Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

টেস্টে কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তিত? মানুন সামান্য নিয়ম, জানালেন চিকিৎসক কুণাল সরকার

।। প্রথম কলকাতা ।।

বর্তমানে বহু মানুষের রীতিমত মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কোলেস্টেরল। শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ অত্যাধিক পরিমাণে বেড়ে গেলে নানান রোগ এসে বাসা বাঁধে। বেড়ে যায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। অনেকেই সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে মাঝে মাঝে কোলেস্টেরলের পরীক্ষা করান। টেস্টে কোলেস্টেরলের মাত্রা একটু বেশি, সেক্ষেত্রে কী করবেন ? এই বিষয়ে বিস্তারিত জানালেন ডক্টর কুণাল সরকার । তাঁর ফেসবুক পেজে গেলেই এই সম্পর্কিত একটি ভিডিও দেখতে পাবেন। রিপোর্টে কিংবা টেস্টে কোলেস্টেরল এলে একেবারেই দুশ্চিন্তা না করে মেনে চলতে হবে সামান্য কয়েকটি নিয়ম । এক্ষেত্রে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।

কোলেস্টেরল শরীরের খলনায়ক নয়

তিনি জানান , বাইরে থেকে কিংবা কারোর ভাব ভাব দেখে বোঝা যায় না তিনি ঠিক কতটা অসুস্থ। কারোর হিমোগ্লোবিন কমেছে কিংবা আবার কারোর সুগার বেড়েছে কিনা তা বাইরে থেকে দেখে জানা যায় না। তেমনি কোলেস্টেরল শরীরে ঠিক কত মাত্রায় রয়েছে তার জন্য টেস্ট করা হয়। আজকালকার দিনে অনেকেই কোলেস্টেরলের বিষয়টি চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করেন। তিনি কোলেস্টেরলের বিষয়ে জানিয়েছেন এটি ” আমাদের শরীরের মধ্যে কোন ভিলেন নয়, কোন খলনায়ক নয়। সিনেমার খলনায়কের মত এটা শরীরের মধ্যে কোন সমস্যা তৈরি করে না। প্রায় ৪০০ বছর আগে মানব শরীরের কোষের ধারণা পাওয়া গিয়েছিল । এই ছোট্ট ছোট্ট সেলের মধ্যেই রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যার বেসিকটা তৈরি হয় কোলেস্টেরল থেকে।

শরীরের জন্য দরকার কোলেস্টেরলের

হঠাৎ কেউ যদি ভাবেন দু চামচ ওষুধ খেয়ে কিংবা কোন যন্ত্রের মধ্যে ঢুকে শরীরের সমস্ত কোলেস্টেরলকে
বার করে দেবে তাহলে তিনি ভয়ঙ্কর অসুবিধার মুখে পড়বেন। আর এই ধরনের চিন্তাও করা উচিত নয়, কারণ ” কোলেস্টেরল আমাদের শরীর পক্ষে খানিকটা দরকার ” । তবে যে কোন জিনিস বাড়াবাড়ি করলে ঝামেলা সৃষ্টি হতে পারে , যেমন স্নানও বেশি করলে ঝামেলা, বেশি জলপান করে সমস্যা তেমনি শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়লে সমস্যা তৈরি হবে। তাই সর্বদা লিপিড প্রোফাইল চেক করতে হবে।

মানব শরীরে অধিকাংশ কোলেস্টেরল শরীরের ভিতরই তৈরি হয়, আর কিছুটা নির্ভর করে বেহিসেবি খাওয়ার উপর। পাশাপাশি জানতে হবে রান্নায় ঠিক কতটা পরিমাণ তেল ব্যবহার করা যাবে। যদি টেস্টে কোলেস্টেরল সামান্য পরিমাণে বেশি থাকে তাহলে ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিতে পারেন। সুস্থ থাকতে তেলের পরিমাণ একটু কমিয়ে দিন।

গুজবে কান না দিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিন

বর্তমানে বাজারে শাড়ির দোকানের মতো বিভিন্ন ধরনের তেল পাওয়া যায়। পাশাপাশি থাকে নানান বিজ্ঞাপন। এক্ষেত্রে গুজবে কান না দিয়ে এবং কোন বিজ্ঞাপনে ভরসা না করে সতর্ক থাকতে হবে। প্রথমে জানতে হবে আপনার লিপিড প্রোফাইলে কোনটা বেড়েছে। সেই রিপোর্ট নিয়ে দেখাতে হবে চিকিৎসককে। তিনি জানিয়ে দেবেন আপনাকে আদৌ ওষুধ ব্যবহার খেতে হবে কিনা। যদি ওষুধ খেতে হয় তাহলে এক্ষেত্রে সাত থেকে আট দিন ওষুধ খেলে চলবে না, পুরো প্রসেস হতে বেশ সময় লাগে । কখনো বা দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে । এই সময়ের পর পুনরায় আবার চিকিৎসককে গিয়ে দেখান।

সাবধানে থাকবেন কারা ?

যাদের বয়স ইতিমধ্যেই চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হয়ে গিয়েছে এবং প্রচুর কোলেস্টেরল বেড়ে গিয়েছে তাদের ক্ষেত্রে একটু চিন্তার বিষয় । বিশেষ করে যদি ধূমপান করেন কিংবা তামাক জাতীয় কিছু সেবন করেন সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকরাই ডাইটটিশিয়ানদের সাথে পরামর্শ করে নেবেন। বর্তমান দিনে ডায়েটিশিয়ানদের পরামর্শ নেওয়ার জন্য খুব একটা কষ্ট করতে হয় না । অনলাইনেই এই পরামর্শ আপনি পেতে পারেন। শরীরে কোলেস্টেরল ধরা পড়লেই ওষুধের দোকানে গিয়ে মুঠো মুঠো ট্যাবলেট খাওয়া ঠিক হবে না। আতঙ্কিত না হয়ে নজর দিতে হবে ডায়েট, ওজন এবং ধূমপানের ।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories