Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

নাইটি-চুড়িদার বিক্রেতা থেকে আজ টলিউডের বিখ্যাত ‘কমেডিয়ান’, কে ইনি জানেন?

1 min read

।।  প্রথম কলকাতা ।।

নিমেষের মধ্যে মানুষের মন ভালো করে দেওয়ার ম্যাজিক জানে সে। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এই মন ভালো করা ম্যাজিশিয়ান পার্থ সারথিকে চেনেন না এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। টলিউডের অন্যতম সফল অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রমান করেছেন তিনি। তবে তাঁর কেরিয়ারের শুরুতে ছিল অনেকটা স্ট্রাগেল।

টলিউডে অভিনেতা হওয়া তাঁর ছোটো থেকেই স্বপ্ন। অভিনয়ের জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভালো মাইনের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলেন পার্থ সারথি। অভিনয়ে পথ চলা শুরু করেছিলেন থিয়েটার দিয়ে। টানা ১২ বছর থিয়েটার করে সেভাবে অর্থ উপার্জন করতে পারেন নি তিনি। পরবর্তীকালে সংসার চালাতে কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল নাইটি-চুড়িদার বোঝাই ব্যাগ। প্রতিদিন ভোরবেলা ৩.৫০ মিনিটের ট্রেন ধরে হরিষা হাটে পৌঁছে সেগুলো বিক্রি করতেন তিনি।

তবে জীবনের সংগ্রামের কাছে টলিউডের অভিনেতা হওয়ার তার স্বপ্ন কখনও তলিয়ে যায়নি। ওই সময়ই তাঁর কাছে আসে একটি ধারাবাহিকে ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ। খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র না হলেও সুযোগ হাতছাড়া করেন নি তিনি। মন প্রাণ দিয়ে করেছিলেন অভিনয়। যার দাম তাকে দিয়েছিলেন দর্শক। ওই একটি চরিত্রে অভিনয় করেই দর্শকমহলে প্রথম পরিচিতি পেয়েছিলেন পার্থ সারথি। চুড়িদার নাইটি বিক্রেতা পার্থ সারথিকে দর্শক ততদিনে অভিনেতা হিসেবে চিনতে শুরু করেছেন।

এরপর শুরু হলো অভিনয় জীবনের সংগ্রাম। ছেড়ে দিলেন নাইটি-চুড়িদারের ব্যবসা। অন্যদিকে বেসরকারি অফিসের সুখের চাকরি ছেড়ে এই ইন্ডাস্ট্রিতেই থেকে গিয়েছিলেন তিনি। তবে টিকে থাকার লড়াইয়ে বহু সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁকে। হল ছাড়েন নি কখনও। প্রথম প্রথম প্রোডাকশন হাউজ থেকে তার জন্য আলাদা করে গাড়ির ব্যবস্থা করা হতো না। তখন অটোতে কিংবা বাসে করেই নিজের খরচে যাতায়াত করতে হতো তাঁকে।

শুটিংয়ের জন্য আগরপাড়া থেকে কলকাতায় যাতায়াত করতেন পার্থসারথি। বেশি রাত হয়ে গেলে কোনও এক বন্ধুর বাড়িতে থেকে যেতেন।’ সেসময় তাঁর পাশে পেয়েছিলেন কলকাতার সেই প্রকৃতি বন্ধুদের। দিদি নাম্বার ১-এ এসে রচনার সামনে দাঁড়িয়ে জীবন সংগ্রামের এমন কাহিনীই তুলে ধরেছিলেন পার্থ। রেখেছিলেন তাঁর অভিনয় দক্ষতা নিয়ে বক্তব্য। পার্থর কথায়, ‘এক সেকেন্ডও যদি কোনোও চরিত্র থাকে, সেই চরিত্র এতটাই ভালো করতে হবে যাতে তা ৯০ বছর টিকে থাকে”। এই স্ট্র্যাটেজির উপর ভর করেই আজ পার্শ্বচরিত্রের অভিনেতা থেকে বলিউডের প্রথম সারির কমেডিয়ান হতে পেরেছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, পার্থর এমন স্পিরিটকে কুর্নিশ জানিয়েছেন রচনা ব্যানার্জী। টলিউডের প্রথম সারির নামজাদা অভিনেতারদের মধ্যে একজন তিনি বলেই মনে করেন রচনা। তবে পার্থ শুধুমাত্র সেরা কমেডিয়ান নয়। একাধারে গায়কও। ইউটিউবে রয়েছে তাঁর গানের চ্যানেল। সেখানে রয়েছে তাঁর গাওয়া একাধিক গান। প্রথম প্লেব্যক সিঙ্গার হিসেবে গান গেয়েছেন ‘অভিনয়’ নামক একটি মিউজিক ভিডিওতে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories