Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘সুজলাং সুফলাং,মলয়জশীতলাম্…. ‘, স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় মন্ত্র ছিল বঙ্কিমের ‘বন্দেমাতরম’

1 min read

।। প্রথম কলকাতা।।

ইংরেজ শাসনের সেই মর্মান্তিক ২০০ বছর ভারতের ইতিহাসের পাতায় রয়ে গিয়েছে। কারণ সেই অত্যাচারী শাসক শক্তির কথা মনে পড়লেই একইসঙ্গে মনে পড়ে ভারতবর্ষের বীর সন্তানদের কথা। যারা তাদের শক্তি, বুদ্ধি ,সাহসিকতা দিয়ে পরাধীনতার বেড়াজাল থেকে মুক্ত করেছে ভারতবর্ষকে । এইরকম একাধিক বীর সাহসীদের সঙ্গে আমরা পরিচিত। তাদের সাথে পরিচয় ঘটেছে ভারতের ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে। এদের মধ্যেই একজন হলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। যার কলমের খোঁচায় সামাজিক এবং রাজনৈতিক চেতনা পৌঁছে যেত আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের কাছেও। ইনি বল দিয়ে নন বরং বুদ্ধি এবং নিজের কলম দিয়ে সেই পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ সরকারের অত্যাচারীর স্বরূপ তুলে ধরার অদম্য সাহস দেখিয়েছিলেন।

উনবিংশ শতাব্দীতে ভারতের বুকে ব্রিটিশ সরকার যেভাবে অত্যাচার করে গিয়েছে তাতে এক সময় ভারতবাসী ভুলে গিয়েছিলেন যে স্বাধীনতা তাদের জন্মগত অধিকার। তবে দেশবাসীর মনে ফের জাতীয়তাবোধ এবং পরাধীনতার শিকল ভেঙে বেরিয়ে আসার রাস্তা দেখিয়েছিলেন তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে। সেই সময় তাঁর একের পর এক রচনা ভারতবর্ষের মানুষকে শক্তি যুগিয়ে ছিল ব্রিটিশ অত্যাচারী শক্তির মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াবার । তাঁর লেখনীর মাধ্যমেই ফের এদেশের তরুণ সমাজ স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়ার জন্য ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল। আর যা পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসন মুক্ত করতে সাহায্য করে ভারত বর্ষকে।

আরো পড়ুন : নাইট উপাধি ত্যাগ, অরবিন্দ ঘোষকে লেখা উৎসর্গ…, স্বাধীনতার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৫ সালের :বন্দেমাতরম’ শীর্ষক গানটি রচনা করেছিলেন। এই দেশাত্মবোধক গানটি সেই সময় পরাধীন ভারতে জাতীয়তাবাদের মূল মন্ত্র হয়ে উঠেছিল । সংস্কৃত হরফে লেখা এই গানটিতে তিনি প্রত্যেকটি শব্দের মাধ্যমে বুঝিয়েছিলেন যে কীভাবে সুজলা সুফলা ছিল এই ভারত বর্ষ । কিন্তু সেখানে ব্রিটিশ শক্তির আগমনে বর্তমানে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে আমাদের মাতৃভূমি । কাজেই যদি দেশবাসী নারী, পুরুষ, ধনী , দরিদ্র নির্বিশেষের সকলে একত্রিত হয় এবং তাদের মানসিক জাগরণ ঘটে তবেই দেশ মায়ের মুক্তি সম্ভব।

একই বার্তা তিনি পৌঁছে দিয়েছিলেন তাঁর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের মাধ্যমে । সম্পূর্ণ উপন্যাসটি দুটো চরিত্রকে নিয়ে আবর্তিত হয়েছিল। কিন্তু সেখানে ৭৬ এর মন্বন্তর থেকে শুরু করে দেশের চরম আকাল এবং একই সঙ্গে ব্রিটিশ শক্তির অকথ্য অত্যাচার সবকিছুকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল শব্দের মাধ্যমে। পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে তিনি তা্র রচিত ‘বন্দেমাতরম’ গানটিকেও ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের সংযোজন করেছিলেন। আর তারপর থেকেই এই গানটি যেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের কাছে মূল মন্ত্রে পরিণত হয়েছিল।

বন্দেমাতরম গানটির ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন অরবিন্দ ঘোষ ।১৯০৯ সালে তিনি এই গানটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। যা আজও পর্যন্ত যথেষ্ট জনপ্রিয় । বন্দেমাতরম গানটির জনপ্রিয়তা একাংশও এখনও পর্যন্ত কমেনি । কারণ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জাতীয় ধ্বনি ছিল এই গান। এই গানটিকে শ্রী অরবিন্দ ঘোষ ‘ন্যাশনাল অ্যান্থেম অফ বেঙ্গলি’ নামে অভিহিত করেছিলেন । এমনকি প্রথম যখন ১৯০৭ সালে ভারতের জাতীয় পতাকার রূপদান করা হয় সেই সময় পতাকার মাঝে স্থান পেয়েছিল ‘বন্দেমাতরম’ শব্দটি। বহু বছর পর যখন রবীন্দ্রনাথের ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’ গানটি ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা লাভ করে তখন ‘বন্দেমাতরম’ গানটিকে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় ধ্বনি হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories