Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

সফল অধিনায়ক থেকে দক্ষ প্রশাসক, আজও ভারতীয় ক্রিকেটকে দিয়ে যাচ্ছেন নিরলস পরিশ্রম

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা, আর তারপরেই ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসে মাতবে ভারতবাসী। স্মরণ করা হবে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের চরম আত্মবলিদানকে। সেই সঙ্গে স্মরণ করা হবে ভারতের অনন্য ব্যক্তিত্বদের। যারা বিশ্বের দরবারে দেশকে নিয়ে গেছেন এক অন্য মাত্রায়। আর ভারতীয় ক্রিকেটে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এক অনন্য নাম। সফল অধিনায়ক থেকে একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে ভারতীয় ক্রিকেটে যে নামটি সবার আগে মনে আসে তিনি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তথা বাংলার মহারাজ। বাঙালির হৃদয়ে তিনি নিছক ক্রিকেটার নন, বাঙালির আবেগ নিয়ন্ত্রিত হয় তাঁকে ঘিরেই। ক্রিকেটের ২২ গজে একের পর সাফল্যে বাঙালিকে ক্রীড়াজগতের আঙিনায় তুলে ধরেছেন। ম্যাচ গরপেটার অন্ধকারে নিমজ্জিত ভারতীয় ক্রিকেটকে দেখিয়েছেন আলোর দিশা। ভারতীয় ক্রিকেটের ঘুমন্ত আগ্রাসনকে জাগিয়ে বিদেশের মাটিতে চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে শিখিয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। ভারতীয় ক্রিকেটকে দিয়ে গেছেন এক সোনালী অধ্যায়।

যার শুরুটা হয়েছিল ১৯৯২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। ১৯৯২ সালের ১১ জানুয়ারি ব্রিসবেনে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় সৌরভ গাঙ্গুলির। দুর্ভাগ্যবশত ওই ম্যাচে মাত্র তিন রান করেছিলেন তিনি। তাকে ভারতীয় দল থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন এবং নিজেকে ক্রিকেটার হিসাবে তৈরি করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে থাকেন। ১৯৯৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১৩৭ রান করে ফের ওয়ানডে ফিরে আসেন। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ৩১১টি ম্যাচ খেলেছেন সৌরভ। রান করেছেন ১১,৩৬৩। যার মধ্যে রয়েছে ২২টি সেঞ্চুরি ও ৭২টি হাফ-সেঞ্চুরি। ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান ১৮৩। বল হাতে নিয়েছেন ১০০টি উইকেট। নজরকাড়া এই পারফরম্যান্সই বলে দেয় তিনি কতটা দক্ষ ক্রিকেটার ছিলেন।

১৯৯৬ সালে ২০ জুন ইংল্যান্ডের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টেস্টে ক্রিকেটে অভিষেক হয় সৌরভ গাঙ্গুলির। অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি (১৩১) করে অনন্য রেকর্ড গড়েন বাংলার মহারাজ। বল হাতেও নিয়েছিলেন ২টি উইকেট। দ্বিতীয় টেস্টেও করেন সেঞ্চুরি (১৩৬)। প্রথম দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করে ইতিহাসে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বজুড়ে “গড অফ সাইড” নামে পরিচিত হন। ক্যারিয়ারে ১১৩টি টেস্টে ৭,২১২ রান করেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে ১৬টি সেঞ্চুরি ও ৩৫টি হাফ-সেঞ্চুরি। টেস্টে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ২৩৯ রান করেন মহারাজ। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি দাপিয়ে খেলেছেন ভারতের জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগ আইপিএলেও। ৫৯ ম্যাচে রান করেছেন ১,৩৪৯। যার মধ্যে রয়েছে ৭টি হাফ-সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ ৯১ রান।

সালটা ছিল ২০০০, ভারতীয় দলের অধিনায়কত্বের ব্যাটন তুলে দেওয়া হয় সৌরভের হাতে। সেই সময়টা ক্রিকেট জগতের সোনার যুগ বলা যেতে পারে। কারণ তিনি একমাত্র অধিনায়ক ছিলেন যে শিখিয়েছিলেন কীভাবে বিদেশের মাটিতে খেলে জয় ছিনিয়ে নিতে হয়। ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেটে একচ্ছত্র আধিপত্য করেছেন। গড়েছেন একের পর এক বিশ্বরেকর্ড। ৪৯টি টেস্ট ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। জয় পেয়েছেন ২১টি। হার ১৩টি। ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৪৬টি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জয় পেয়েছেন ৭৬টি ম্যাচে। হার ৬৫টি ম্যাচে।২০০৮ সালে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষ টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান মহারাজ। ১৯৯৭ সালে তিনি অর্জুন পুরস্কারে ভূষিত হন, ১৯৯৮ সালে পান স্পোর্টস পারশান অফ দি ইয়ার, ২০০৪ সালে তাকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করে ভারত সরকার এবং ওই বছরেই পান রামমোহন রায় পুরস্কার।

শুরুর দুই বছর সিএবি-র যুগ্ম সচিব পদে নিযুক্ত ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ২০১৫ সালে সিএবি-র সভাপতি থাকাকালীনই প্রয়াত হন বিসিসিআই ও আইসিসি-র প্রাক্তন সভাপতি জগমোহন ডালমিয়া। এরপর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সভাপতি বাছা হয়। সৌরভের হাত ধরেই বাংলা ক্রিকেটে আসে আমূল পরিবর্তন। বদলে দিয়েছেন ক্রিকেটের নন্দন-কানন ইডেন গার্ডেন্সের চরিত্র। এখন গোটা বৃষ্টিতে ইডেন ঢাকা থাকে। বৃষ্টি শেষ হলে ম্যাচ শুরু করতেও বেশি সময় লাগে না এখন। স্পিন বোলিংয়ে ভর করে ম্যাচ জেতা নয় ইডেনের উইকেটে জয় পেতে খেলতে হয় দুর্দান্ত ক্রিকেট। যার অন্যতম কান্ডারী সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

এরপর ২০১৯ সালের অক্টোবর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নিযুক্ত হন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিসিআই-এর ৩৯ তম সভাপতি। ভারতীয় ক্রিকেটের মসনদে বসে প্রথম সাফল্য বলতে দিন-রাতের টেস্ট আয়োজন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। যেখানে বিসিসিআই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দিন-রাতের টেস্ট খেলার আবেদন নাকচ করেছিল। এবং দেশের মাটিতেও নতুন ফরম্যাট চালু করতে রাজি ছিল না। সেখানে ব্যাতিক্রম ছিলেন সৌরভ। ইডেনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেই দিন-রাতের টেস্ট আয়োজন করে দেখিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্ববাসীকে। তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পদ বসে জানিয়েছিলেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় তার প্রধান লক্ষ্য।

সেই মতো প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের ভাতা বাড়িয়ে সাফল্যের সঙ্গে প্রথম ধাপ এগিয়েছেন মহারাজ। এরপর আইপিএলের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। সেই অনুষ্ঠানের নির্ধারিত টাকা ভারতীয় ক্রিকেটারদের হিতার্থে কাজে লাগানো হবে বলে জানান সৌরভ। করোনার তীব্র প্রকোপের মধ্যে দেশবাসীকে গৃহবন্দী জীবনে একটু আনন্দ দিতে বিদেশের মাটিতে সফলভাবে আয়োজন করেন আইপিএল। একইভাবে বর্তমানেও একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে ভারতীয় ক্রিকেটকে নিয়ে যাচ্ছেন এক অন্য জায়গায়।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories