Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

Nadia: রাত পোহালেই শুভ রথযাত্রা, শতবর্ষের পথে জগন্নাথ বাড়ির প্রাচীনতম রথ

1 min read

।। প্রথম কলকাতা।।

নবদ্বীপ নগরীতে সারা বছরই কোনো না কোনো উৎসব অনুষ্ঠান চলতে থাকে। কারণ এটি ভগবান শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান। সারা ভারতবর্ষ তথা বিদেশ থেকেও বহু ভক্তের সমাগম হয় প্রত্যেক বছর। এছাড়াও বিভিন্ন মঠ মন্দিরে পুজো-অর্চনা করা হয়ে থাকে। বর্তমানে এই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আগামীকালের রথযাত্রা নিয়ে সাজো সাজো রব। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পুরীধাম, মাহেশের রথ, হুগলির গুপ্তিপাড়ার রথ এছাড়াও আরও বিভিন্ন জায়গার রথযাত্রা । নবদ্বীপ শহরের বুকেও রথযাত্রা উপলক্ষে বেশ কয়েকটি রথ বের করা হয়। তার মধ্যে অন্যতম হল বালক সাধু প্রতিষ্ঠত জগন্নাথ বাড়ির রথ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, এই রথ নবদ্বীপের সর্বপ্রথম এবং পুরাতন রথ। সিদ্ধ পুরুষ বালক সাধু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং তারপর এই রথ উৎসবের সূচনা করেছিলেন। প্রত্যেক বছর গোটা শহরের মানুষ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে বহু মানুষ এই রথ দেখতে ভিড় জমান এখানে। তবে দু বছর করোনা পরিস্থিতির জন্য তেমনভাবে রথ উৎসব পালন করা হয়নি। কিন্তু এইবার মায়াপুরের জগন্নাথ বাড়ির রথ নিয়ে বেশ উত্তেজনা কাজ করছে শহরবাসীর মধ্যে । জানা গিয়েছে শত বর্ষের পথে পাড়ি দিচ্ছে এই জগন্নাথ বাড়ির রথ । তার আসল বয়স কত তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও এই মন্দিরের সেবায়েত জানান, আনুমানিক আশির দোরগোড়ায় হবে এই রথের বয়স।

বর্তমানে বালক সাধুর প্রতিষ্ঠিত ওই মন্দিরের অন্যতম একজন সদস্য হলেন বজ্রগোপাল সাহা। তাঁর কথায়, তিনি ৯০ বছর বয়সের এক প্রবীণ ব্যক্তির কাছ থেকে শুনে এসেছেন যে তাঁর ছোটবেলা থেকেই এই রথযাত্রা হয়ে আসছে এখানে । কাজেই সঠিক বয়স নির্ণয় করা খুবই মুশকিল । জানা যায় এই মন্দির এবং রথযাত্রার যিনি সূচনা করেছিলেন তিনি হলেন শ্রী যাদব চন্দ্র রায়। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি সিদ্ধিলাভ করেন। যার কারণে তাঁর নাম হয় বালক সাধু । পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ থেকে এসে উপস্থিত হন নবদ্বীপে। আর তারপরে এখানে এই মন্দিরটি গড়ে তোলেন। তাঁর অনুপ্রেরণাতেই হয় এই রথযাত্রা।

মায়াপুরের এই প্রাচীন রথটি আগামীকাল জগন্নাথ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পীরতলা রামকৃষ্ণ মঠ পর্যন্ত যাবে এবং তারপর পুনরায় ফিরে আসবে জগন্নাথ বাড়িতে। উল্টো রথ পর্যন্ত সেখানে বিভিন্ন ধার্মিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে জানা গিয়েছে। গত দু বছরে এই রথের অনুষ্ঠান জাকজমকপূর্ণভাবে না করা গেলেও এই বছর তা চেষ্টা করা হচ্ছে। কাজেই ভক্ত সমাগম কিছুটা বেশি হবে বলেই অনুমান মন্দির কর্তৃপক্ষের।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories