Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

নাইট উপাধি ত্যাগ, অরবিন্দ ঘোষকে লেখা উৎসর্গ…, স্বাধীনতার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

স্বাধীনতা দিবস আর ররবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বেশ খানিকটা ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে। ব্রিটিশ সরকারের দীর্ঘ মেয়াদি অত্যাচারী শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন হয়েছে ভারত। মাঝে চলে গেছে অনেকগুলো বছর। বর্তমানে স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব পালন করছে দেশ। তবে ইতিহাসের ভয়ঙ্কর কিছু ঘটনা আজ ও দগদগে দেশবাসীর হৃদয়ে। ঠিক যেমন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড। প্রায় ১০২ বছর আগে এক নির্মম হত্যালীলার সাক্ষী হয়েছিল গোটা দেশ, যা পাঞ্জাবসহ সারা দেশে এমন প্রভাব ফেলেছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া নাইট উপাধি ত্যাগ করেছিলেন।

ইতিহাস ঘেঁটে একাধিক ঘটনার কথা জানা যায় যা জুড়ে জুড়ে স্পষ্ট বোঝা যায় যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঠিক কতটা জড়িয়ে আছেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে। ১৯০৭ সালে বন্দেমাতরম ইংরেজি দৈনিকে বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষ একটি রাজদ্রোহমূলক লেখা লিখে পুলিশের সমন পান এবং পরে জামিনে আদালত থেকে মুক্ত হন। সাথে সাথেই রবীন্দ্রনাথ অরবিন্দকে উদ্দেশ্য করে লিখলেন – ‘দেবতার দ্বীপ হস্তে যে আসিল ভবে , সেই রুদ্র দূতে বল কোন রাজা কবে পারে শাস্তি দিতে’।

আরো পড়ুন : ইংরেজ শাসনের ভিত নড়িয়ে দিয়েছিলেন যিনি, স্বাধীনতা আন্দোলনে সরোজিনী নাইডুর অবদান

ইতিহাস জানান দেয় আরও এক ঘটনার কথা৷ ১৯০৮ সালে খুলনা সেনহাটি স্কুলের শিক্ষক হীরালাল সেন হুঙ্কার নামে একটি কবিতা সংকলন প্রকাশ করেন । বইটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং ব্রিটিশরাজ বিরোধী কবিতা লেখার জন্য লেখকের ৬ মাস কারাদণ্ড হয়। এদিকে বইটি উৎসর্গ করা ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।

সেই সূত্রে কবিগুরু সমন পেয়েছিলেন খুলনার মাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে । সমনের বিষয়বস্তু ছিল সরকার পক্ষে তাকে সাক্ষী দিতে হবে। কবিগুরু গেলেন এবং গিয়ে আদালতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন স্বাধীনতাকাঙ্খী তরুণের পক্ষে কবিতা বা গান লেখা আদৌ অস্বাভাবিক নয়। ওকালতি তার পেশা নয়। সুতরাং কবিতা বা গান কী পরিমাণ উত্তেজক হলে সেটা আইনত দণ্ডনীয় হবে সেটা তার জানা নেই। এটা শুনে মাজিস্ট্রেটও একদম চুপ।

রবীন্দ্রনাথ যেমন সাম্রাজ্যবাদের বিরোধী ছিলেন তেমনই অপরদিকে ছিলেন জাতীয়তাবাদের সমর্থক। সমন্বয়বাদী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী রবীন্দ্রনাথ প্রাচীন ভারত ও ইংরেজ শাসনকেও সমন্বয়ের দৃষ্টিতে দেখতে চেয়েছিলেন, উন্নত ও আধুনিক ভারতবর্ষ পুনর্নির্মাণে ইংরেজ ভূমিকা নেবে-তিনি দীর্ঘদিন এমন বিশ্বাসই লালন করেছিলেন। কিন্তু ব্রিটিশ দ্বারা ভারতীয়দের শোষণের ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। তাই নিজের নাইট উপাধি ত্যাগ করতেও দু’বার ভাবেননি তিনি।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories