Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ইংরেজ শাসনের ভিত নড়িয়ে দিয়েছিলেন যিনি, স্বাধীনতা আন্দোলনে সরোজিনী নাইডুর অবদান

।। প্রথম কলকাতা।।

কিছুদিনের মধ্যেই উদযাপিত হতে চলেছে স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষপূর্তি। কিন্তু দেশের এই স্বাধীনতা লাভের পেছনে রয়েছে রক্তাক্ত ইতিহাস। একদিনে স্বাধীনতা আসেনি। ভারত মাতার বহু সন্তানের রক্তের বিনিময়ে, তাঁদের ত্যাগ, আত্ম বলিদানে এসেছে স্বাধীনতা। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে প্রত্যক্ষভাবে ও পরোক্ষভাবে অসংখ্য বিপ্লবী যুক্ত ছিলেন। যুক্ত ছিলেন শত শত নারী। যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সরোজিনী নাইডু। যাকে ভারতীয় নাইটেঙ্গেল বলে অভিহিত করা হয়।

জাতীয় কংগ্রেসের তিনিই প্রথম মহিলা সভাপতি। আর স্বাধীন ভারতের তিনিই প্রথম মহিলা রাজ্যপাল।১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দের ১৩ ই ফেব্রুয়ারি হায়াদ্রাবাদে এক হিন্দু বাঙালি ব্রাহ্মণ পরিবারে সরোজিনী নাইডুর জন্ম। যদিও তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরের ব্রাহ্মণগাঁওতে। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল সরোজিনী চট্টোপাধ্যায়। মুথ্যালা গোবিন্দরাজুলু নাইডুর সঙ্গে বিবাহ হবার কারণে তিনি সরোজিনী নাইডু নামে সমধিক প্রসিদ্ধ।

সরোজিনী নাইডু একদিকে ছিলেন রাজনীতিবিদ, অন্যদিকে ছিলেন কবি। অনন্য প্রতিভার অধিকারী ছিলেন তিনি। আবার, স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে ইংরেজ শাসনের ভিত নড়িয়ে দিয়েছিলেন যিনি। মাত্র ১২ বছর বয়সে দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় বসে তিনি শীর্ষস্থান অধিকার করেন। এরপর লন্ডনে যান। লন্ডনের কিংস কলেজ, কেমব্রিজের গার্টন কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন। অত্যন্ত অল্প বয়স থেকেই তিনি কবিতা লিখতেন। ইংল্যান্ডে প্রথম গান্ধীজীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। গান্ধীজীর চিন্তাভাবনায় তিনি বিশেষভাবে প্রভাবিত হন।

আরো পড়ুন : নেতাজি ডাকতেন মা বলে, স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বাসন্তী দেবী

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগদান করেন সরোজিনী নাইডু। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই গোপালকৃষ্ণ গোখলে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অ্যানি বেসান্ত, জওহরলাল নেহেরুর সংস্পর্শে আসেন তিনি। চম্পারণে নীলচাষীদের সপক্ষে আন্দোলন করেন। ১৯২৫ সালে তিনি কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মহিলা সভাপতি।

১৯১৭ সালে গঠিত উইমেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন যার সভাপতি ছিলেন অ্যানি বেসান্ত, সেখানকার সদস্যপদ গ্রহণ করেন তিনি। ১৯১৯ সালে সরোজিনী নাইডু লন্ডন যাত্রা করেন। সে সময় তিনি অল ইন্ডিয়া হোমরুল লীগের সদস্য। ১৯২০ সালে ভারতে ফিরে এসে গান্ধীজীর সত্যাগ্রহ আন্দোলনে যোগদান করেন। এরপর ১৯২৬ সালে অল ইন্ডিয়া উইমেন কনফারেন্স গঠিত হলে তিনি তার সভাপতি নির্বাচিত হন। যার দ্বারা তিনি নারী শিক্ষা অধিকার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৩০ সালের ৫ই মে সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সময় গান্ধীজিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকেও। গান্ধীজি ও পন্ডিত মালব্যের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে তিনি যোগদান করেন। এরপর ১৯৪২ সালে তিনি যোগদান করেন ভারত ছাড়ো আন্দোলনে। ১৯৪২ এর ২ রা অক্টোবর তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গান্ধীজীর সঙ্গে ২১ মার্চ তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।দেশ স্বাধীন হবার পর তখনকার যুক্ত প্রদেশ, বর্তমান উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল হন তিনি। তিনিই ভারতের প্রথম মহিলা রাজ্যপাল। সাহিত্য সাধনা ও বাগ্নীতার জন্যও তিনি বিশেষভাবে খ্যাত ছিলেন। ১৯৪৯ সালের ২রা মার্চ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু ঘটে। দেশে তাঁর জন্মদিনটিকে জাতীয় নারী দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories