Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘চিরদাতা’ হিসেবেই পরিচিত চিত্তরঞ্জন দাশ,বিনা পারিশ্রমিকেই লড়তেন বিপ্লবীদের মামলা

1 min read

।। প্রথম কলকাতা।।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বহু বীর বিপ্লবী সাহসী সংগ্রামীদের কথা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। যারা ব্রিটিশ শক্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লড়াই করেছিলেন তাদেরকেও যেমন দেশবাসী মনে রেখেছেন সেই রকমই স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা সবসময় এই বিপ্লবীদের পাশে থেকেছেন, সহযোগিতা করেছেন নিজের সবটুকু দিয়ে, তাদেরকেও মানুষ হৃদয়ে স্থান দিয়েছে। তেমনি এক ব্যক্তিত্ব হলেন চিত্তরঞ্জন দাশ। তিনি ‘দেশবন্ধু’ হিসেবেই পরিচিত বঙ্গবাসীর কাছে। শুধুমাত্র একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী তিনি ছিলেন না। একাধারে ছিলেন রাজনীতিবিদ , সাংবাদিক এবং বিশিষ্ট আইনজীবী।

শহর কলকাতাতেই জন্মগ্রহণ ১৮৭০ সালে। এইখানেই বেড়ে ওঠা, পঠন-পাঠন এবং নিজের চাকরি জীবন। তিনি শুধুমাত্র পেশায় একজন আইনজীবী ছিলেন না, ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ । রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ।১৯২২ সালে তিনি কংগ্রেসের সভাপতিত্ব করেন। তবে পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের জেরে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন স্বরাজ পার্টি। ব্রিটিশ আদালতে ভারতীয়দের হয়ে মামলা লড়ার অদম্য সাহস তিনি দেখিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তাঁর ওকালতিতে দক্ষতার কথা ভারতময় ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি বন্দেমাতরম’ পত্রিকার সম্পাদক শ্রী অরবিন্দ ঘোষের আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলা এবং মননতলা ষড়যন্ত্র মামলা কলকাতা হাইকোর্টে লড়েছিলেন।

আর এই দুটি মামলায় নিঃস্বার্থভাবে কঠোর পরিশ্রম করে যান তিনি। যার কারনে কলকাতা হাইকোর্টে তাঁর যথেষ্ট সুনাম ছড়িয়ে পড়ে । তিনি বাড়তি উপার্জনের জন্য অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের মামলা লড়তেন। সেখান থেকে পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক নিতেন । তবে কখনই বিপ্লবী কিংবা জাতীয়তাবাদীদের মামলা লড়ার জন্য পারিশ্রমিক নেননি তিনি । বিনা পারিশ্রমিকে নিজের সর্বশেষটুকু দিয়ে মামলায় জয়যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। ওকালতিতে দক্ষ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ১৯২০ সালে গান্ধীজির আহ্বানে তাঁর ওকালতির পেশা ছেড়ে দেন আর তারপর নিযুক্ত হন অসহযোগ আন্দোলনে।

আরো পড়ুন : কলমের খোঁচায় যার বিপ্লব, ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন সেই রামমোহন

বিলাসবহুল জীবনযাপন ছেড়ে তিনি পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেন দেশের সেবায় । ব্যারিস্টারি পেশা ছেড়ে সারা দেশে ঘুরে বেড়ান তিনি। যিনি এক সময় বহরের ফরমায়েশি ঢাকাই ধুতি পড়ে রাস্তায় বেরোতেন তিনি পড়তে শুরু করেন মোটা খাদির ধুতি। ধবধবে সাদা গিলে করা সুন্দর পাঞ্জাবির বদলে তাঁর অঙ্গে ওঠে খাদির মোটা ফতুয়া। যার রেল যাত্রার সময় আলাদা করে কামরা রিজার্ভ করা হতো, তিনি নিজেকে দেশের সেবায় নিয়োগ করার জন্য ট্রেনের থার্ড ক্লাসে সঙ্গী হলেন সাধারণ জনতার।তিনি নিজেকে নিঃস্ব করে দিয়েও অপরের সাহায্য করতে ভালোবাসতেন। যার কারণে তাঁর বাড়িতে আশ্রয় পেত ডাকাতরা পর্যন্ত।

তিনি কারও দুঃখের কথা শুনলে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে তাঁর সাহায্য করতেন। শোনা যায় একবার তাঁর এক আত্মীয় চরম অর্থসঙ।কটের মধ্যে পড়ে দশ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। তাও আবার ৯ শতাংশ সুদে । সেই আত্মীয়র কাছে দুঃখের কথা শুনে তাকে ঋণ মুক্ত করার দায়িত্ব নেন তিনি। আর সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেই ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েন। আর তারপর হাসিমুখে আবারও অন্যের জন্য নেওয়া ঋণ শোধ করেন তিনি। তাঁর এইরকম দানশীলতার গল্প বহু রয়েছে। যার গুটি কতক হয়তো আমরা জানি। তবে চিত্তরঞ্জন দাশের এই উদার মন এবং সকলকে সাহায্য করার মানসিকতার জন্যই তিনি ‘দেশবন্ধু’ হিসেবে পরিচিত।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories