Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ED-CBI এর হাত থেকে কাড়া হল বড় অস্ত্র! বারিক বিশ্বাসের লোকদেখানো গ্রেফতারিতের কাকে বাঁচানোর চেষ্টা?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা।।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে টাকার পাহাড় উদ্ধারকে ঘিরে তোলপাড় হয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি। অস্বস্তি বেড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। বারবার বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে দলনেত্রীকে। দলের মধ্যেই দ্বিমত দেখা দিয়েছে। তাই দলকে বাঁচানোর তাগিদে পার্থর গ্রেফতারের প্রায় ছ’দিন পরে তাকে মন্ত্রিত্ব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে সমস্ত দলীয় পদ থেকে। কিন্তু শুধুমাত্র পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে দিলেই কি এই কেলেঙ্কারি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম মুছে যাবে? কারণ অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে কোটি কোটি টাকা এবং সোনা উদ্ধার হওয়ার পর আবারও একটি পুরনো নাম চর্চায় উঠে এসেছে।

আব্দুল বারিক বিশ্বাস। তাকে গত বৃহস্পতিবার সিআইডির সিট গ্রেফতার করে কলকাতা থেকে। আপাতত আদালতের তরফ থেকে তাকে ১০ দিন সিআইডি হেফাজতে থাকারই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কে এই আব্দুল বারিক বিশ্বাস ? কেনই বা তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে এত চর্চা? বারিক বিশ্বাসের পরিচিতি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কুখ্যাত পাচারকারী হিসেবে। তাঁর বিরুদ্ধে কয়লা পাচার সোনাপাচার সহ একাধিক বেআইনি কারবারের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে জোরজবরদস্তি তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে এই বারিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এর আগেও বহুবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছে বারিক বিশ্বাস। কিন্তু এবার তাকে গ্রেফতার করল রাজ্যের তদন্তকারী গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি।

আরো পড়ুন : বড় খবর: অভিষেকের দপ্তরের সামনে থেকে টেনে-হিঁচড়ে টেট উত্তীর্ণদের সরিয়ে দিল পুলিশ

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে এখানেই। যার নাম জড়িয়ে রয়েছে এত রকমের পাচার কারবারের সঙ্গে ,যার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের স্থলবন্দর থেকে হাজার হাজার টাকা তোলাবাজি করার তাকে কেন গ্রেফতার করল না ইডি? নাকি বারিক বিশ্বাস পর্যন্ত ইডি এর পৌঁছানোর আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হল? সিআইডির গঠন করা সিট এর হাতে গ্রেফতার বারিক বিশ্বাস। আর এখানেই খটকা । লোক দেখানো সিআইডির গ্রেফতারের পেছনে কাকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে? এমনিতেই বিগত কয়েক দিন ধরে পার্থ কেলেঙ্কারিতে বার বার তৃণমূল কংগ্রেসের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। বারিক বিশ্বাস ইডি-সিবিআই এর হাতে ধরা পড়লে কি বেরিয়ে আসতো আরো এমন অনেক নাম যা নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলত তৃণমূল কংগ্রেসকে?

কারণ এই বারিক বিশ্বাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বেশ কিছু প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের। এমনটাই বলছে সূত্র। বাম আমল থেকে শুরু করে মাঝে কংগ্রেস এবং তারপর তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তার বেশ সখ্যতার খবর প্রকাশ্যে এসেছে। এই বারিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সাতক্ষীরা ভোমরা স্থলবন্দরে তোলাবাজির ব্যবসা চালাতো । কারণ ওই বন্দরগামী ভারতীয় ট্রাক সিরিয়ালের দায়িত্ব পালন করত এই বারিক বিশ্বাসের লোকেরাই। তাঁরা ভোমরার ওপারে ভারতের ঘোজাডাঙ্গায় কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করে পণ্যবাহী ট্রাকগুলিকে আটকে রাখতো দিনের পর দিন। কিন্তু যে ট্রাকের জন্য দেওয়া হতো হাজার হাজার টাকা সেগুলি সরাসরি ভোমরায় আসার সুযোগ পেত। সর্বোচ্চ ট্রাক পিছু ৬০,০০০ টাকাও নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। যার কারনে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন। ট্রাক পিছু চাঁদা আদায়ের পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে তাদের আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ার জন্য বন্দর ছেড়ে অন্য বন্দরে ব্যবসার তাগিদে যেতে হয়েছে তাদের।

এই কুখ্যাত পাচারকারী বারিক বিশ্বাসের দাপট থেকে বাঁচতে ভোমরা স্থলবন্দরের আটটি সংগঠনের যৌথ সিদ্ধান্তে চলতি বছরের ২৫ শে জানুয়ারি থেকে তিন দিনব্যাপী কর্মবিরতি পালন করা হয়েছিল। আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন তাঁরা তবে যদিও পরবর্তীতে সেই আন্দোলন কর্মসূচিকে স্থগিত করা হয়। এরপর মাঝে কিছুদিন চাঁদাবাজির জোর জুলুম কমলেও পরবর্তীতে কয়েক গুণ বেশি উৎসাহ নিয়ে তোলাবাজি শুরু হয় ভোমরা স্থলবন্দরে। এইখানেই বেশ কয়েকটি প্রশ্ন বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তোলাবাজির এত টাকা তাহলে যেত কোথায়? এই তোলাবাজি সম্পর্কে তাহলে বসিরহাটের বড়সড় মাথারা জ্ঞাত ছিলেন ? টাকার ভাগ কি পৌঁছে যেত তাদের কাছেও? বারিক বিশ্বাস কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে পড়লে কি নাম বেরিয়ে আসতো আরো কোনো তৃণমূল নেতার? যার জন্য রাজ্য পুলিশ দিয়েই গ্রেফতার করানো হল বারিককে!

সূত্রের খবর অনুযায়ী, অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে যে কয়েক কোটি টাকা এবং কয়েক কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে যেমন একদিকে হাওয়ালা চক্রের যোগ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে তেমন অন্যদিকে এই বিপুল সোনা উদ্ধারের সঙ্গে আব্দুল বারিকের কোন যোগসূত্র রয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বসিরহাটের বাসিন্দা এই কুখ্যাত পাচার কারবারি আব্দুল বারিককে তৃণমূল প্রার্থীদের হয়ে নির্বাচনী প্রচারেও দেখা গিয়েছে। গরু পাচার মামলায় এনামুল হক গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তলব করা হয়েছিল বারিককে। আর এবার তা্র বিরুদ্ধে জামুড়িয়া থানার দায়ের হওয়া এফ আই আর এর ভিত্তিতে কয়লা পাচার কাণ্ডে তড়িঘড়ি গ্রেফতার করা হল তাকে। এটি আদৌ গ্রেফতারি নাকি এই লোক দেখানো গ্রেফতারির নেপথ্যে থেকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে অন্য কোন বড় ইস্যুকে? আপাতত বড় একটা প্রশ্নচিহ্নের মধ্যেই রয়ে গিয়েছে এই আব্দুল বারিক বিশ্বাসের সিআইডির হাতে গ্রেফতারি।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories