Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন’ থেকে শুরু করে ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’ রুপোলি পর্দায় আজও অমলিন সেসব গল্প

1 min read

।।  প্রথম কলকাতা  ।।

হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। কদিন পরেই ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ তম বছর পূর্তির আনন্দে মেতে উঠবে দেশবাসী। তবে এই আনন্দের পেছনে রয়েছে বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মত্যাগ। যারা প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে দেশ স্বাধীন করার লড়াই লড়ে গিয়েছিলো শেষ নিঃস্বাস পর্যন্ত। পরবর্তীকালে সেই বিপ্লবীদের জীবন সংগ্রাম, ত্যাগ ও তাঁদের পরিবার নিয়ে তৈরি হয়েছে বহু ছবি। আর সেসব ছবির মাধ্যমেই নতুন প্রজন্মের কাছে সেসময়কার বাস্তব রূপ তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন বহু পরিচালক। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে এসেও দেশপ্রেম ও দেশভক্তির এই ছবিগুলোই অন্যতম পথ তাঁদের সেই আত্মবলিদান অনুভব করার। তাই স্বাধীনতা দিবসের আগেই রইলো ‘ছবির মুক্তিযুদ্ধের’ সেসব গল্প।

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন (১৯৪৯)

স্বাধীনতার সবে ২ বছরে পা। আর এই বছরই বাংলা চলচ্চিত্রের বিখ্যাত পরিচালক নির্মল চৌধুরীর হাত ধরে গড়ে উঠলো ‘চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন’। ছবিতে ফুটে উঠেছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রের যোগান রাখতে মাস্টারদা সূর্য সেনের সেই চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুঠের কাহিনী। এছাড়াও মাস্টারদা ও তাঁর সঙ্গী সাহসী তরুণ বিপ্লবীদের আত্মকথাই উঠে এসেছে এই ছবিতে। অভিনয়ে ছিলেন, দীপ্তি রায়, বনানি চৌধুরি, স্মৃতি বিশ্বাস, অপর্ণাদেবী, দীপক মুখোপাধ্যায়, গৌতম মুখোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে।

বিয়াল্লিশ (১৯৪২)

স্বাধীনতার পাঁচ বছর আগের কথা। যখন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে চলছিল ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’। কীভাবে ব্রিটিশদের দেশ ছাড়ার জন্য বাধ্য করেছিলেন ভারতীয়রা ১৯৪২ সালের সেই বাস্তব ঘটনাই রুপোলি পর্দায় তুলে ধরেছিলেন পরিচালক হেমেন গুপ্ত। সালের প্রেক্ষাপটেই ছবির নাম রেখেছিলেন ‘বিয়াল্লিশ’। ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল হরিমোহন বোস, মঞ্জু দে, প্রদীপ কুমার, শম্ভু মিত্র, বিকাশ রায়, কালী সরকার ও সুরুচি সেনগুপ্তকে।

সুভাষ চন্দ্র (১৯৬৬)

ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস’। স্বাধীনতার উনিশ বছর পর কিংবদন্তী এই ব্যক্তিত্বের জীবন কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে পরিচালক পীযূষ বোস গড়ে তুলেছিলেন নতুন ছবি ‘সুভাষ চন্দ্র’। শৈশব থেকে শুরু করে কলেজের দিন, ICS পাস করা, রাজনীতিতে পা, দেশের স্বাধীন করার লড়াই, পুলিশের হাতে গ্রেফতার সবটাই ফুটি উঠেছে এই ছবিতে। ছবিতে অভিনয় করেছেন অমর দত্ত, সমর চ্যাটার্জি, আশিস ঘোষ সহ আরও অনেকে।

মহাবিপ্লবী অরবিন্দ (১৯৭১)

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে যুক্ত বিপ্লবীদের মধ্যে একজন ঋষি অরবিন্দ। আর তাঁর জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই ১৯৭১ সালে ‘মহাবিপ্লবী অরবিন্দ’ ছবিটি তৈরি করেন পরিচালক দীপক গুপ্ত। ছবিতে তাঁর ছোটোবেলার জীবন থেকে শুরু করে বিবাহ, সিস্টার নিবেদিতার সঙ্গে কথোপকথন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান, আলিপুর বম্ব ব্লাস্ট ও তার পরবর্তী বিচার সমস্তটাই তুলে ধরেছেন পরিচালক। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন অজিতেশ ব্যানার্জি, সুব্রত চ্যাটার্জি, তরুণ কুমার, পদ্মাদেবী ও দীলিপ রায়।

শপথ নিলাম (১৯৭২)

জীবন চৌধুরী পরিচালিত ১৯৭২ সালের ৭ জুলাই মুক্তি প্রাপ্ত ‘শপথ নিলাম’ ছবিতে মূলত দেখানো হয়েছে বাংলার বিপ্লবী দীনেশ মজুমদারের গল্প। দেশে যখন ব্রিটিশ শাসন চলছিল, তখন দীনেশের মতো তরুণ বিপ্লবীরাই ব্রিটিশদের দেশ থেকে তাড়ানোর জন্য লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। সেসময় যুগান্তর দলে যোগ দিয়ে ব্রিটিশ পুলিশকে মারার ব্যর্থ চেষ্টায় জেলবন্দী করা হয়েছিল তাঁকে। তবে আটকে রাখা যায়নি তাঁকে। কিছুদিনের মধ্যেই জেল থেকে বেরিয়ে গিয়ে যোগ দিয়েছিলেন বিপ্লবে। তাঁর জীবন অবর্তিত সেইসব ঘটনাই তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে।

দেবী চৌধুরানী(১৯৭৪)

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব তিনি। ১৯৭৪ সালে দীনেন গুপ্তা পরিচালিত এই ছবি গড়ে উঠেছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘দেবী চৌধুরানি’-র প্রেক্ষাপটে। মূলত উপন্যাসটিরই সেলুলয়েড রূপ এটি। যেখানে রয়েছে বাঙালি গোঁড়া পরিবারের অন্তর্গত মহিলার জীবনকাহিনী। ছবিতে প্রফুল্ল থেকে দেবী চৌধুরানী হওয়ার জন্য যে রূপান্তর, তা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন। এছাড়াও এই ছবিতে অভিনয় করেছেন হারাধণ ব্যানার্জি, কালী ব্যানার্জি, ছায়াদেবী সহ আরও অনেকে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories