Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

রাস্তা থেকে কুড়ানো পোড়া সিগারেটের চোখ ধাঁধানো মূর্তি! রইল এক আশ্চর্য মানুষের গল্প

।। প্রথম কলকাতা ।।

মিগুইচো এক আশ্চর্য মানুষ। রাস্তায় পোড়া সিগারেট পড়ে থাকলে তা তিনি সযত্নে কুড়িয়ে নেন। সেই কুড়িয়ে আনা সিগারেটের ফেলে দেওয়া অংশের সম্ভার পৌঁছেছে প্রায় এক মিলিয়নে। যার জন্য তিনি সারা বিশ্বে পরিচিত হয়েছেন এক মিলিয়ন সিগারেট নামে । এনার জীবন কাহিনী সারা বিশ্ববাসীকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। যিনি জীবন খাদের কিনারা থেকে ফিরে এসে নতুনভাবে বাঁচতে শিখেছেন। পৃথিবীতে হেসে খেলে বেঁচে থাকার অপর নাম যদি বলা হয় মিগুইচো, তাহলে খুব একটা ভুল হবে না। তাঁর জীবনের পরতে পরতে রয়েছে আশ্চর্য ঘটনা। যিনি ৫২ বছর বয়সে বই পড়া শিখেছেন। ৬৮ বছরে ২০ কিলোমিটার ম্যারাথন দৌড়ে অংশগ্রহণ করেছেন।

তিনি শিখিয়েছেন যে কোন লক্ষ্যকে টার্গেট করার জন্য বয়স শুধুমাত্র একটা সংখ্যা। মনের বয়সই আসল।নাম মিগুইচো, থাকেন ইকুয়েডরের গালাপাগস নামক একটি দ্বীপে। দ্বীপটিকে দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন জলের উপর একটি বোট ভাসছে। জন্মের মাত্র তিনদিন পর ভূমিকম্পের নিজের মাকে হারান মিগুইচো । তার বাবা ছিলেন অত্যন্ত গরিব, তাই তিনি ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করতে পারেননি। একদিন এক ধনী ব্যক্তি তার বাবাকে এসে কথা দিয়েছিলেন মিগুইচোকে স্কুলে পাঠাবেন। কিন্তু চারিদিকে জলে ঘেরা মাঝখানে থাকা ওই ছোট্ট দ্বীপে মিগুইচো সেদিন ঠিক করেছিলেন জলে মাছ ধরেই তার বাকি জীবন কাটিয়ে দেবেন।

সেই অনুযায়ী জীবন শুরু করে। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে বোট নিয়ে সমুদ্রের বুকে হারিয়ে যান মাছ ধরতে। সেখানে খারাপ হয়ে যায় বোটের ইঞ্জিন। সেই অবস্থাতে তিনি মাঝ সমুদ্রে কাটিয়েছেন প্রায় ৭৭ দিন। তারপর তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসলেও বিন্দুমাত্র শান্তি পাননি। ঋণের দায়ে জেলে যেতে হয়। জেল থেকে ফিরে মানসিক অবসাদে নেশা করতে শুরু করেন। ১২ বছর ধরে তিনি একটানা নেশা করেছেন। তারপর ঠিক করেন আর নয়, তিনি জীবনের কাছে হেরে যাবেন না।

এই উপলব্ধি তিনি করেছিলেন ৫২ বছর বয়সে এসে। তিনি বুঝতে শেখেন বয়স কিছুই নয়, এটি শুধু একটা সংখ্যা মাত্র। তিনি ৫২ বছর বয়সেই বই পড়তেন শেখেন। স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে শুরু করেন। পাশাপাশি করতে থাকেন নানান ধরনের শারীরিক ব্যায়াম। ৬৮ বছর বয়সে ম্যারাথনের মাঠে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। দৌড়ান প্রায় ২০ কিমি। তারপর অবশেষে তিনি প্রেমেও পড়েছিলেন। সেই প্রেমিকা হল তাঁর চারপাশে থাকা প্রকৃতি। তিনি চাননি তাঁর আইল্যান্ডের প্রকৃতি বিন্দুমাত্র নোংরা হোক। তাই আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে তিনি রাস্তা থেকে সিগারেটের পোড়া টুকরো সংগ্রহ করতে শুরু করেন। তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়েছিল ৫ ই আগস্ট। তিনি এই দিনটিকেই বেছে নিয়েছিলেন তাঁর এই কাজ শুরু করার জন্য।

টানা ৫ বছর ধরে তিনি এইভাবে পোড়া সিগারেটের টুকরো জমানোর পর দেখেন তার কাছে রয়েছে এক মিলিয়ন সিগারেটের টুকরো। সিগারেটের সেই পোড়া টুকরো দিয়ে যে দুর্দান্ত চোখ ধাঁধানো শিল্প কাজ হতে পারে তা প্রমাণ করে দিয়েছেন মিগুইচো। পোড়া সিগারেটের টুকরো জুড়েই বানিয়ে ফেলেছেন নানান ধরনের মূর্তি। যা দেখতে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক এই আইল্যান্ডে এসে ভিড় জমান। পোড়া সিগারেটের কাজ যারাই দেখেন তারাই রীতিমত হতবাক হয়ে যান। মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন পর্যটকরা। এই বিখ্যাত কাজের জন্যও তিনি পেয়েছেন ওয়ান মিলিয়ন সিগারেটের তকমা।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories