Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

গল্প নয়, গাছে ফলছে রুটি! রইল এক আশ্চর্য গাছের হদিস

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

কথায় আছে, টাকা কি আর গাছে ফলে! তবে গাছে টাকা না ফললেও রুটি ফলে। রূপকথার গল্পে দেখা গিয়েছিল গাছের ডালে ডালে ঝুলছে রুটি। বাস্তবেও রুটি গাছ রয়েছে। তবে এই রুটি একটু আলাদা। খেলে এক্কেবারে পাউরুটির মতো স্বাদ পাবেন। এই রুটি সবুজ রঙের। বর্তমানে বাংলাদেশের মাটিতেও রুটি গাছে ফলছে ব্রেডফ্রুট। বাংলায় যাকে বলা হচ্ছে রুটি ফল। দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মত। তবে কাঁঠাল ভাবলে ভুল করবেন। স্বাদ অনেকটা মিষ্টি আলু বা কলার মত। এটি সেঁকলে কিংবা ভাজলে পাউরুটির মত গন্ধ বেরোয়। ব্রেডফ্রুট স্লাইস করে তারপরে আগুনে ঝলসে খেলে মনে হবে যেন রুটি খাচ্ছেন। এই রুটি ফল বেশ পুষ্টিকর।

আফ্রিকার বাওবাব বা ব্রেড ট্রিতে এই রুটি ফল ধরে। তবে এই ফলের স্বাদ আপনি পেতে পারেন জুন-জুলাই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে। এখানেও এই রুটি ফল গাছ রয়েছে। গত ১৭ বছর ধরে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই বোটানিক্যাল গার্ডেনের ব্রেড ফ্রুট গাছ জুন-জুলাই মাসে দুর্দান্ত স্বাদের ফল দিচ্ছে। এছাড়াও আপনি বাংলাদেশের ঢাকার আসাদ গেটের সরকারি নার্সারি এবং কুমিল্লা বোর্ডের কাছেও এই গাছ দেখতে পাবেন।এই গাছ প্রায় ৫০ থেকে ৬৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতার কিনারাগুলি খুব সুন্দর খাঁজ কাটা। দেখতে অনেকটা হাতের আঙুলের মত। এই রুটি ফলের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী নাম Artocarpus communis । গ্রিক শব্দ আর্টস কথার অর্থ রুটি আর কারপাস কথার অর্থ ফ্রুট বা ফল।

এই রুটি ফলে রয়েছে মারাত্মক ঔষধি গুন। জিভের যে কোন প্রদাহে এই পাতা বেটে লাগালে খুব ভালো কাজ দেয়। এছাড়াও এই রুটি ফলের পাতার ক্কাথ শ্বাসকষ্ট আর রক্তের উচ্চচাপ কমাতে সাহায্য করে। চর্ম রোগের উপশমে এই পাতা ভালো কাজ দেয়। রুটি ফল দিয়ে নানান ধরনের মিষ্টি আচার, ক্যান্ডি, চিপস বানানো হয়। এই ফল কাঁচাও খাওয়া যায়। এটি দিয়ে অনেকে জ্যাম জেলি বানান।রুটি ফল রুটির মত স্লাইস করে কেটে সেঁকলে খুব সুন্দর গন্ধ বেরোয়। এছাড়াও এটি তেলে ফ্রাই করে খাওয়া যায়। ঠিক যেমন কাঁচা পাউরুটি সেঁকে নেন ঠিক সেই ভাবে এই ফলও খেতে পারেন। অনেকটা কলা কিংবা মিষ্টি আলুর মতো স্বাদ পাবেন।

এই রুটি ফল গাছ বা ব্রেড ট্রিকে নিয়ে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে এক গল্প রয়েছে । শোনা যায় এই অঞ্চলে নাকি একবার চরম দুর্ভিক্ষ নেমে আসে। তখন সেই পরিস্থিতি থেকে মানুষকে বাঁচাতে যুদ্ধ দেবতা কুরকাইলির নিজেকে মাটিতে পুঁতে ফেলেন। তিনি যে স্থানে নিজেকে পুঁতেছিলেন সেখান থেকেই এই রুটি ফল গাছের জন্ম। সে যাত্রায় হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মানুষ সেই গাছের ফল খেয়ে নিজেদের জীবন বাঁচিয়ে ছিল।এছাড়াও জানা যায় ব্রিটিশ অভিযাত্রী জেমস কুক হাওয়াই দ্বীপে এই রুটি ফলের সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি সেই দ্বীপের দাস দাসীদের দ্বারা এই ফল গাছের চাষ শুরু করেছিলেন। তখন ওই দ্বীপের মানুষ দৈনন্দিন খাদ্য হিসেবে এই রুটি ফলের চাষ শুরু করে। ১৪০০ শতকে ধীরে ধীরে হাওয়াই দ্বীপ থেকে পলিনেশিয়ায় জলদস্যুদের মাধ্যমে এই রুটি ফল ছড়িয়ে পড়েছিল।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories