Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বাঁধ ফেটে বেরিয়ে আসছে জল, নিচে ১৮টি গ্রাম! ভয়াবহ আতঙ্ক ভারতের এই রাজ্যে

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বাঁধের কানায় কানায় জল। যে কোন মুহূর্তে ওই জলভরা বাঁধ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তে পারে। যার কারণে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ওই এলাকায়। প্রশাসনের তরফ থেকে সতর্কতা হিসেবে বাঁধের নিচু এলাকায় থাকা প্রায় ১৮টি গ্রামের মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিরাপদ ত্রাণ শিবিরে। প্রশাসনের তরফ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে, যে কোনো ভাবে ওই বাঁধটাকে আটকানোর। এমনকি ওই বাঁধের গায়ে তৈরি হয়েছে অনেকগুলি ফুটো, যা বন্ধ করতে তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন এবং জলসম্পদ বিভাগ। রীতিমত আতঙ্কে দিন কাটছে ওই এলাকাবাসীর। এই ভয়াবহ চিত্র ভারতের মধ্যপ্রদেশের।

মধ্যপ্রদেশের ধর জেলার করম নদীর উপর নির্মিত কোথেরা বাঁধ থেকে জল ধীরে ধীরে ঢুকছে লোকালয়ে। আসলে ওই বাঁধে বেশ কয়েকটি ফাঁক-ফোঁকর তৈরি হয়েছে। যার কারণে এলাকা জুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই করম নদী হল নর্মদার একটি উপনদী। তবে এর জলের বেগ নেহাত কম নয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগে থাকতেই প্রশাসনের তরফ থেকে ২টি হেলিকপ্টার আর সেনাবাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই বাঁধটি তৈরি হয়েছে ধর জেলার ধর্মপুরী তহশিলের করম মাঝারি সেচ প্রকল্পের অধীনে। গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে এই নির্মাণাধীন বাঁধ জলে ভরাট হয়ে মাটি ক্ষয় হতে শুরু করেছে। বাঁধে দেখা দিয়েছে অনেকগুলি ফুটো। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় শুধুমাত্র ভারত নয়, সারা বিশ্ব ভুগছে। চরম সংকটে জলবায়ুর স্বাভাবিক ভারসাম্য। ভারতের বহু রাজ্যে বন্যা দেখা দিয়েছে, আবার বহু রাজ্য খরার সম্মুখীন।

মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব জানান, শুক্রবার সকালে বাঁধের ডাউন স্ট্রিমের মাটি পিছলে পরে বিপদের পরিস্থিতি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাঁধটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৯০ মিটার এবং উচ্চতা ৫২ মিটার। এই বাঁধে এখন আটকে রয়েছে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনমিটার জল। একবার যদি এই বাঁধ ভেঙে যায় তাহলে অনেকগুলি গ্রাম জলের তোড়ে ভেসে যাবে। তাই আগে থাকতেই বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় ধর জেলার ১২টি গ্রাম এবং খারগোন জেলার ৬টি গ্রাম অর্থাৎ মোট ১৮ টি গ্রামের মানুষদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেস্পন্স ফোর্স এবং ধর ও ইন্দোরের রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

এছাড়াও আশে পাশে থানার পুলিশ হোমগার্ডের কর্মীরা উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। বিমান বাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার ও সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। যাতে প্রয়োজনে দ্রুত তাদেরকে কাজে নামানো যায়। এই বাঁধটি প্রথমবারের জন্য জলে ভরলো। বৃহস্পতিবার দুপুর একটা পর থেকে এই এই বাঁধ থেকে জল পড়তে শুরু করে। তারপর থেকেই জল সম্পদ দপ্তরের আধিকারিক বাঁধ ঠিক করার চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু শুক্রবার সকাল হতেই বাঁধ থেকে বেরিয়ে আসা জলের পরিমাণ বাড়তে থাকে। তবে প্রশাসনের তরফ থেকে সম্ভাব্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories