Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

১৫ই আগস্ট বাংলাদেশে অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা, রয়েছে বেদনাদায়ক ইতিহাস

।। প্রথম কলকাতা ।।

প্রতিবছর ১৫ই আগস্টে সমস্ত বাংলাদেশ জুড়ে পালিত হয় জাতীয় শোক দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি একটি কালো অধ্যায়। কারণ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বাঙালি হারিয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে। তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁর হাত ধরে বাঙালিরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। এই দিন বাংলাদেশে অর্ধনমিত রাখা হয় জাতীয় পতাকা। সরকারি থেকে বেসরকারি ভবনগুলিতে পর্যন্ত উত্তোলিত হয় কালো পতাকা। কারণ এই দিনটি বাঙালি জাতির কাছে অত্যন্ত লজ্জার এবং শোকের।

১৫ ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ভবন ও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ মিশন গুলিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। গত বুধবার তথ্য অধিদপ্তর নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা বিধি অনুসরণ করতে হবে। ব্যবহার করতে হবে মানসম্মত কাপড়ের পতাকা। ছেঁড়া কিংবা বিবর্ণ পতাকা ব্যবহার করা যাবে না। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বিধি অনুসারে পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ। ১০:৬ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে আয়তাকার ক্ষেত্রের এই পতাকার মাঝখানে থাকবে লাল বৃত্ত। বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার এক পঞ্চমাংশ।

মুক্তিযুদ্ধ ও তার পরবর্তী সময়ের বাঙালি আন্দোলন গুলির মধ্যে অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতিকে অপশাসনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তাঁর একনিষ্ঠ লড়াই আজ সসম্মানে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। তাঁর হত্যা কান্ড ছিল বাঙালির ইতিহাসে জঘন্যতম এবং নৃশংস ঘটনা। ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নং বাসভবনে ঘাতকদের নির্মম গুলিতে সপরিবারে নিহত হন শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন সেই হত্যার শিকার হয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বড় ছেলে শেখ জামাল, ভাই শেখ নাসের এবং কর্নেল জামিল। নিষ্ঠুর ঘাতকেরা রেহাই দেয়নি বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেও। এছাড়াও বাঙালি জাতি সেদিন হারিয়ে ছিলেন তাদের অনেক প্রিয় মানুষকে। দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আর সাথে ছিলেন তাঁর বোন শেখ রেহানা।

শেখ মুজিবুর রহমান ছিল বাঙালি জাতির কাছে এক স্বপ্ন এবং আবেগ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সর্বপ্রথম ১৫ই আগস্টের দিনটিকে শোক দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। ২০০২ সালে এই প্রস্তাব বাতিল হলেও পরবর্তী কাল থেকেই এই দিনটি বাঙালির কাছে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ২০১১ সালে সেই নিষ্ঠুর বারো জন ঘাতককে ফাঁসি দণ্ডে দন্ডিত করা হয়।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories