Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ছেলের লাশ কাঁধে নিয়ে ২ কিলোমিটার হাঁটলেন বাবা, সবাই শুধু দেখল! লজ্জিত মানবতা

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

এক অসহায় পিতা যাকে দেখে মানবতাও লজ্জিত। ছেলের মৃত্যু হয়েছে অথচ পাননি কোন অ্যাম্বুলেন্স। এমনকি হাসপাতালে তরফ থেকেও সেভাবে সাহায্যের হাত তার দিকে এগিয়ে আসেনি। অবশেষে ছেলের মৃতদেহ কাঁধে তুলেই রওনা দিলেন বাড়ির দিকে। ১৪ বছর বয়সী ছেলের দেহ কাঁধে নিয়ে যখন তিনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলেছেন, তখন বহু মানুষ সেই দৃশ্য দেখেছে কিন্তু কারোর মনে একবারের জন্যও মনে হয়নি একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার।

অবশেষ এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য চোখে পড়ে কিছু সেনা সদস্যদের, তাঁরা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন। এই দৃশ্য যারাই দেখছেন তারাই প্রশ্ন তুলেছেন মানবতা নিয়ে। আবার অনেকেই কুর্নিশ জানিয়েছেন জওয়ানদের প্রতি। কয়েকদিন আগেই এই ধরনের আরেকটি দৃশ্য ভাইরাল হয়েছিল। যেখানে ছোট্ট শিশুর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে এক মা দাঁড়িয়েছিলেন। সন্তানহারা পিতা-মাতাকে যদি সর্বহারাদের দলে ফেলা হয় তাহলে হয়তো খুব একটা ভুল হবে না। ঘটনাটি ঘটেছে প্রয়াগরাজে।

আরো পড়ুন : ’ভোটের পরেই উধাও, এলাকায় মন্ত্রীর দেখা মিলবে তো?’, স্নেহাশিসকে তীব্র কটাক্ষ ত্বহার

মঙ্গলবার কোন অ্যাম্বুলেন্স পাননি, আর যে চালকরা যাবে বলেছিলেন তারা প্রচুর টাকা দাবি করেছিলেন। তাই বজরঙ্গি যাদব বাধ্য হয়েছিলেন বৃষ্টির মধ্যে তার ১৪ বছর ছেলের লাশ কাঁধে নিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তা হাঁটতে। তার ১৪ বছর বয়সী ছেলে শুভম বিদ্যুৎপৃষ্ট হয় যার কারণে তাকে নিয়ে আসা হয় স্বরূপ রানী নেহেরু হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তারপর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় আরো দ্বিগুণ সমস্যায় পড়েন। তিনি সেই সময় কোন অ্যাম্বুলেন্স পাননি। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা যে টাকা চাইছিল সেই টাকা তার কাছে ছিল না। অবশেষে তিনি ছেলের দেহ কাঁধে নিয়ে হাঁটা শুরু করেন গ্রামের দিকে।

ভিডিওটি সামনে আসতেই কমিশনার সিএমওকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনায় মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। ওই ব্যক্তি অনেকদূর হেঁটে যাওয়ার পর সেনা সদস্যরা সেই দৃশ্য দেখে একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন। এই বিষয়ে প্রয়াগরাজের বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন, এই বিষয়ে উচ্চ পর্যায় তদন্ত করা হবে। যদি কোন গাফিলতি পাওয়া যায় তাহলে এর জবাবদিহিতা করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

পাশাপাশি শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রশ্ন উঠছে, এক অসহায় বাবার কাছে যখন অ্যাম্বুলেন্সের জন্য টাকা ছিল না তখন হাসপাতাল থেকে লাশ বাড়ি পাঠানোর দায়িত্ব কেন ঝেড়ে ফেলা হল? তাহলে কি মানুষের মনুষ্যত্ব ও ধ্বংস হয়ে গিয়েছে? এমনকি অসহায় বাবা যখন ছেলের লাশ কাঁধে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন তখন পথেও কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। যদিও এই জওয়ানদের কাজ থেকে বোঝা যায় এখনো পৃথিবীতে মানবতা রয়েছে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories