Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

গুরু পূর্ণিমায় ভাগ্য চমকাতে চলেছে এই ৩ রাশির! জেনে নিন এই বিশেষ দিনের খুঁটিনাটি তথ্য

1 min read

।। প্রথম কলকাতা।।

গুরু পূর্ণিমার দিনটি বৌদ্ধ এবং হিন্দু ধর্মালম্বী মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।কারণ এই একটি পূর্ণিমাকে নিজের গুরুর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার রীতিনীতি বহু আগে থেকেই প্রচলিত রয়েছে। গুরু পূর্ণিমা নিয়ে বহু পৌরাণিক ব্যাখা রয়েছে তবে সেই সকল ব্যাখ্যার সারমর্ম হল গুরুই আমাদের জীবনের জ্ঞানের উৎস, আলোর উৎস । কাজেই সেই শ্রদ্ধেয় গুরুকে এই দিনটির মাধ্যমে জানানো হয় শ্রদ্ধা। আর সেই ভক্তি শ্রদ্ধা কিংবা সম্মান জানানোর জন্য গুরু পূর্ণিমার এই দিনটিতে নিজের গুরুকে পূজা করবার প্রথা প্রচলিত রয়েছে।

গুরু পূর্ণিমার তিথি

চলতি বছরে অর্থাৎ ২০২২ সালে গুরু পূর্ণিমার এই শুভ দিনটি পালিত হবে আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে। তারিখ হিসেবে বললেন ১৩ ই জুলাই, বুধবার ।এই বছর পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে ১৩ তারিখ ভোর ৪টে থেকে এবং শেষ হবে ১৪ জুলাই রাত ১২ টা ৬ মিনিটে ।১৩ তারিখ থেকে ১৪ তারিখের মধ্যবর্তী এই সময়সীমা অত্যন্ত শুভক্ষণ ।

গুরু পূর্ণিমায় গঠিত চার শুভ যোগ

সাধারণত প্রত্যেক বছর আষাঢ় মাসের পূর্ণিমাকে গুরু পূর্ণিমা বলা হয়ে থাকে। আর শাস্ত্রমতে এই দিনটিকে নিজের গুরু বা শিক্ষকদের জন্য নিবেদন করা হয়, যাদের কাছ থেকে জীবনের প্রতি পদে আমরা কিছু শিক্ষা গ্রহণ করে থাকি । তবে চলতি বছরের গুরু পূর্ণিমা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কারণ ওই দিন চারটি শুভ যোগ গঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জ্যোতিষবিদরা। গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বিচার করে তাঁরা জানিয়েছেন যে ত্রিগ্রহী যোগ তৈরি হতে চলেছে ওই শুভক্ষণে।

অর্থাৎ প্রধান তিনটি গ্রহ যখন একটি রাশিতে অবস্থান করে তখন সেটিকে ত্রিগ্রহী যোগ বলা হয়ে থাকে ।আর চলতি বছরের গুরু পূর্ণিমায় মিথুন রাশিতে সেই ত্রিগ্রহী যোগ তৈরি হবে বলে জানা গিয়েছে। সেই দিন সূর্য, শুক্র এবং বুধ একসঙ্গে অবস্থান করবে মিথুন রাশিতে। আর এই ত্রিগ্রহী যোগের কারণে যে তিনটি রাশির জাতকরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন তা হল মিথুন রাশি, বৃশ্চিক রাশি, ধনু রাশি । অর্থ লাভ থেকে শুরু করে ক্যারিয়ারের উন্নতি সহ একাধিক ক্ষেত্রে এই তিন রাশির জাতকরা ওই শুভ যোগের আশীর্বাদ পেতে চলেছেন।

গুরু পূর্ণিমার তাৎপর্য

নিজের গুরু কিংবা শিক্ষককে শ্রদ্ধা বা সম্মান জানানোর জন্য কোন বিশেষ দিনের প্রয়োজন হয় না ঠিক কথা। কিন্তু হিন্দু ও বৌদ্ধ শাস্ত্রে একটি বিশেষ দিনকে এর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে । আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে মুণি পরাশর ও মাতা সত্যবতীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন মহর্ষি বেদব্যাস । তাই এই দিনটিকে শিক্ষক কিংবা গুরুকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বেছে নেওয়া হয়। গুরু শব্দটির মধ্যেই রয়েছে এর অর্থ। সংস্কৃত শব্দ ‘গু’ এবং ‘রু’ এই দুটির মিলনে গঠিত গুরু। সংস্কৃতে ‘গু’ শব্দের অর্থ অন্ধকার ও অজ্ঞতা ।

আর ‘রু’ শব্দের অর্থ আলো কিংবা অন্ধকার দূরীভূত করা। তাই এই শব্দটির দ্বারা এমন কোন মানুষকেই বোঝানো হয় যে আমাদের জীবনের সমস্ত অন্ধকার এবং অজ্ঞতাকে দূরে সরিয়ে আলোর পথে নিয়ে যায়। জীবনে চলার প্রতিটা মুহূর্তে প্রত্যেকেরই কোন না কোন গুরুর প্রয়োজন হয়। সে মা-বাবা রূপেই হোক আর শিক্ষক রূপেই হোক। আর সেই গুরুদের দেখানো পথ অনুসরণ করলে জীবনে অবশ্যই সুখ, শান্তি এবং আনন্দের আস্তানা খুঁজে পাওয়া যায়। সেই কারণেই যুগ যুগ ধরে আমাদের জীবনকে আলোকিত করা সেই গুরুদেরকে শ্রদ্ধা জানাতেই পালিত হয়ে আসছে গুরু পূর্ণিমা।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories