Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

চিত্রনাট্যে ফুটে উঠেছিল দেশভাগের যন্ত্রনা, ঘটকের পরিচালনায় ছিল অস্বীকৃত ইতিহাসের গল্প

1 min read

।।  প্রথম কলকাতা ।।

এবছর স্বধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি। প্রতিবছরের মতোই স্বাধীনতা দিবস আসে। স্বাধীনতা দিবস যায়। আর এই দিনেই স্মৃতিচারণ হয় সেই বিপ্লবী, কবি, সাহিত্যিকদের। যারা নিজেদের প্রাণ দিয়ে দেশবাসীকে দিয়ে গিয়েছিলেন স্বাধীনতার স্বাদ। কেও প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত ছিলেন। আবার কেউ ছিলেন পরক্ষ ভাবে। কেউ ময়দানে নেমে করেছেন লড়াই আবার কেউ প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে হাতে তুলে নিয়েছিলেন কলম। গড়ে ছিলেন একের পর এক কালজয়ী উপন্যাস, ছবির চিত্রনাট্য। এদের মধ্যে থেকেই একজন ঋত্বিক ঘটক। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যিনি আজও অমলিন। তাই স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছরে এসে ফিরে দেখা যাক দেশভাগের যন্ত্রনায় কতর এই পরিচালকের জীবনকাহিনী।

১৯২৫ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকার ঋষিকেশ দাশ লেনে জন্মগ্রহণ করেন ঋত্বিক ঘটক। বাবা ছিলেন সুরেশ চন্দ্র ঘটক আর মা ইন্দুবালা দেবী। বড় ভাই ছিলেন ব্যতিক্রমী লেখক মনীশ ঘটক। মনীশ ঘটকের মেয়ে বিখ্যাত লেখিকা ও সমাজকর্মী মহাশ্বেতা দেবী। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তার পরিবারের সঙ্গে তিনি কলকাতায় চলে যান। তবে নিজের জন্মভূমি ত্যাগ করে শরণার্থী হওয়ার মর্মবেদনা ঋত্বিক কোনো দিন ভুলতে পারেননি এবং তার জীবন-দর্শন নির্মাণে এই ঘটনা ছিল সবচেয়ে বড় প্রভাবক, যা পরবর্তীকালে তার সৃষ্টি চলচ্চিত্রে এর স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।

১৯৪৬ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে আই.এ এবং ১৯৪৮ সালে বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে বি.এ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে এম.এ কোর্স শেষ করেও পরীক্ষা না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন তিনি। বাংলার চিত্র জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র ঋত্বিক ঘটক। নিখাদ কমিউনিস্ট মনভাব নিয়ে তিনি পার্টি করেছেন। একসময় ছিলেন গণনাট্যের সক্রিয় কর্মী। তাঁর রচিত, পরিচালিত সিনেমা, নাটকে সেসব রাজনৈতিক চিন্তাধারার প্রকাশ ঘটেছে।

পরিচালকের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একাধারে গল্পকার, নাট্যকার, অভিনেতা। সারা জীবন শুধুই ভেবে গেছেন সাধারণ মানুষের কথা। মানুষের হয়েই কথা বলে তাঁর প্রতিটি সৃষ্টি। ১৯৫২ সালে প্রথম মুক্তি পায় তাঁর প্রথম ছবি ‘নাগরিক’। নিম্নমধ্যবিত্তের অসহায়তার ইতিহাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধত্তর মধ্যবিত্তের জীবনযন্ত্রণার প্রকাশ পায় এই ছবিতে। এটি তাঁর প্রথম নির্মিত ছবি হলেও মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭৭ সালে। তাঁর পরিচালিত দ্বিতীয় ছবি ‘অযান্ত্রিক’ যন্ত্র-মানব আশ্চর্যের এক রূপকথা। এই ছবি ঋত্বিক ঘটকের শ্রেষ্ঠ ছবি গুলির মধ্যে একটি। এছাড়াও তাঁর পরিচালিত সিনেমাগুলি মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ (১৯৫৯), ‘মেঘে ঢাকা তারা’ (১৯৬০), ‘সুবর্ণরেখা’ (১৯৬২), ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ (১৯৭০), ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ (১৯৭৪), ‘কোলম গান্ধার’, ‘ফিয়ার’, ‘আমার লেলিন’ ইত্যাদি।

জীবনে এই অসামান্য শিল্পকলার জন্য অনেক পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে শিল্পকলায় পদ্মশ্রী উপাধিতে ভুষিত করেন। ‘হীরের প্রজাপতি’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ট শিশুতোষ চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৪ সালে মুক্তি প্রাপ্ত ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ ছবির জন্য ১৯৭৫-এ শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিভাগে ভারতের জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। এটিই ছিল ঋত্বিক ঘটকের পরিচালিত মুক্তিপ্রাপ্ত শেষ ছবি।

এরপরই ঋত্বিক ঘটক মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। প্রায় তিন বছর মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মানসিক ভারসাম্য হারানো অবস্থায় ১৯৭৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৫০ বছর বয়সে মারা যান এই সেলুলয়েড শিল্পী।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories