Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

লতাজির গান শুনে কেঁদেছিলেন অনেকেই! ২১টি টেকের পর রেকর্ড হয় ‘বন্দে মাতরম’

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

স্বাধীনতার সকাল মানেই বাচ্চাদের পতাকা হাতে হুটোপুটি, আর পাড়ার ক্লাবের কিংবা বাড়িতে দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন। এই স্বাধীনতার সকালের সঙ্গেই ভারতবাসীর মনে গেঁথে রয়েছে লতা মঙ্গেশকরের গান। তাঁর গান ছাড়া স্বাধীনতার সকাল বড্ড ফাঁকা ফাঁকা লাগে। কিছু কিছু দেশাত্মবোধক গানে মনে হয় যেন তিনি নিজেই সাক্ষাৎ ভারত মাতা হয়ে উঠেছেন, যে মা বীর সন্তানের শোকে আকুল হয়ে বেদনার গান গাইছেন। স্থান কাল জাতির ঊর্ধ্বে তিনি হয়ে উঠেছিলেন দেশাত্মবোধের কন্ঠ। আজও পাড়ার ক্লাবে ক্লাবে শহিদ জওয়ানদের স্মরণে বেজে ওঠে “অ্যায় মেরে ওয়াতান কি লোগো” গানটি। লতা মঙ্গেশকরের গলায় দেশাত্মবোধক গান শুনে কেঁদেছিলেন তাবড় তাবড় রাজনৈতিক নেতারা। গান গেয়ে অসহায় মানুষদের জন্য তিনি তহবিল জোগাড় করেছিলেন।

১৯৫২ সালে আনন্দমঠ নামক একটি ছবি তৈরি করেছিলেন বিপ্লবী হেমন গুপ্ত। এই ছবিটির গানের সুরকার ছিলেন হেমন্ত কুমার। ওই ছবিতে লতা মঙ্গেশকর গান গাইতে রাজি হননি। তখন হেমন্ত কুমার নিজে এসেছিলেন লতা মঙ্গেশকরের কাছে। তারপর প্রায় পরপর ২১ টি টেকের পর রেকর্ড হয় বন্দে মাতরাম গান। প্রায় ১৫০ টি বিভিন্ন সুরে এই গানটি থাকলেও বাঙালি মনে এক নম্বর স্থানে রয়েছে লতা মঙ্গেশকরের গলায় গাওয়া বন্দে মাতরম গান।

স্বাধীনতা দিবসে ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি এমন কিছু দেশাত্মবোধক গান রয়েছে যা ছাড়া এই দিনটি অসম্পূর্ণ, আর তার মধ্যে অন্যতম গান গুলি হল লতা মঙ্গেশকরের। “অ্যায় মেরে ওয়াতন কি লোগো” গানটা শুনলেই মনে পড়ে মন খারাপের ইতিহাস। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধে বেশ কয়েকজন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। এই ঘটনার ঠিক দুমাস পর প্রজাতন্ত্র দিবস অনুষ্ঠানে দিল্লির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ এবং প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু। এই গানটি তিনি প্রথমবারের জন্যও শহিদ জওয়ানদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে গেয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। লতাজির গলায় সেই গান শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। জানেন কি, এই গানটির সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন তাঁরা কেউ পারিশ্রমিক নেননি। বীর শহিদদের পরিবারের জন্য তৈরি ফান্ডে তাঁরা পারিশ্রমিক দান করেছিলেন। এছাড়াও পাশাপাশি রয়েছে “মা তুঝে সালাম” এর মত গান। আসলে লতাজির কন্ঠে অনেক বেশি জীবন্ত হয়ে উঠেছিল দেশভক্তি মূলক গান গুলি।

মনে পড়ে ২০০০ সালে সেই পুকার ছবির কথা, যেখানে দেশকে ভালোর জন্য প্রার্থনা কিংবা ভালোবেসে গান সবথেকে বেশি অর্থবহ হয়ে উঠেছিল লতা মঙ্গেশকরের গলায়। দেশাত্মবোধক এই গানের সুরকার ছিলেন এ আর রহমান। তুমুল জনপ্রিয়তা পেরেছিল “এক তু হি ভরোসা/ এক তু হি সাহারা” গানটি। পুকারের ঠিক ছ বছর পর অর্থাৎ ২০০৬ সালে ‘রং দে বাসন্তী’তে গেয়েছিলেন “লুকা ছুপি বহুৎ হুয়ী,সামনে আ যা না”। গানটা শুনলে আজও আমাদের বুকে মোচড় দিয়ে ওঠে। ৪৬ বছর আগে তৈরি ‘ সুভাষচন্দ্র ‘ ছবিতে রীতিমত মাইলফলক তৈরি করেছিল লতা মঙ্গেশকরের “একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি” গানটি। সেই গান শুনলে অনেকের প্রাণ কেঁদে ওঠে। মনে পড়ে ফাঁসির মঞ্চে বীর সাহসী ক্ষুদিরামের সেই দৃশ্য। হৃদয়ের একদম অতল থেকে কিংবা মনের সঙ্গে গানের একাত্ম তৈরি হলে তবেই হয়তো এমন মর্মস্পর্শী সুরের মূর্ছনা তৈরি করা যায়।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories