Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘কালা চাশমা’-তে খোলা শার্টে নাচে মত্ত পড়ুয়ারা, প্রশ্নের মুখোমুখি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

1 min read

।। প্রথম কলকাতা।।

গত ৫ই সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন স্কুলে হয়েছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। বছর দুই পরে স্কুলে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান করতে পেরে এবং শিক্ষক- শিক্ষিকাদের শ্রদ্ধা জানাতে পেরে খুশি পড়ুয়ারাও । কিন্তু সেই জায়গাতেই রয়ে গিয়েছে কিছু ফাঁক। যেখানে শিক্ষক দিবসের দিনের রবীন্দ্র- নজরুলের গান, আবৃত্তিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে স্কুলের অনুষ্ঠান সেখানেই বর্তমানে চলছে চটুল হিন্দি বাংলা গান। তাঁর সঙ্গে উদ্দাম নৃত্যে মত্ত ছাত্র-ছাত্রীরা। এই ধরনের ছবি দু-একটি নয় ধরা পড়েছে বেশ কয়েকটি স্কুলে ্দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর শহরের দুটি স্কুলসহ বর্ধমান, বাঁকুড়া এবং মধ্যমগ্রামের এই স্কুলেও।

থেকে এক সময় মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করার জন্য ছাত্রদের নিয়ে গর্ব করা হতো । এই বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হয়ে আজ ডাক্তার ,ইঞ্জিনিয়ার ,উকিল হিসেবে সমাজের প্রতিষ্ঠিত বহু ছাত্র। সেই স্কুলের সংস্কৃতি এইভাবে ধ্বংস হতে দেখে দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্কুলের প্রাক্তনীরাও। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে স্কুলের একটি হলরুম, সেখানে লাল নীল আলো। ব্যাকগ্রাউন্ডে চলছে হিন্দি গান । আর সেই গান বাজিয়ে কখনও ‘নাগিন ডান্স’ আবার কখনও ‘কালা চাশমা’য় বেপরোয়া ভাবে নেচে চলেছে পড়ুয়ারা । কারও চোখে আবার কালো চশমা, কারও পরনের শার্ট খুলে চলে এসেছে হাতে।

এই ধরনের শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান একেবারেই অনভিপ্রেত, এমনটাই বলছে প্রাক্তনীরা। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় । পরবর্তীতে ছাত্রছাত্রীদের এই ভুলের দায়ভার গ্রহণ করেছেন খোদ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশুতোষ ঘোষ। তাঁর কথায়, ওই ভিডিওটি দেখা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি এখনও। পর্যন্ত তিনি কিন্তু যতদূর তিনি শুনেছেন বিষয়টি একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না । স্কুলের কোন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর বদলে এই ধরনের উৎশৃঙ্খলা আশা করা যায় না পড়ুয়াদের তরফ থেকে। তবে পরবর্তীতে এই ধরনের কোন ঘটনা কখনই আর ঘটবে না এই বিষয়টি নিশ্চিত করলেন প্রধান শিক্ষক।

একই সঙ্গে তিনি জানান , স্কুলে সরস্বতী পুজোর উপলক্ষে দুদিন ধরে অনুষ্ঠান হয় সেখানে নাচ ,গান, কুইজ, আবৃত্তি এই ধরনের বহু অনুষ্ঠান হয় । কিন্তু এইরকম পরিবেশ কোন দিন ছাত্ররা তৈরি করেনি । বিগত দুটি বছর কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে থেকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তাই ছেলেমেয়েদের মধ্যেও এই ধরনের পরিবর্তন হয়তো এসেছে। অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানেন, ছাত্ররা তাদের কাছে আবদার করেছিল যে শিক্ষক দিবসের সমস্ত অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাবার পরে নিজেদের মধ্যেই আনন্দ করবে তাঁরা । তবে এই আনন্দের রূপ যে এইভাবে পরিবর্তন হবে তা কখনও কল্পনাও করতে পারেননি শিক্ষক শিক্ষিকারা।

শুধুমাত্র মধ্যমগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় নয় এরকম আরও কয়েকটি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে উৎশৃঙ্খলার ছবি ফুটে উঠেছে । কোথাও তাঁরা চটুল বাংলা গান চালিয়ে রিহার্সালের নামে ব্যস্ত নাচানাচি করতে , অন্যদিকে কোথাও আবার শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষককে ঘিরে হিন্দি গান গাইতে দেখা গিয়েছে ছাত্রীদের । কাজেই শিক্ষক দিবসের গুরুত্ব এবং স্কুলের সুনাম বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের উপর যে দায়িত্ব রয়েছে এই দুটি বিষয় একেবারেই ভুলতে বসেছে ছাত্র সমাজ । যা এই ছাত্র সমাজের ভবিষ্যৎকে অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories