Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ছোটবেলায় দুরন্ত ছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়! কীভাবে সামলাতেন তাঁর বাবা?

।। প্রথম কলকাতা ।।

বাঙালি আজীবন মনে রাখবে নীললোহিত চরিত্র। পাশাপাশি নীললোহিত ছদ্মনামে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে। এই চরিত্রটির মাধ্যমেই পৃথক সত্তা তৈরি করেছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। যে ভাবে একের পর এক কাহিনীতে নীললোহিতের মুখ দিয়ে আত্মকথা বলেছেন, তা বাঙালির মন জয় করতে বেশি সময় লাগেনি। ৭ই সেপ্টেম্বর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিন। এই বিখ্যাত মানুষ আজ আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু তাঁর সাহিত্য আজীবন তাঁকে আমাদের কাছে অমর করে রেখে গিয়েছে।

তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একাধিক পুরস্কার। ১৯৮৫ সালে পেয়েছিলেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। ২০০২ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন কলকাতা শেরিফ হিসেবে। ১৯৭২ এবং ১৯৮৯ সালে পেয়েছিলেন আনন্দ পুরস্কার।বিশ শতকের শেষ ভাগের প্রথিতযশা একজন সাহিত্যিক ছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। প্রায় ৪ দশক ধরে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তিনি একাধারে যেমন কবি, ছোট গল্পকার, উপন্যাসিক, প্রবন্ধ রচয়িতা আবার অন্যদিকে একজন বিখ্যাত সম্পাদক, সাংবাদিক এবং অনুবাদক।

বাঙালি বহুদিন ধরেই সাহিত্যে একটি নতুন ক্ষেত্র চাইছিল। আর সেই ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি শুধুমাত্র লিখেই প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর কবিতার প্রীতি শুরু হয়েছিল একটু অদ্ভুতভাবে। ১৯৩৪ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম। ছোট থেকে বড় হয়েছেন উত্তর কলকাতায়। ছোটবেলায় তিনি অত্যন্ত দুরন্ত ছিলেন। তাই বাবা তাঁকে ঘরে আটকে রাখার জন্য টেনিসনের কবিতা বাংলায় অনুবাদ করার কাজ দেন। এই কাজের মাধ্যমেই তিনি কবিতার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন।

১৯৫৮ সালে ‘একা এবং কয়েকজন’ নামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ১৯৬৬ সালে প্রকাশ পায় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘আত্মপ্রকাশ’। তারপর থেকেই জনপ্রিয়তা তাঁর পিছু ছাড়েনি। একের পর এক রচনা করে গিয়েছেন বিখ্যাত সব লেখা। না শুধুমাত্র এক একটি রচনা নয়, এগুলি ছিল বাঙালির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সেই তালিকায় রয়েছে ‘হঠাৎ নীরার জন্য’, ‘আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি’, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘অর্ধেক জীবন’, ‘প্রথম আলো’, ‘সেই সময়’, ‘মনের মানুষ’, ‘ পূর্ব পশ্চিম’ প্রভৃতি। তাঁর হাত ধরে বাংলার গদ্য এবং কাব্যে এসেছিল নতুন দিনের ভাষা ভঙ্গি। তিনি নীললোহিত ছদ্মনাম ছাড়াও ‘সনাতন পাঠক’ ও ‘নীল উপাধ্যায়’ ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। জন্মেছেন অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুরে, কিন্তু বড় হয়েছেন কলকাতায়। মাত্র চার বছর বয়সেই তিনি এই শহরে চলে আসেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি সাহিত্য অকাদেমি এবং পশ্চিমবঙ্গ শিশুকিশোর অকাদেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories