নয়, আজ থেকে ঠিক আট বছর আগেও একবার মেরুদন্ডের অপারেশন হয়। সেবারও অস্ত্রপচার করেছিলেন ডঃ সিদ্ধার্থ ঘোষ। তবে এবার সার্জারি-তে সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে প্রাণ ফিরে পেলেও নিজের স্বাভাবিক কণ্ঠস্বর হারিয়েছি। এখন হাসছি কিন্তু মাঝে আমার অবস্থা একদম ভালো ছিল না। আমার গলা দিয়ে কোনও আওয়াজ বেরোচ্ছিল না, শুধু হাওয়া বেরোচ্ছিল। আমি কথা বলতে পারছিলাম না। আমার বাবা, মা, স্বামী, মেয়ের মানসিক অবস্থা খারাপ ছিল। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় অল্পটুকু ফেরত এসেছে, আমি কথা বলতে পারছি, কিন্তু পুরোপুরি আসেনি। আশা করি আগামী দু-মাসে বাকিটা ফেরত আসবে। আমি অভিনয় শেখাই, যেখানে ভয়েস মডুলেশনটা গুরুত্বপূর্ণ, দুর্ভাগ্যবশত আমার ভয়েসের একটা অংশ ফেরত আসেনি, এমনকী এখন আমার কথা বলাও মানা’।

এরই মাঝে ‘সহচরী’ বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘সকলেই জানো সহচরী বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই গলা নিয়ে অভিনয় হয়না, এটা আমি চ্যানেলকে জানাই, ওরা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। আমি নিরুপায়। আমি হাঁটতে চলতে পারছি এটাই আমার কাছে বড় পাওয়া, ভয়েস যে ফেরত আসেনি সেটা আমার দুর্ভাগ্য বলব না। কারণ আমি বরাবরই লড়াই করেছি। এটাও আমার কাছে একটা লড়াই। একজন শিল্পীর যদি গলা না থাকে সেটা সাংঘাতিক। কারণ শিল্পীরা তাঁর গলার আওয়াজ পরিবর্তন করে অনেক কিছু করতে পারে। আমার গুরুজনেরা সবাই পাশে আছে বলে ইমোশনাল জায়গাটা ঠিক আছে। তাড়তাড়ি ফেরত আসব, লড়ে যাচ্ছি। আমার ফিজিওথেরাপি চলছে, ভয়েসথেরাপি চলছে। খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে পারব। যতদিন না আসতে পারি মাঝে মাঝে লাইভে আসব। যেভাবে দর্শক এতগুলো বছর পাশে আছে, আমি কৃতজ্ঞ। সবসময় ফেসবুকে আমার নজর আছে, যেভাবে দর্শকেরা আমার পাশে ছিল, বাংলাদেশ থেকে দোয়া করেছে, আমি সত্যি কৃতজ্ঞ। আমি খুব ভালো আছি বলব না, দুর্বলতা আছে। আমার প্রচুর কাজ করা মানা, তার উপর কথা বলতে পারছি না, সত্যিই অনেকগুলো দিন অপেক্ষা করছিলাম লাইভে আসার জন্য’।

এখানেই শেষ নয়। একই সাথে সাহস জুগিয়েছেন সেসব মানুষদের। যাঁরা তাঁর মতোই শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে লড়ে যাচ্ছেন প্রতি নিয়ত। তিনি বলেন, ‘আমি দুঃখিত নই। কারণ আমি জানি বিশ্ব সংসারে বেঁচে থাকতে হলে চ্যালেঞ্জ থাকবেই। ভালো থাকার জন্য লড়তেই হবে। তবে ভালো ভাবনা ও ভালো হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের এগিয়ে নিয়ে চলে।’ কণীনিকার একমাত্র মেয়ে কিয়ারার তাঁকে জন্য ভালো থাকতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়াও অভিনয় তাঁর ভালোবাসা। কণীনিকার কথায়, ‘অভিনয়ের জন্য আমায় ফিরতেই হবে। তাই রাস্তা খুঁজছি। যতদিনই হোক, আবার পুরনো আওয়াজ নিয়েই ফিরতে চাই। এবার আশা করি তোমরা বুঝতে পারছ কেন সহচরীতে আমি ফিরতে পারিনি। আমার পুরো পরিবার আমার পাশে আছে। কথা বলতে পারছি না বলে বাড়ি থেকে বেরোতেও ইচ্ছে হয় না, কিন্তু বন্ধু বান্ধব পরিবারের তরফ থেকে জোর করা হয়। অনেক বছর পর বই পড়ছি, সিনেমা দেখছি, বাড়িতে থাকছি, নিজের জন্য সময় পাচ্ছি। তাই সার্জারিটা আমি পজিটিভভাবেই গ্রহণ করেছি।’

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories