Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

আপোষহীন মনোভাব ও কঠোর ব্যক্তিত্ব, প্রকৃত অর্থেই লৌহমানবী ছিলেন ইন্দিরা

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

নারী শক্তির জাগরণের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভারতের প্রথম ও আজ পর্যন্ত একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী তিনি। শুধু ভারতই নয়, বিশ্বের প্রভাবশালী নারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তিনি স্মরণীয়। তাঁকে ভারতের লৌহমানবী বলা হত। তাঁর পিতা জওহরলাল নেহেরু ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, তাঁর পিতামহ মতিলাল নেহেরু ছিলেন একজন প্রথম সারির কংগ্রেস নেতা। তিনি ছিলেন পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান।

১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের ১৯ সে নভেম্বর এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেন ইন্দিরা গান্ধী। শৈশবের বেশিরভাগ সময় তিনি বিদেশে কাটিয়েছেন। পড়াশোনা করেছেন স্যুইজারল্যান্ডের বেকসে, জেনেভার ইকোলে, অক্সফোর্ডের সামারভিল কলেজে, ব্রিস্টলের ব্যাডমিন্টন স্কুলে, এছাড়া ভারতের পুণে ও বোম্বাইয়ে ও শান্তিনিকেতনে।

আরো পড়ুন : দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে দুর্বার প্রাণশক্তি দিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন গান্ধীজি

১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি কংগ্রেসে যোগদান করেন। ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে অক্সফোর্ড থেকে ফিরে এসে পিতার সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তিনি যোগদান করেন। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ফিরোজ গান্ধীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা লাভের সময় গান্ধীজির নির্দেশে দিল্লির দাঙ্গা কবলিত এলাকা গুলিতে তিনি কাজ করেছিলেন। এরপর জওহরলাল নেহেরু প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি অপেশাগত ভাবে জওহরলাল নেহেরুর অফিস সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

১৯৫৫ সালে খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটিতে তিনি অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৫০ এর দশকের শেষভাগে তিনি জাতীয় কংগ্রেসের সভানেত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে তাঁর স্বামী ফিরোজ গান্ধীর মৃত্যু ঘটে। জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের সদস্য হন তিনি ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে। জওহরলাল নেহেরুর সঙ্গে একাধিকবার বিদেশ সফর করেছেন ইন্দিরা গান্ধী।

১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে জওহরলাল নেহেরুর মৃত্যুর পর তাঁকে রাজ্যসভার সদস্যপদ প্রদান করা হয়। লালবাহাদুর শাস্ত্রীর ক্যাবিনেটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর পদে আসীন হন তিনি। লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর পর ১৯৬৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে আসীন হন ইন্দিরা গান্ধী। এরপর ১৯৭১ সালে সাধারণ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৬৬ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে তাঁর দল পরাজিত হয়। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি আবার প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ৩১ শে অক্টোবর পর্যন্ত আমৃত্যু তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন ছিলেন। রাজনীতিতে ইন্দিরা গান্ধী পরিচিত ছিলেন তাঁর আপোষহীন মনোভাব ও ব্যক্তিত্বের জন্য। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান ছিল স্মরণীয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করেন। যুদ্ধে ভারত জয়লাভ করে। পূর্ব পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠিত হয়। এই সময় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারতের প্রভাব ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। কংগ্রেস সভাপতি ডি. কে. বড়ুয়া বলেছিলেন, “ইন্দিরাই ভারত ও ভারতই ইন্দিরা।”

বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ ও বিপ্লবের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। এই সময়ে নাগরিকদের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার খর্ব করা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার মত একের পর এক অভিযোগ উঠেছিল। আবার একাধিক স্থানে গণহত্যার মতো ঘটনাও দেখা গিয়েছিল।

১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে পাঞ্জাবে শিখ বিদ্রোহ দেখা দেয়। এই বিদ্রোহে শিখদের দমন করতে কঠোর ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দেন তিনি সেনাবাহিনীকে। এই বছরের জুন মাসে স্বর্ণ মন্দিরে ভারতীয় সেনাবাহিনী অপারেশন ব্লুস্টার নামে একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। শিখ বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু শিখদের আক্রোশের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ৩১ শে অক্টোবর নয়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের উদ্যান পথ ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় তাঁর উপরে গুলি চালায় তাঁর দুই দেহরক্ষী। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অস্ত্রপ্রচার করা হলেও, তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যু ভারতের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান বলা চলে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories