Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

নেতাজি ডাকতেন মা বলে, স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বাসন্তী দেবী

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন মানে প্রায় ২০০ বছরের বেশি এক রক্তাক্ত সংগ্রাম। এই সংগ্রামে কিছুটা হলেও দিক পরিবর্তন হয়েছিল ১৯২০ সালের পর থেকে, যখন বহু মানুষ গান্ধীজির আহ্বানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আইন অমান্য আর অসহযোগ আন্দোলনে। যাদের লক্ষ্য ছিল সম্পূর্ণভাবে ব্রিটিশ সরকারকে অসহযোগিতা করা। পাশাপাশি ত্যাগ করেছিলেন বিদেশী দ্রব্য। তাঁরা বুঝে গিয়েছিলেন, স্বদেশী জিনিস ব্যবহার করে নিজেদেরকে শক্ত পায় দাঁড়াতে হবে। আর এই আন্দোলনে যে বীর রমণীদের কথা প্রথমেই চলে আসেন তিনি হলেন বাসন্তী দেবী। তাঁর অনেকগুলি পরিচয় রয়েছে । নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং বীণা দাস তাঁকে মা বলে ডাকতেন। তিনি ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্ত্রী।

বাসন্তী দেবী স্বামীর কাছ থেকে পেয়েছিলেন উচ্চশিক্ষা আর রাজনীতির শিক্ষা। তিনি সুভাষচন্দ্রের অনুপ্রেরণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ছিলেন। নির্দ্বিধায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আইন অমান্য আন্দোলনে। ১৯২১ সালে দাঁড়িয়ে বহু মেয়ে আন্দোলনের সরাসরি এগিয়ে আসতে কিছুটা হলেও ভাবতেন। কিন্তু সেই সময় দাঁড়িয়ে বাসন্তী দেবী মেয়েদের নিয়ে সংগঠন করতে চেয়েছিলেন। গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছিলেন স্বদেশী চরকার। খাদি কাপড় নিয়ে বড়বাজারে হরতাল ঘোষণা করার সময় তিনি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। কিন্তু তাঁর গ্রেফতার মেনে নেননি বহু বঙ্গ বীর রমণীরা। তাঁরা সবাই মিলে থানার সামনে বিক্ষোভ করলে বাসন্তী দেবীকে নিয়ে যাওয়া হয় লাল বাজারে।

সেখানেও দেখা যায় জনতার বিক্ষোভ। যা দেখে প্রমাণ হয়ে যায় সেই সময়ে ভারতবাসীর মনে ঠিক কতটা জায়গা জুড়েছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশ আর বাসন্তী দেবী। এমন পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে পড়ে পুলিশ। তারা বাসন্তী দেবীকে বন্ড লিখতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি তা লেখেননি। অবশেষে তাঁকে পাঠানো হয় প্রেসিডেন্সি জেলে। চারিদিক থেকে প্রশাসনের উপর আস্তে থাকে নানান চাপ। অবশেষে রাত এগারোটার সময় বাসন্তী দেবীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই গভীর নিশুতি রাতে তিনি হেঁটে বাড়ি ফিরেছিলেন। স্বামীকে জানিয়েছিলেন হয়ত জেলে থাকলেই ভালো হত, তাহলে আরো জোরদার হয়ে উঠতো তাঁদের আন্দোলন।

আরো পড়ুন : ‘চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন’ থেকে শুরু করে ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’ রুপোলি পর্দায় আজও অমলিন সেসব গল্প

বাসন্তী দেবী ছিলেন জাতীয়তাবাদী নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্ত্রী। বাসন্তী দেবীর সাথে সুভাষচন্দ্রের সম্পর্ক ছিল একটু অন্য মাত্রায়। স্নেহ শাসন বন্ধুত্ব সবকিছুই মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল সেই সম্পর্কে। একদিন রাত্রে যখন চিত্তরঞ্জন দাশ খেতে বসেছেন, ঠিক সেই সময় একদল ছাত্র তাঁর বাড়িতে আসেন। সেই সময় উকিল হিসেবে চিত্তরঞ্জন দাশের নামে বেশ খ্যাতি রয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ জোরালো কাণ্ড ঘটে গিয়েছে অধ্যাপক ওটেনকে কেন্দ্র করে। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রাস্টিকেট করে দেওয়া হয়েছিল সুভাষচন্দ্রকে।

১৯ বছর বয়সী সুভাষচন্দ্রকে সে দিন রাত্রেই বাসন্তী দেবী প্রথম দেখেছিলেন।তারপর সাক্ষাৎ হয় যখন ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের নিয়োগপত্র ফিরিয়ে দেন সুভাষচন্দ্র। কলকাতায় ফিরে তিনি ছুটে গিয়েছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশের বাড়ি। কিন্তু সেদিন দেশবন্ধু বিশেষ কাজের কারণে কলকাতার বাইরে ছিলেন। বেশ অনেকক্ষণ বসে কথা হয়েছিল বাসন্তী দেবীর সাথে। সেই দীর্ঘক্ষণ কথার মাধ্যমেই দুজনের মধ্যে সৃষ্টি হয় এক নিবিড় সম্পর্ক, যে সম্পর্কের বন্ধনে সুভাষচন্দ্র বসু বাসন্তী দেবীকে ‘ মা ‘ সম্বোধন করতেন।

গুরু চিত্তরঞ্জন দাশের সঙ্গে সুভাষচন্দ্র বসুর খুঁটিনাটি লাগলে তা সামাল দিতেন বাসন্তী দেবী। এমনকি তিনি মাঝে মাঝে সুভাষচন্দ্রের নেওয়া সিদ্ধান্ত বুঝিয়ে বদল করে দিতে পারতেন। সক্রিয়ভাবে তিনিও নানান আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে গিয়েছিলেন জেলেও। আবার স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়াকেও মাঝে মাঝে সামাল দিতেন সুভাষচন্দ্র। দেশনায়ক যখন জব্বলপুর জেলে বন্দি ছিলেন, তখন তিনি অত্যন্ত ভেঙে পড়েন। সেই সময় বাসন্তী দেবী প্রয়াত চিত্তরঞ্জন দাশের একটি শাল নিজের হাতে তুলে দিয়ে বলেছিলেন, যে গুরুর আশীর্বাদ সর্বদা তাঁর কাছে আছে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories