Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

কে সি নাগের অঙ্কের নাম শুনলেই হাড়ে জ্বর ! কেমন ছিলেন তিনি ? জন্মদিনে পড়ুন অজানা কথা

।। প্রথম কলকাতা ।।

স্কুলে পড়াশোনার সময় অনেকেই রীতিমত ভয় পেতেন কে সি নাগ অর্থাৎ কেশব চন্দ্র নাগের নাম শুনলে। তাঁর অঙ্ক দেখে অনেকেই ভিরমি খেতেন। আবার গণিত প্রিয় ছাত্ররা ভালোবেসে ফেলেছিলেন কেশব চন্দ্র নাগের অঙ্ক বইকে। চৌবাচ্চার জল এক একদিক দিয়ে ঢুকছে , আর এক দিক দিয়ে বেরোচ্ছে। ট্রেনের গতিবেগ কিংবা দূরত্ব এসব দেখলেই অনেক ছাত্রের মাথা খারাপ হয়ে যেত। তথাকথিত সেই কঠিন অঙ্ক যাঁর মাথা থেকে বেরিয়ে ছিল মানুষটি কেমন ছিলেন ? তিনি কি আদৌ অঙ্কের মতোই শক্ত , নাকি ছিলেন একেবারেই নরম মনের মানুষ ? ১৮৯৩ সালের ১০ জুলাই হুগলির নাগপাড়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। অনেকেই তাঁকে পাটিগণিতের গব্বর সিং মনে করলেও তিনি ছিলেন একেবারেই অন্য ধাঁচের।

ছাত্ররা অঙ্ক ভুল করলে একেবারেই রেগে যেতেন না । বকাবকি না করে ডাস্টার দিয়ে মুছে সেই অঙ্ক নতুন করে করতে বললেন। সব সময় চেষ্টা করেছেন অঙ্কের সহজ পদ্ধতি বার করতে। তাঁর ছোটবেলার জীবন একেবারেই সুখকর ছিল না । শৈশবেই হারান বাবাকে । মাকে নিয়ে শুরু হয় জীবনের লড়াই। সেই ভোর রাত থেকে হেঁটে স্কুলে পৌঁছাতেন। তারপর স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যেত। সংসার চালাতে স্কুল মাস্টারের পাশাপাশি প্রাইভেট টিউশন পড়িয়েছেন । মহারাজা মনীন্দ্রচন্দ্র নন্দীর ছেলেদের টিউটর হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। সুযোগ পেয়েছিলেন রাজবাড়ীর বিশাল একটি লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করার। সবকিছুর মধ্যেই সময় বার করে নিজের উচ্চ শিক্ষার জন্য পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন।

একদিন বালক কেশব চন্দ্র নাগ বসে আছেন গঙ্গার পাড়ে । আর সেই সময় এক গোঁফ ওয়ালা ভদ্রলোক ইলিশ মাছ কেনার জন্য দরদাম জিজ্ঞাসা করছেন মাছওয়ালাকে । পাশ থেকে বালক কেশব নিমেষে বলে দিয়েছিলেন দেড়শ টাকা মণের আড়াইসেরি ইলিশের দাম । তাঁর বুদ্ধি এবং মেধা দেখে অবাক হয়ে সেই ভদ্রলোক স্কুলের হেড স্যারকে বলে কেশব চন্দ্র নাগের পড়াশোনার সমস্ত খরচ আর বই খাতা ফ্রি করে দেন । সেই ভদ্রলোক ছিলেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।

কেশব চন্দ্র নাগ ছিলেন ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনের অঙ্কের মাস্টারমশাই । পরবর্তীকালে হেডমাস্টারও ছিলেন। জানা যায় তিনি অত্যন্ত সহজ করে ছাত্রদের অঙ্ক বুঝিয়ে দিতেন । মুখে বলে বলে অঙ্ক কষতেন। তারপর সেই অঙ্ক ছাত্রদের বোর্ডে করতে বলতেন। কেউ যদি অঙ্ক ভুল করত সেই ভুল হওয়া অংশ মুছে দিয়ে আবার ঠিক অঙ্কটা বুঝিয়ে দিতেন। তাঁর কাছে যারা অঙ্ক শিখেছেন তাদের কাছে এই বিষয়টি ছিল একেবারে জলভাত। অঙ্ক হয়ে উঠেছিল ভালোবাসার বিষয়।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories