Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

কলকাতায় এসে মহাফাঁপরে বাংলাদেশি পর্যটকেরা, লোকসানের মুখে একাধিক সংস্থা, কিন্তু কেন?

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

বাংলাদেশে পদ্মা সেতু চালু হবার পর বাংলাদেশ থেকে পর্যটকদের ঢল নেমেছিল । বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পশ্চিমবঙ্গে এসে থাকেন। এই পর্যটকদের অধিকাংশই (প্রায় ৭০ ভাগ) কলকাতায় আসেন, বাকিরা পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থানে যান। এদের মধ্যে অধিকাংশ আসেন চিকিৎসার কারণে। সম্প্রতি পর্যটনে এসেছে বিরাট ধাক্কা। বাংলাদেশের টাকার দাম আচমকা পড়ে যাবার কারণে তীব্র সমস্যায় পড়েছেন পর্যটকেরা। কিছুদিন আগেও ১০০ বাংলাদেশি মুদ্রায় পাওয়া যেত ৮৪ – ৮৫ ভারতীয় রুপি। যা এক ধাক্কায় কমে দাঁড়িয়েছে ৬৯ রুপি। তবে, ১০০০ বাংলাদেশী টাকা দিলে পাওয়া যাচ্ছে ৭১০ টাকা। অর্থাৎ ১০০ বাংলাদেশি টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ৭১ ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশী টাকার এই অবমূল্যায়ন বড় রকম প্রভাব ফেলেছে পর্যটনে। কমছে বাংলাদেশী পর্যটক।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ শে জুন যেদিন পদ্মা সেতুর দ্বার উন্মোচন হয়েছিল, সেদিন বাংলাদেশী ১০০ টাকায় ভারতে পাওয়া যেত ৮৫ ভারতীয় রুপি কিন্তু তার ঠিক একমাস পর বাংলাদেশী ১০০ টাকায় কলকাতায় পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬৯, ৭০ বা খুব বেশি হলে ৭১ ভারতীয় রুপি। যার ফলে কলকাতায় আসা বাংলাদেশের পর্যটকেরা পড়েছেন চরম বিপদে। যারা চিকিৎসার জন্য আসছেন, অনেক ক্ষেত্রে তাদের চিকিৎসা না করিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। যারা সাত দিনের জন্য থাকতে আসছেন, তিন-চার দিন থেকেই তাদের দেশে ফিরতে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ কাজের উদ্দেশ্যে যারা এদেশে আসছেন, তাদের অনেক সময় কাজ না করেই দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে।

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকা যা মূলত বাংলাদেশী পর্যটকদের উপরেই নির্ভর করে থাকে, সেই এলাকার বিভিন্ন মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র ঘুরে দেখা গিয়েছে, কেন্দ্র গুলো প্রায় ফাঁকা। ‌ খুব অল্প সংখ্যক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র থেকে মিলছে বাংলাদেশি টাকার বিনিময়ে ভারতীয় রুপি। ‌ মুদ্রা বিনিময়ে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারাও ব্যাঙ্কে গিয়ে বাংলাদেশী টাকার বিনিময় মূল্য কম পাচ্ছেন। তাই বাংলাদেশী পর্যটকদের কাছ থেকে তারা বাংলাদেশী টাকা কম দামে কিনছেন।তবে, একাধিক ব্যাঙ্কে খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে , সরকারিভাবে বাংলাদেশী ১০০ টাকায় ৮৩ ভারতীয় রুপি পাওয়া যাচ্ছে। তবে, অধিকাংশ বাংলাদেশী পর্যটক স্থানীয় বিভিন্ন মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশী টাকার বিনিময় করেন। ‌তবে কোন বাংলাদেশী পর্যটক বৈধভাবে বাংলাদেশি টাকা নিয়ে আসতে পারেন না। ‌ অনেকে অবৈধভাবেই বাংলাদেশী টাকা নিয়ে আসেন। এ কারণে ভারতীয় মুদ্রা বিনিময় কারীরা এটার সুযোগ নিচ্ছেন। ‌

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় প্রায় শতাধিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র রয়েছে। বেশ কয়েকটি মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র ঘুরে জানা যাচ্ছে, এই টাকাগুলো তারাও অবৈধভাবে ক্রয় করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুদ্রা ব্যবসায়ী জানান, একজন বাংলাদেশী পর্যটক বৈধভাবে ডলার নিয়ে আসতে পারেন। এখানে এক ডলার বিক্রি হচ্ছে ৮০.৫০ রুপিতে। যারা বাংলাদেশ থেকে বেড়াতে আসেন তাদের অনেকেই অবৈধভাবে বাংলাদেশী টাকা নিয়ে আসেন। এই টাকাগুলো স্থানীয় বাজারে এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায় ৭০ রুপি। ব্যাঙ্কের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগ-সাজস করে এই ব্যবসা চলছে বলেও জানান অনেকে। ‌

আরো পড়ুন : বড় খবর: অর্পিতার দোকান সিল, কয়েকঘন্টা ধরে তৃণমূল কাউন্সিলরকে জেরা করল ইডি

নিউমার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, রফি আহমেদ স্ট্রিট সহ একাধিক এলাকায় রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র। লকডাউনের সময়ে বাংলাদেশ থেকে আসা পর্যটকদের সংখ্যা শুন্যে পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে ভীষণভাবে ধাক্কা খেয়েছিল অর্থনীতি। এখন আবার সমস্যায় বাংলাদেশ নির্ভর পর্যটন এলাকা বিশেষ করে নিউমার্কেট অঞ্চল।

আবার, কিছু মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের দাবি, বাংলাদেশে ডলারের দাম বাড়ানো হয়েছে সিন্ডিকেট করে। তবে, সিন্ডিকেটের বিষয়টি মেনে নিতে নারাজ এক বাংলাদেশী পর্যটক। তিনি বলছেন বাংলাদেশে হয়নি, এখানেই সিন্ডিকেট করে এই সমস্যা তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আসা এক মহিলা পর্যটক বলছেন, “আমরা আগে ১০০ টাকায় যা পেতাম এখন পাচ্ছি খুব কম। আমাদের দেশে আমাদের কোন মূল্য নেই, কলকাতায় এসেও হেনস্থা।” বাংলাদেশের এক পর্যটক বলছেন, চিকিৎসার কারণে তিনি ভারতে এসেছিলেন। এই অবস্থায় তিনি প্রতিজ্ঞা করছেন, আর কখনো চিকিৎসার কাজে তিনি এদেশে আসবেন না।

এ প্রসঙ্গে শ্যামলী পরিবহনের একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশী টাকার দাম আচমকা পড়ে যাওয়া একটা বড় ধাক্কা। পদ্মা সেতু হবার পরে যেভাবে পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছিল, যেভাবে যাত্রী আসছিল, তাতে করোনার কারণে যে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল নিউমার্কেট অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা, তাতে বাংলাদেশী পর্যটক বাড়ায় অর্থনীতি ঘুরে দাড়াচ্ছিল। ‌ তবে বাংলাদেশি টাকার মূল্য আচমকা পড়ে যাওয়ায় গত দু সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশি পর্যটকদের আসা-যাওয়া প্রায় থমকে গিয়েছে। ‌ যার ফলে শ্যামলী ট্রাভেলসের যাত্রী সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ৭৫ শতাংশ ব্যবসা ঘাটতি। ৪০ সিটের একটি শ্যামলী বাস মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী নিয়ে ছাড়ছে। ‌ আর্থিক ক্ষতির মুখে সংস্থা। আবার যেন করোনা পরিস্থিতি চলে এসেছে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories