Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

মাখন চুরি করেও শাস্তির বেলা লবডঙ্কা! কেন কৃষ্ণ বার বার বেঁচে যেতেন?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

সারা ভারতবর্ষ জুড়ে মহাসমারোহে পালন করা হয় জন্মাষ্টমী। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শ্রীকৃষ্ণের মাখন কিংবা ননী চুরির গল্প। এমনকি কৃষ্ণের গায়ে তকমা এঁটে দেওয়া হয়েছে মাখন চোর হিসেবে। যদিও এই চোর ধরা পরার পর সবসময় তিরস্কারের বদলে পুরস্কার পেয়ে এসেছেন। পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, ছোট্ট কৃষ্ণের কাজে সাহায্য করত তার বন্ধুরাও। একে অপরের কাঁধে উঠে চুরি করত ননী। সে এক অভিনব কায়দা। আর এই অভিনব কায়দায় এখনো পর্যন্ত ভারতের বহু জায়গায় দইয়ের হাঁড়ি ভাঙা হয়। কিন্তু ননী চুরি করেও কেন পার পেয়ে যেতেন কৃষ্ণ? জানুন বিশদে।

কৃষ্ণের এই ননী চুরির বেশ কতকগুলি অর্থ পুরাণে বর্ণনা করা হয়েছে। যেখানে বলা হয় কৃষ্ণ নাকি সবসময় চাইতেন নির্ভেজাল হৃদয় চুরি করতে, যা হবে একেবারে সৎ। অপরদিকে ননীর রং হল সাদা এবং দাগহীন। মানুষের মন থেকে রাগ, অহংকার, হিংসা, লোভ, ঘৃণা সমস্ত কিছু দূর করা উচিত। ননী যেমন জলে ভাসে, তেমনই মানুষের হৃদয় হালকা হওয়া উচিত। কৃষ্ণের এই ননী চুরিকে কেন্দ্র করে বহু মজার গল্প রয়েছে। এছাড়াও গোপীদের অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন কৃষ্ণ। তারা কৃষ্ণকে বকার বদলে মাঝে মাঝে আদর করে বাটি ভরে ননী দিতেন। জন্মাষ্টমীতে শ্রীকৃষ্ণের সামনে থরে থরে সাজানো থাকে নানান ভোগ কিন্তু সেখানে মাখন অবশ্যই থাকবে। এই মাখন কিংবা ননী ছাড়া শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে ভোগ অর্পণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। শ্রীকৃষ্ণ ভক্তরা অতি যত্নে তাদের আরাধ্য ভগবানের সামনে সাজিয়ে দেন ৫৬ ভোগের ডালি।

‘মাখন চোর ‘ কৃষ্ণ শাস্তি পেতেন না কেন?

গোকুলে মা যশোদা এবং নন্দের স্নেহের ছত্রছায়ায় বড় হয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। দুষ্টু বুদ্ধিতে পরিপূর্ণ হলেও শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন গোকুলবাসীর নয়নের মণি। গোপীদের বাড়ি বাড়ি তিনি মাখন চুরি করতেন। কিন্তু চুরি করলেও শ্রীকৃষ্ণকে কোন তিরস্কার করা হত না। গোকুলের গোপীদের কাছে প্রাণাধিক ছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। যদিও মা যশোদা মাঝে মাঝে কৃষ্ণের নামে নালিশ পেতেন। তখন কিন্তু আর শ্রীকৃষ্ণের রক্ষা ছিল না। মায়ের কাছে মাঝেমধ্যে বেশ ভালো রকম বকুনি খেতে হত। কখনো বা যশোদা মা তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতেন।

কেমন ভাবে মাখন চুরি করতেন?

এই মাখন চুরির ছিল অদ্ভুত এক কৌশল। ছোট্ট কৃষ্ণের পক্ষে কখনোই সম্ভব ছিল না অনেক উঁচুতে ঝুলিয়ে রাখা হাঁড়ি থেকে মাখন কিংবা ননী চুরি করা। আসলে ছোট্ট শ্রীকৃষ্ণের বেশ অনেকগুলি সাগরেদ ছিলেন। তারা কৃষ্ণকে সাহায্য করতেন, আর তার বদলে ওই চুরির খাবারের ভাগ পেতেন। গোপি গৃহে মাখনের হাঁড়ি অনেক উঁচুতে ঝুলিয়ে রাখা হত। ছোট্ট শ্রীকৃষ্ণের কাছে তার নাগাল পাওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। তাই তিনি নিজের বন্ধুদের সাথে বুদ্ধি করে বানিয়ে নিতেন একটি পিরামিড। সবাই মিলে একে অপরের কাঁধের উপর দাঁড়িয়ে তৈরি সেই পিরামিডের মাথায় থাকতেন শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং। তখন সহজেই হাতের কাছে চলে আসতো মাখনের হাঁড়ি। আয়েশ করে শ্রীকৃষ্ণ এবং তাঁর বন্ধুরা এভাবেই মাখন চুরি করে খেতেন।

মা যশোদার কাছে নালিশ

গোকুলের সমস্ত গোপি গৃহে থেকে প্রতিদিনই প্রায় এভাবেই শ্রীকৃষ্ণ মাখন চুরি করতেন। চুরির পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে মাঝে মাঝে গোপীদের বাজারে বিক্রি করার মতো অবশিষ্ট মাখন থাকত না। অনেক গোপীর আবার কম পরিমাণ মাখন বিক্রি করার জন্য লাভের থেকে লোকসান হত বেশি। তাই তাঁরা বাধ্য হতেন মা যশোদার কাছে নালিশ করতে।

মাখন চুরির উৎসব

কৃষ্ণের জন্ম তিথি জন্মাষ্টমীকে কেন্দ্র করে ভারতবর্ষের বিখ্যাত একটি উৎসব হলো দহি হান্ডি। এই উৎসবে প্রায় নয়টি সারি করে ছেলেরা একজনের উপর আর একজন দাঁড়িয়ে তৈরি করেন নর পিরামিড। পিরামিডের মাথায় থাকে ছোট্ট একটি বালক। কোথাও বা এই বালকটিকে সাজানো হয় শ্রীকৃষ্ণ রূপে। পিরামিডের উপরে দড়িতে ঝোলানো দইয়ের হাঁড়ি ভেঙে ফেলে ওই বালক। অত্যন্ত হই-হুল্লোড়ের সাথে সমাপ্ত হয় দহি হান্ডি উৎসব।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories